ভারতে একইসঙ্গে ১১ জন কেনো আত্মহত্যা করেছিলো কারণ জানলে অবাক হবেন!

একইসঙ্গে এতো মানুষ কী কখনও আত্মহত্যা করতে পারেন? সেই প্রশ্ন সবার মনে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভারতের দিল্লিতে একই পরিবারের একইসঙ্গে ১১ জন আত্মহত্যা করার ঘটনা আমরা আগেই সংবাদ মাধ্যমে দেখেছি। কিন্তু একইসঙ্গে ১১ জন কেনো আত্মহত্যা করেছিলো কারণ জানলে আপনিও অবাক হবেন!

ভারতের দিল্লিতে আত্মহত্যা করেছে এক পরিবারের সবাই! কিন্তু একইসঙ্গে এতো মানুষ কী কখনও আত্মহত্যা করতে পারেন? সেই প্রশ্ন সবার মনে। তবে এর কারণ জানলে অবাক হবেন আপনি। দিল্লিতে বুরারি এলাকায় একটি ঘরের ভেতরে ১১ জনকে রহস্যজনকভাবে মৃত পাওয়ার পর ঘটনায় তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের পর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিবারটির একজন পুরুষ সদস্য সবাইকে গণআত্মহননে প্ররোচিত করেছেন।

দিল্লি পুলিশ বলেছে, হাতে পাওয়া প্রমাণ হতে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মৃত্যু হতে পারে, এমনটি তারা নিজেরাও বিশ্বাসই করেননি। তাদের বিশ্বাস ছিল, ভগবান তাদেরকে রক্ষা করবেন!

গত রবিবার সকালে দিল্লির ভাটিয়া পরিবারের প্রায় সবাইকে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একসঙ্গে একটি পরিবারের এতোগুলো সদস্যের মৃত্যুর ঘটনা পুরো ভারতজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

ময়নাতদন্তের বিস্তারিত তথ্য এবং বাড়িটি হতে পাওয়া হাতে লেখা একগুচ্ছ নোট একসঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করেছে সেখানকার পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ৭৭ বছর বয়সী নারায়ণ দেবীর ছেলে ললিত ভাটিয়া সবাইকে এই গণআত্মহত্যার দিকে নিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রথমে ধারণা করা হয়, নারায়ণ দেবীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন জানিয়েছে, তিনিও ফাঁসিতেই আত্মহত্যা করেছেন। তছাড়া মৃতদেহগুলোর শরীরে ধস্তাধস্তির কোনো রকম চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ওই বাড়িটি হতে উদ্ধার করা দুটি ঢাউস নোট খাতায় পাওয়া তথ্য দেখে পুলিশ বলছে, পরিবারটির কিছু সদস্য অন্যদের ফাঁসিতে ঝুলতে সহায়তা করেছিলো। নোট খাতার লেখা বর্ণনার সঙ্গে তাদের যে অবস্থায় পাওয়া গেছে তাও মিলে গেছে।

তাদের সবারই মুখমণ্ডল প্রায় সম্পূর্ণ মোড়ানো অবস্থায় ঢাকা, টেপ লাগিয়ে মুখ বন্ধ করা এবং হাত পিছমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে।

খাতাগুলোর নোটে লেখা ছিল, প্রত্যেকে তাদের নিজেদের হাত বাঁধবে এবং ক্রিয়া যখন শেষ হবে, হাত বাঁধন মুক্ত করতে প্রত্যেকে প্রত্যেককেই সাহায্য করবে। শুধু তাই নয়, ঘটনাটির তারিখও পরিকল্পিত ছিল, এমন নজিরও পেয়েছে তদন্তকারী পুলিশ।

জানা গেছে, নোটগুলোতে নারায়ণ দেবীকে বিবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তার মরদেহের পাশে বিছানার ওপর একটি স্কার্ফ ও একটি বেল্টও পড়ে ছিল।

পুলিশ সন্দেহ করছে, তিনি মারা যাওয়ার পর কেও একজন তার গলার ফাঁস খুলে তাকে ওভাবে রেখে দিয়েছিলো।

নারায়ণ দেবীর পাশাপাশি মারা যাওয়া অন্যরা হলো- নারায়ণ দেবীর মেয়ে প্রতিভা (৫৭), তারই মেয়ে প্রিয়াংকা (৩৩), নারায়ণ দেবীর দুই ছেলে ভবনেশ ভাটিয়া (৫০) এবং ললিত ভাটিয়া (৪৫), ভবনেশের স্ত্রী সবিতা (৪৮) ও তাদের তিন সন্তান মিনু (২৩), নিধি (২৫) ও ধ্রুব (১৫) ললিতের স্ত্রী টিনা (৪২) এবং তাদের সন্তান শিভাম (১৫)।

পুলিশ জানতে পেরেছে, ৪৫ বছর বয়সী ললিত ভাটিয়া ১০ বছর আগে মারা যাওয়া তার বাবা গোপাল দাসকে নাকি হ্যালুসিনেশন করতেন।

ললিত ভাটিয়া বিশ্বাস করতেন তার বাবা তাদের পুরো পরিবারকে পরিত্রাণের পথেই নিয়ে যেতে চান। ২০১৫ সাল হতে ওই বিষয়ে নির্দেশনা লিখে আসছেন। ললিত তার পরিবারকে বলেছেন, তিনি তার বাবার কাছ থেকে নিয়মিতভাবে বার্তা পাচ্ছেন।

ওই নোটগুলোর একটিতে লেখা রয়েছে- আমি আগামীকাল আসবো অথবা তার পর দিন। যদি আমি না আসি তবে পরে আসবো। ললিতের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হও না, যখন আমি আসি সে তখন উত্তেজিত থাকে।

মৃতদের মধ্যে ১৭ জুন প্রিয়াংকার বাগদান হয়েছিল । চলতি বছরের শেষের দিকে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। এই আত্মহত্যার ঘটনায় কোনো ধর্মীয় গুরুর ভূমিকা ছিল না বলে মনে করছে পুলিশ। তবে এই পরিবারটি ছিল কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। তারা বিশ্বাস করতেন, পৃথিবী ধ্বংসের সময় চলে এসেছে।

পুলিশ বলছে, ললিত নীরবতা পালনের প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। যে কারণে তিনি নোট লিখে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগও করতেন। এমনকি তাদের মুদি দোকানে যেসব ক্রেতারা আসতেন, তাদের সঙ্গেও নাকি মুখে কথা বলতেন না তিনি। সব মিলিয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত এই আত্মহত্যার ঘটনাকে কুসংস্কারের আচ্ছন্নতাকেই দায়ি করছে। তবে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...