ধর্ষিতা তরুণীর মৃত্যুর খবরে শোকাচ্ছন্ন ভারত ॥ বিক্ষুব্ধ জনতা

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ ১৩ দিন ধরে রাজধানী দিল্লিসহ গোটা ভারত বিক্ষোভে উত্তাল ছিল। চলন্ত বাসে ধর্ষিতা তরুণীর মৃত্যুর খবর প্রচার হওয়া মাত্র গোটা পরিবেশ পাল্টে যায়। রাজপথে মিছিল নিয়ে বের হয় লক্ষ জনতা। দেশের নানা প্রান্তে মোমবাতি জ্বালিয়ে জানানো হয় শোক। শোকাচ্ছন্ন গোটা ভারত।
jonota
এদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কায় রাজধানী দিলিস্নর বেশির ভাগ রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে হাজার হাজার মানুষ দিলিস্নর যন্তরমন্তরে মিলিত হয়েছেন শোক জানাতে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যে মেয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে সঙ্কট মুহূর্তেও বয়ান দিয়েছে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানলো সে। তেরো দিনের লড়াই শেষে শুক্রবার ভারতীয় সময় রাত দু’টো পনেরোয় মৃত্যু হয় তার। সিঙ্গাপুরেই তার ময়নাতদন্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দিলিস্ন পুলিশ। এদিন রাতেই বিশেষ বিমানে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে দিলিস্নতে। রাজধানীর রাজপথে চলন্ত বাসে নৃশংস ধর্ষণের শিকার হওয়া তরুণীর মৃত্যুতে গভীর সমাবেদনা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি শোকবার্তায় জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সাহসী মেয়েটি জীবনের জন্য লড়াই করে গেছে। অসীম সাহসিকতার জন্য দিল্লির সাহসের মুখকে স্যালুট জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ভারতের এই সাহসী মেয়েটির কথা গোটা দেশ মনে রাখবে। সেই সঙ্গে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, এই মৃত্যু যেন বৃথা না যায়। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোখার জন্য সব ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, আমরা যদি আবেগ ও প্রতিবাদকে একটা গঠনমূলক দিক দিতে পারি, তবেই ওই তরুণীর প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন হবে। হাজার হাজার মানুষ দিল্লির যন্তরমন্তরে মোমবাতি জ্বালিয়ে শোক প্রকাশ করেন। এ সময় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতকে দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে দেয়নি। এর পরই অবশ্য তিনি সকলকে শান্ত ও সংযত থাকার আবেদন জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ই ডিসেম্বর দিল্লিতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ২৩ বছরের ওই মেডিক্যাল ছাত্রী। রাতে একটি বেসরকারি বাসে তিনি ও তার এক বন্ধু যাত্রী ছিলেন। চলন্ত বাসে অন্য ছয় যাত্রীর সঙ্গে তাদের বচসা বাধে। তরুণী ও তার বন্ধুকে বেধড়ক মারধর করে ওই ছয় অপরাধী। তরুণীকে ধর্ষণ করে তাকে ও তার বন্ধুকে ফেলে দেয়া হয় রাস্তায়। প্রথমে দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে মেয়েটির চিকিৎসা হলেও ২৬ ডিসেম্বর ধর্ষিতা মেয়েটিকে ভাল চিকিৎসার জন্য দিল্লি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সিঙ্গাপুরে। চিকিৎসা চলছিল সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে। ২৮ ডিসেম্বর থেকে ক্রমশ শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে তরুণীর। বিকল হতে থাকে বিভিন্ন অঙ্গ। সর্বোচ্চ ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল তাকে। শেষ পর্যন্ত শরীরের বেশ কয়েকটি অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ায় থেমে যায় তরুণীর মরিয়া লড়াই। শেষ সময়ে ওই তরুণীর পাশে ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনের আধিকারিকরাও। মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের পক্ষ থেকে তার মানসিক জোরকে কুর্নিশ জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তরুণী অত্যন্ত সাহসী। শেষ পর্যন্ত সব রকম প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু তার শরীরের ক্ষত এতটাই গভীর ছিল যে শেষ রক্ষা হলো না।

হাসপাতালের সিইও কেভিন লো বলেন, আটজন চিকিৎসকের বিশেষ টিম ক্রমাগত তরুণীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও গত দু’দিন ধরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শরীর ও মস্তিষ্কে গভীর ক্ষত থাকা কারণে ও একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে পড়ায় মৃত্যু হয় তার। সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার আগেই দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালেই একবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন তরুণী। তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয় তার। ২৯ ডিসেম্বর সকালে ধর্ষিতার মৃত্যুর খবর ভারতে পৌঁছতেই নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় রাজধানী দিল্লি। দিল্লি পুলিশের তরফে রাজন ভগৎ জানান, দিল্লি জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। যদিও যন্তরমন্তর ও রামলীলা ময়দানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ছাড়পত্র দিয়েছে পুলিশ। ২৯ ডিসেম্বর রাজপথ, বিজয়চকসহ ইন্ডিয়াগেট সংযোগকারী সব রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্ধ ছিল দিলিস্নর দশটি মেট্রো স্টেশনও। এদিকে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে গণধর্ষণকাণ্ডে ধৃত ছয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এবার খুনের মামলাও দায়ের করতে চলেছে দিল্লি পুলিশ। এদিন ভোররাতে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে ২৩ বছরের নির্যাতিতা তরুণীর মৃত্যুর পর দিল্লি পুলিশের তরফে এ কথা জানানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ফাস্ট ট্রাক করে যাতে দিল্লি গণধর্ষণ মামলার নিষ্পত্তি হয়, তার চেষ্টা চালাবেন তারা। সেই সঙ্গে অপরাধীদের কঠিন শাস্তিরও চেষ্টা চালাবে দিল্লি পুলিশ।

দিল্লি ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত ছয়জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনও তাদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, অপহরণ, অপ্রাকৃতিক অপরাধ, আঘাত করা ও ডাকাতি করার মতো মামলা চলছিল। তরুণীর মৃত্যুর পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় খুনের মামলা দায়ের হবে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ২রা জানুয়ারি এই ঘটনার চার্জশিট পেশ করা হবে। মনে করা হচ্ছে, প্রায় হাজার পাতার চার্জশিট পেশ করা হবে ওই দিন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফরেন্সিক তদন্তের রিপোর্টও চলে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউপিএ’র চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী ধর্ষণকাণ্ডে যুক্তদের দ্রুত ও উপযুক্ত শাস্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ধর্ষিতা তরুণীর অসীম সাহসী লড়াইয়ের জন্য বাহবা জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ধর্ষণে যুক্তদের কঠোর শাস্তি দেয়ার জন্য ক্রিমিনাল আইন পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। দিল্লির ধর্ষিতা তরুণীর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্ষণের মতো অপরাধে শাস্তি দেয়ার জন্য যে আইনগুলো রয়েছে সেগুলো খুবই দুর্বল ও পুরনো। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অভিযুক্তদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেফতারকৃত ৬ ব্যক্তি দিল্লির তিহার কারাগারে রয়েছে। চিকিৎসাধীন তরুণীর মৃত্যুর পর বিক্ষুব্ধ অন্য বন্দিদের ক্ষোভ থেকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন আলাদা স্থানে রাখা হয়েছে। এদিকে ধর্ষণের প্রতিবাদে ভারতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। চিকিৎসাধীন তরুণীর মৃত্যুর কারণে এখন এ প্রতিবাদ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় নয়া দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল ২৯ ডিসেম্বর সকালে মধ্য দিল্লির বেশির ভাগ অংশই পুলিশ অবরুদ্ধ করে রাখে। মেট্রোরেলের বেশ কয়েকটি স্টেশন বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি জনগণকে দিল্লি সফর না করার আহ্‌বান জানানো হয়। শহরে শ’ শ’ সশস্ত্র পুলিশ এবং নারী পুলিশসহ দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লির পুলিশ কমিশনার নীরজ কুমার জনগণকে শান্ত থাকার আহ্‌বান জানিয়েছেন। সিটি সেন্টারে পাঁচ জনের বেশি মানুষের সমবেত হওয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে গতকাল ২৯ ডিসেম্বর সকালেই যন্তরমন্তরে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিল। তারা ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে ভারতের আইনে ধর্ষণের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, পুনম কৌশিক নামের এক প্রতিবাদকারী সরকারকে দায়ী করে বলেছেন, সরকার দিল্লির নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন- এ মৃত্যু আরও ক্ষোভের জন্ম দেবে। বিক্ষোভকারীদের একটি ব্যানারে রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, আমরা আপনাদের সান্ত্বনা চাই না। আমরা আপনাদের লোক দেখানো আবেগ দেখতে চাই না। যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমরা অনতিবিলম্বে কঠোর আইন চাই। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত চিকিৎসাধীন তরুণীর মৃত্যুকে দেশের জন্য লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি যন্তরমন্তরে গতকাল বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে কথা বলে এলেও তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে। দক্ষিণ দিল্লিতে জওয়াহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির একদল শিক্ষার্থী যে বাসস্টপ থেকে নিহত তরুণী বাসে উঠেছিল সেই বাসস্টপ অভিমুখে নীরব মিছিল করেছে। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘সে আর আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার ঘটনা আমাদেরকে জাগ্রত করেছে।’

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, ভারতের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে দিল্লিতে যৌন অপরাধের হার সবচেয়ে বেশি। পুলিশের তথ্য মতে, সেখানে প্রতি ১৮ ঘণ্টায় একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকে। কলকাতা, মুম্বইসহ ভারতের অন্যান্য শহরেও এ মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই লাগাতার চাপের মুখে ভারত সরকার এখন থেকে দেশের যে কোন জায়গায় ধর্ষণের অপরাধীদের নাম, ছবি, ঠিকানা, সবটাই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে দিল্লি পুলিশের ওয়েবসাইটে ওই শহরের ধর্ষণকারীদের তথ্য থাকবে। পরে সেটা জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর ওয়েবসাইটে ধর্ষণকারীদের তথ্য পাওয়া যাবে। ভারতের গণমাধ্যমেও এব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে। ভারতের প্রভাবশালী টাইমস অব ইন্ডিয়া সমাজে বড় ধরনের সংস্কার এবং সমাজে এব্যাপারে সচেতনতার আহ্‌বান জানিয়ে বলেছে, রাস্তাঘাটে নারীদের হয়রানির পাশাপাশি বাড়িতেও হাজার হাজার নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

দিল্লির প্রধান সড়কসহ ১০টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ

সিঙ্গাপুর থেকে ধর্ষিত তরুণীর মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই নতুন প্রতিবাদ-বিক্ষোভের আশঙ্কায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ। এক বিবৃতিতে শনিবার দিল্লিবাসীদের ইন্ডিয়া গেইট ও আশপাশের এলাকাগুলোর রাস্তা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার ২৯ ডিসেম্বর ইন্ডিয়া গেইটের রাজপথ, বিজয় চক ও আশপাশের সংযোগ সড়কগুলো বন্ধ থাকবে। রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশের গণসংযোগ কর্মকর্তা রাজন ভগৎ বলেন, নয়া দিলিস্নর কেন্দ্রীয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এই এলাকায় কোন গাড়ি ঢুকতে দেয়া হবে না। শুধু যন্ত্ররমন্ত্রর ও রামলীলা ময়দান এলাকায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ প্রদর্শন করা যাবে। জনতার প্রতি শান্ত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি আমরা। দিলিস্নর কেন্দ্রীয় এলাকার রাজীব চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয়, প্যাটেল চক, রেসকোর্স, খান মার্কেট, জোরবাগ, উদ্যোগ ভবন, মাণ্ডি হাউস, বড়খাম্বা রোড এবং প্রগতি ময়দান মেট্রো স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে। দিলিস্নর ঘটনা নিয়ে ভারতজুড়ে ধারাবাহিক ব্যাপক প্রতিক্রিয়া, বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। দিলিস্নতেই সবচেয়ে তীব্র প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদকারীরা ধর্ষণ প্রতিরোধে কঠোর আইন, নারীর নিরাপত্তা, সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জবাবদিহি বাড়ানোর জন্য আন্দোলন শুরু করে।

বিশিষ্ট জনদের শোক-প্রতিক্রিয়া

গণধর্ষণের শিকার তরুণীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি। তিনি তাকে সাহসী বীর বলে উল্লেখ করে বলেছেন, মৃত্যুর শেষ সময় পর্যন্ত তিনি নিজের আত্মসম্মান এবং জীবন রক্ষার জন্য লড়াই করে গেছেন। সে সত্যিকার অর্থেই বীর এবং ভারতীয় তরুণী ও নারীদের মূর্ত প্রতীক। ভাইস প্রেসিডেন্ট হামিদ আনসারী বলেছেন, অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল একটি তরুণ প্রাণ অত্যন্ত দুঃখজনক ভাবে ঝরে গেল। এটা কেবল কোন পরিবারের ক্ষতি নয় সমগ্র জাতি আজ এ ক্ষতির বিষয়টি অনুধাবন করছে। এ হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের সবাইকে মানবাধিকারকে সম্মান করতে শেখাবে বলে আমি আশা করি। ইউপিএ চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী এক বিবৃতিতে বলেছেন নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ব্যাপারে জনগণের বক্তব্য সরকার শুনেছে। তিনি বলেন, আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, আপনাদের বক্তব্য সরকার শুনেছে। সোনিয়া বলেন, একজন নারী এবং মা হিসেবে তিনিও জনগণের উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্‌বান জানিয়ে বলেছেন, এভাবেই আমাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা এ ধরনের অপরাধ বন্ধে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্দে নারীর নিরাপত্তায় আইন আরও কড়া করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই ওই তরুণীর প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে। বলিউড তারকা শাহরুখ খান এ ব্যাপারে তার টুইটার বার্তায় গতকাল বলেছেন- আমিও যে এ সমাজ এবং সংস্কৃতির একটি অংশ সে জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি যে একজন পুরুষ সে জন্য আমি দুঃখিত। তিনি বলেন- আমি তোমার হয়ে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আমি নারীদের সম্মান করবো যাতে আমিও আমার কন্যার সম্মান পেতে পারি।

স্যোশাল সাইটে কুর্নিশ জানানো হলো সাহসী মেয়েকে

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলন্ত বাসে ধর্ষিতা তরুণীর সাহসী লড়াইকে কুর্নিশ জানানো হয়েছে স্যোশাল সাইটে। রাজনীতিবিদ থেকে অভিনেতা, সমাজকর্মী থেকে সাধারণ স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষের ক্ষোভ, সমবেদনার জোয়ারে উপচে পড়েছে টুইটার ও ফেসবুকের পাতা।

অমিতাভ বচ্চন: আমানত! এখন শুধুই একটা নাম। ওর পার্থিব শরীরের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু চিরকালের জন্য ওর আত্মা আমাদের হৃদয়ে রয়ে যাবে। নরেন্দ্র মোদী: ভারতের নির্ভীক তরুণীর মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ, তার আত্মীয়পরিজনদের গভীর সমবেদনা জানাই। কৃষ্ণা তীর্থ: ১৫ দিনের মধ্যে এর সুবিচার হওয়া প্রয়োজন। দোষীদের ফাঁসি হওয়া উচিত। শাবানা আজমি: সিঙ্গাপুরে ওর মৃত্যুর পর আমাদের অক্ষমতা সামনে চলে এলো। দেশের জন্য ও একটা জাগরণী আহ্‌বান দিয়ে গেল। এ ধরনের ঘটনা রুখতে কঠোর আইন প্রয়োজন। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা। বিষেণ সিং বেদী: ভারতের মননকে উজ্জীবিত করতে দেশের মহান মেয়েটিকে মৃত্যুবরণ করতে হলো। আশা করি, দেশ এরপর লজ্জায় অবনত হবে। জাভেদ আখতার: ওর মৃত্যুতে সরকার, পুলিশ, আমি, আপনি এবং সকলে এক ভয়ানক বিপদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে। ঘটনার নিন্দা করছি। অপরাধীদের প্রতি আমাদের ভাবনার পরিবর্তন প্রয়োজন। শশী ঠারুর: সিঙ্গাপুরে আমাদের সাহসী মেয়ের অকস্মাৎ মৃত্যু জীবনের জন্য একটা যুদ্ধের সূচনা করলো। একই সঙ্গে ওর মৃত্যুর কারণকেও আরও দৃঢ় করলো। শেখর কাপুর: বর্ষবরণের রাতে ওই তরুণীর স্মরণে আমি নীরবতা পালন করবো, তোমরা কি আমার সঙ্গে থাকবে নাকি পার্টি করবে। শোভা দে: ভারতের নির্ভীক কন্যা, দিলিস্নর রাজনৈতিক নেতারা নোংরা খেলা খেললেন, অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় ওই তরুণীকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ছিল লোকদেখানো। অনুপম খের: এটা দিল্লির মেট্রো রেল, ইন্ডিয়াগেট বন্ধ করে দেয়ার সময় নয়, এটা ক্ষমা চাওয়ার সময়। প্রীতীশ নন্দী: আমার হৃদয় থমকে গেছে, ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, গোটা বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জার। ওমর আবদুল্লাহ: শান্তিতে থাকো সাহসী মেয়ে। মনোজ বাজপেয়ী: ও শান্তিতে থাক। গোটা দেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক মুহূর্ত। সোনি রাজদান: এই তরুণীর মৃত্যু যেন বিফলে না যায়, পরিবর্তনের জন্য ভারত সরকারের কিছু করা উচিত। শ্রেয়া ঘোষাল: এই প্রথম এ ধরনের নৃশংস ধর্ষণের ঘটনা সামনে এসেছে, যদিও এখনও অসংখ্য বৈবাহিক ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয় না। দিয়া মির্জা: আমারই একটা অংশের মৃত্যু হলো বলে মনে হচ্ছে। রীতেশ দেশমুখ: নির্ভীক যোদ্ধা ছিল, গোটা ঘটনাটি খুবই দুঃখের, আমাদের ঘুরে দাঁড়াবার সময় এসেছে। নেহা ধুপিয়া: এ রকম একটা দুঃজনক ঘটনা দিয়ে বছরটা শেষ হলো। সৌজন্যে : দৈনিক মানবজমিন।

Advertisements
Loading...