দিল্লীর ঐতিহাসিক জামা মসজিদ এর ইতিহাস জানুন

এই মসজিদটি সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে নির্মিত স্থাপত্যের একটি সেরা নিদর্শন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। শুক্রবার, ৯ জুন ২০১৭ খৃস্টাব্দ, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৩ রমজান ১৪৩৮ হিজরি। দি ঢাকা টাইমস্ -এর পক্ষ থেকে সকলকে শুভ সকাল। আজ যাদের জন্মদিন তাদের সকলকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা- শুভ জন্মদিন।

যে ছবিটি আপনারা দেখছেন সেটি দিল্লীর ঐতিহাসিক জামা মসজিদ। এই মসজিদটি নির্মিত হয় ১৬৫০ হতে ১৬৫৬ খৃস্টাব্দে।

বিপূল সংখ্যক মসজিদের দেশ হিসেবে খ্যাত ভারতের একটি বৃহত্তম মসজিদ এটি। এই মসজিদটি সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে নির্মিত স্থাপত্যের একটি সেরা নিদর্শন। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার চারুকলা এবং স্থাপত্যের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য সুবিখ্যাত হন। শাহজাহানের রাজত্বকালে নির্মিত অন্যান্য স্মৃতিসৌধগুলির মধ্যে আগ্রার তাজমহল, লাল কেল্লা, আগ্রা ফোর্টের মোতি মসজিদ, জাহাঙ্গিরের সমাধি, ঠাট্টায় নির্মিত হয়েছে সম্রাট শাহজাহানের নিজস্ব শাহজাহান মসজিদ। জামা মসজিদ সম্রাট শাহজাহানের স্বতন্ত্র ছাপ বহন করে চলেছে।

জামা মসজিদটি এক সরলতা ও যুক্তির সঙ্গে ধর্ম এবং সমাজের ধারণাকে সঙ্গী করে নিয়েছে যা তিন শতাব্দী পরও ধারণ করে রয়েছে। আজও মসজিদটি স্থাপত্যের শিক্ষার্থীদের গবেষণার এক প্রাচীন বস্তু নয়, বরঞ্চ এটা মানুষের ক্রিয়াকলাপের একটি সমৃদ্ধ কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত।

সন্ধ্যায় মসজিদ পরিদর্শনকারী পর্যটকরা সূর্যের বর্ণচ্ছটায় সুবর্ণ লাল রশ্মিতে সিক্ত মসজিদ প্রাঙ্গনের কাছে গিয়ে বসেন। মসজিদের ফাটলে ও তার সিঁড়ি এবং গম্বুজের উপরে শত শত পায়রার বসতি স্থাপন করার দৃশ্যও বেশ দর্শনীয়। এই পায়রারা এক সুন্দর দৃষ্টিগোচর দৃশ্য তৈরি করে। সন্ধ্যাবেলায় যখন মুয়াজ্জিন প্রার্থনার জন্য সকলকে আহ্বান জানান, তখন নিকটবর্তী বাজার হতে মানুষজন এখানে এসে দলে দলে নামাজে যোগ দেন।

জামা মসজিদে একইসঙ্গে ২৫ হাজার ব্যক্তির জমায়েতে নামাজের সুবন্দোবস্ত রয়েছে। দিনেরবেলা মসজিদের সমৃদ্ধ স্থাপত্য নকশা অধ্যয়নের জন্য একটি উপযুক্ত সময়। তাইতো প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক আসেন এই ঐতিহাসিক মসজিদটি দেখার জন্য।

মসজিদটির নির্মাণ কাজ ১৬৫০ খ্রীষ্টাব্দে শুরু হয়ে শেষ হয় ১৬৫৬ খ্রীষ্টাব্দে।

পর্যটকদের জন্য জামা মসজিদ টিকিট:

মসজিদে প্রবেশের জন্য কোনও রকম প্রবেশমূল্য লাগে না। তবে নিম্নলিখিতরূপে অন্যান্য ধার্যমূল্য প্রযোজ্য:
# জুতোর নিরাপত্তা বা জিম্মাদারির জন্য ১০ টাকা।
# মিনারে প্রবেশের জন্য ১০ টাকা।
# ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশের জন্য ২০০ টাকা।

তথ্যসূত্র: https://bengali.mapsofworld.com এর সৌজন্যে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...