বুক পর্যন্ত ডুবলে কি হবে মাথা তো শুকনা আছে

বৃষ্টির পানিগুলো বের হওয়ার জায়গা না পেয়ে রাস্তার উপর ধর্মঘট ডেকে অবস্থান নিয়েছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বৃষ্টির দিনে পরম বন্ধু হচ্ছে ছাতা। ছাতা ছাড়া বর্ষাকালে পথ চলায় মুশকিল। চিত্রের ভদ্রলোকটিও কিন্তু ছাতা নিয়েই বের হয়েছেন। কিন্তু ছাতা বৃষ্টি থেকে রক্ষা করলেও ঢাকার রাস্তার জলাবদ্ধতা থেকে তিনি রক্ষা পাননি। তাই রসিকতা করেই বলতে হচ্ছে ছাতা না থাকলে আজ বেচারার কি যে অবস্থা হত, নির্ঘাত বৃষ্টিতে ভিজে ঠান্ডা- জ্বরে আক্রান্ত হত।

বাক্যটির সাথে কিন্তু একটা ছোট্ট গল্পের অনেক মিল আছে। একজন ব্যক্তি গাছ থেকে পড়ে চোখের একটু নিচ দিয়ে রড ঢুকে মারা গিয়েছেন। তো অনেকেই দেখতে এসেছেন। একজন মহিলা দেখতে এসে মৃত ব্যক্তিকে ভাল করে দেখলো। তারপর বলে উঠলো “ভাগ্যেস রডটি চোখের মধ্যে ঢুকে নি। একটুর জন্য চোখটি বেঁচে গেছে।” আপনারাই বলুন মারা গেলে তার আবার চোখ ভাল থেকে লাভ কী? আসল জিনিসই তো শেষ। এই ভদ্রলোকেরও একই অবস্থা হয়েছে। বুক পর্যন্ত নর্দমার নোংরা পানিতে ডুবে গেছে অথচ অনেকেই রসিকতা করে বলছে বুক পর্যন্ত ডুবলে কি হবে মাথা তো শুকনা আছে।

বাংলাদেশের ঢাকার এই দুর্দশা নতুন নই। প্রতি বছরই বর্ষাকালে রাজধানী বাসীকে এমন কষ্ট পোহাতে হয়। রাজধানীর অনেক গুরুত্বপুর্ণ সড়কগুলো এভাবেই পানির নিচে ডুবে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। অনুন্নত পানি অপসারণ ব্যবস্থা আর সেই সাথে রাজধানী বাসীর অবহেলা আর অজ্ঞতার কারণেই মূলত এই অবস্থার জন্য দায়ী। আমরা নানা ধরনের বোতল, চিপসের প্যাকেট, পলিথিন, বিভিন্ন ঠোঙা, খোসা ইত্যাদি ব্যবহারের পর রাস্তায় ফেলে দিচ্ছি। একটু বাতাসে বা কারোর পায়ের ধাক্কায় সেগুলো স্থান পাচ্ছে নিকটতম ড্রেনে।

দীর্ঘদিন ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করায় সেখানে ময়লা আবর্জনা আটকে পানি চলাচলকে বাধাগ্রস্থ করছে। ফলে বেচারা বৃষ্টির পানি গুলো বের হওয়ার জায়গা না পেয়ে রাস্তার উপর ধর্মঘট ডেকে অবস্থান নিচ্ছে। রাজধানীর বৃষ্টির পানি গুলোর এক দফা দাবি নিয়ে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি হল, “আমাকে নিরাপদে বের হতে দাও, নইলে তোমাদের কাওকে বের হতে দিবো না। এখন আপনারায় সিদ্ধান্ত নিন দাবি মানবেন নাকি এভাবে প্রতি বছর বৃষ্টির পানিদের ডাকা ধর্মঘটে আটকা পড়ে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করবেন।

এই সমস্যা সমাধান করতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারেঃ

১। রাজধানী উন্নয়ন কর্পোরেশন এবং রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনকে, রাজধানীর প্রতিটি ফুটপাতে অনেকগুলো এমন ধরনের আকর্ষনীয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ডাস্টবিন সিস্টেম করতে হবে যেন পথচারীরা উৎসাহের সাথে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলতে পারে। ঢাকাতে যদিও কিছু জায়গায় ডাস্টবিন রয়েছে কিন্তু সেই ডাস্টবিনগুলোর গায়ের চেহারা এমন নোংরা হয়ে থাকে, যেখানে কোন কিছু ফেলা তো দুরের কথা তার আশপাশ দিয়ে যেতে ইচ্ছে করে না। আমাদের শরীর নামক যন্ত্রের আবর্জনাগুলো (মলমূত্র) ফেলার জন্য যে কমড ব্যবহার করি সেইটা কিন্তু সবাই যত্ন করে পরিষ্কার করে রাখি। অথচ রাস্তার ডাস্টবিন নামের কমডগুলো এমন নোংরা করে রাখি যার পাশ দিয়েও যাওয়া যায় না। এর জন্য সরকার এবং জনগণ সবাই দায়ী। তাই এই ডাস্টবিনগুলো প্রতিদিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

২। অনেকেই বাসের মধ্যে কিছু খাওয়ার পর সেই বোতল, প্যাকেট বা খোসা রাস্তায় ছুড়ে ফেলে। এগুলো পরবর্তীতে ড্রেনে স্থান পায় এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। তাই প্রতিটি বাসের সীটের পাশে একটি ছোট থলে সিস্টেম করা যেতে পারে। ফলে যাত্রীরা বোতল, প্যাকেট বা খোসা রাস্তায় না ফেলে সেই থলেতে রাখবে এবং বাস গৌন্তব্যে পৌছানোর পর বাস কর্তৃপক্ষ সেইগুলো নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলে দিবে।

৩। ডাস্টবিনে কোন কিছু না ফেলে রাস্তায় ফেললে তার বিরুদ্ধে জরিমানার ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য একটা পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। যে ব্যক্তি রাস্তায় কোন কিছু ফেলা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে সেই ব্যক্তিকে জরিমানাকৃত অর্থের অর্ধেক দিতে হবে। নইলে কেউ স্বেচ্ছায় কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করবে না।

৪। ড্রেন ব্যবস্থাকে আরো উন্নত করতে হবে। এক্ষেত্রে ড্রেনগুলো প্রতি মাসে কমপক্ষে দুইবার পরিষ্কার করতে হবে। তাহলে সঠিকভাবে পানি চলাচল করতে পারবে এবং শহরবাসী এই জলাবদ্ধতা নামক অভিশাপ থেকে রক্ষা পেতে পারে।

Advertisements
Loading...