The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

এমআইটির গবেষকদল তৈরি করছে আধুনিক উড়ন্ত গাড়ি!

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ ভবিষ্যতের উড়ন্ত গাড়ির জন্য হয়তো আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। আমরা খুব শীঘ্রই উড়ন্ত গাড়ির যুগে প্রবেশ করতে চলেছি। সাইন্স ফিকশন মুভি নয় বাস্তবে আকাশে এবং রাস্তায় একযোগে চলবে গাড়ি।


FlyingCar_zps3da85090

উড়ন্ত গাড়ির তৈরির এই স্বপ্নযাত্রা নতুন কিছু নয়। ১৯১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাটেন্ট অফিসে প্রথম একটি উড়ন্ত যানের প্যাটেন্ট করেন ফেলিক্স লংবার্ডি নামের এক ব্যক্তি। যা আবার একই সাথে পানির তলদেশেও চলতে পারে। কিন্তু মজার বিষয়টি হলো এখন পর্যন্ত প্রায়োগিকভাবে কোন উড়ন্ত যানের নমুনা পাওয়া যায় নি। সে যাই হোক, এমআইটি একদল গবেষক আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের শুভ সূচনা দেখাচ্ছেন। এমআইটি এই গবেষক দল টেরাফুগিয়া নামের একটি কোম্পানীর সাথে যৌথভাবে কাজ করছে। এই কোম্পানীটি বিগত কয়েক বছর যাবত উড়ন্ত গাড়ি তৈরির চেষ্টা করছে।

এমআইটির সাথে যৌথভাবে তৈরি করা এই উড়ন্ত গাড়ির প্রক্রিয়াটি হলো ট্রাঞ্জিশন কার প্লেন। টেরাফুগিয়া কোম্পানীটি পূর্বে যে উড়ন্ত গাড়িটি তৈরি করেছিল তার জন্য একটি ১৭০০ ফুট লম্বা রানওয়ের দরকার ছিল। কিন্তু নতুন প্রক্রিয়ায় তারা এমআইটির সাথে যৌথভাবে এর রানওয়েটি বাদ দিয়ে যেকোনো স্থান থেকে আকাশে উড়তে সক্ষম এমন গাড়ি চিন্তা করছে। টিএফ-এক্স হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে নতুন গাড়িটিকে। এটি অনুভূমিকভাবে আকাশে উড়তে এবং নামতে সক্ষম। এর নকশার ক্ষেত্রে আকাশে উড়ার ম্যাকানিজমটি গ্রহণ করা হয়েছে মিলিটারি বিমান ভি-২২ অস্প্রে থেকে।

tfx v03 oceanroad-WM

টিএফএক্স এর নকশায় একটি গাড়িতে চারজন যাত্রী বসতে পারবে। একবারের যাত্রায় এটি ৫০০ মাইল পর্যন্ত যেতে সক্ষম। প্রতিঘন্টায় ২০০ মাইল বেগ তুলতে সক্ষম হবে এই টিএফএক্স। এর আলাদা বৈশিষ্ট্যের কারণে একে নিরাপদে চালানো এবং নিরাপদে নামিয়ে আনার জন্য এর ড্রাইভারদের পাঁচঘণ্টার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তবে সৌভাগ্যের কথা এই যে, ভবিষ্যতে এটি চালানোর জন্য আরো উন্নত ফিচার যুক্ত করা হবে। তার মধ্যে রয়েছে এয়ারবোর্ন কমিউটর। যার ফলে টিএফএক্স বাতাসের বাঁধা, খারাপ আবহাওয়া এড়িয়ে চলতে পারবে। এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে ড্রাইভারের অনুপস্থিতিতে ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং এর ব্যবস্থা থাকবে। টিএফএক্স এর বরাত দিয়ে জানা যায় যে, যদি দেখা যায় যে টিএফএক্স নিরাপদ ল্যান্ডিং এর জন্য উপযুক্ত নয় তবে এতে রাখা প্যারাসুট স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যাবে। টিএফএক্স একই সাথে ম্যানুয়ালী কিংবা অটোমেটিক পদ্ধতিতে চালানো যাবে। যেমনটা গাড়ির ক্ষেত্রে চালকরা পেয়ে থাকেন। টিএফএক্স অনুভূমিকভাবে আকাশে উড্ডয়ন করে ১০০ ফুট উপর থেকে যাত্রা করতে পারবে। এছাড়াও টিএফএক্স প্রয়োজনের ভিত্তিতে হাইওয়ে রোডে চালানো সক্ষম।

টিএফএক্স এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএফএক্সকে নিয়ে যে ধরনের স্বপ্ন দেখেন কিংবা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইলেক্ট্রিক পাওয়ার সমৃদ্ধ উড়ন্ত আকাশযান। যার মধ্যে থাকবে রিচার্জেবল ব্যাটারী। এছাড়া আরো কিছু বড় ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে টিএফএক্স নিয়ে যেমন অটোমেটিক ড্রাইভিং যেখানে কোন চালক থাকবে না। এটি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবস্থায় যাত্রা শুরু করে গন্তব্যে পৌছে যাবে। টিএফএক্স পুরোপুরিভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাজারে নামতে সময় লাগবে আনুমানিক ৮ থেকে ১২ বছর। কিন্তু যখন একে বাজারে কিনতে পাওয়া যাবে তখন এর দাম হবে আকাশচুম্বী। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর দাম হবে আনুমানিক ২,৮০০০০ মার্কিন ডলার।

তথ্যসূত্রঃ ডিসকভার

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...