ভ্রমণ ব্যয় কমানোর কৌশল

সম্ভব হলে ছুটির দিনগুলো বাদ দিয়ে ভ্রমণ করুন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আপনার সত্যিকারের ভ্রমণপিপাসু মন আর খানিকটা সচেতনতাই আপনার ভ্রমণের খরচ কমিয়ে দিতে পারে শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ। ভ্রমণের খরচের কমানোর কিছু উপায় নিয়েই সাজানো হয়েছে আজকের এই লেখাটি। স্বল্প খরচে যারা ভ্রমণ করতে চান, তাদের জন্য লেখাটি বেশ কাজে দেবে।

০১. কোনো জায়গা সম্পর্কে ঠিকঠাক না জেনেই হুট করে চলে গেলে খরচ যেমন বেড়ে যায় বহুগুণ, তেমনি পদে পদে বিপদেও পড়তে হয়। অনেক সময় পূর্বধারণা না থাকার কারণে ভ্রমণের আনন্দটাই মাটি হয়ে যায়। তাই যেখানে যাবেন বলে ঠিক করেছেন, সেই জায়গা সম্পর্কে রীতিমতো পড়াশোনা করে নিন। সেখানকার মানুষজন, আবহাওয়া, প্রকৃতি, ভ্রমণের উপযুক্ত সময়, থাকার জায়গা, জিনিসপত্রের দরদাম, খাবারদাবার, ঐতিহাসিক স্থান হলে এর ইতিহাস, যানবাহন ইত্যাদি সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্যগুলো জানার চেষ্টা করুন।

০২. আগে সেই জায়গায় গিয়েছেন এমন কারো সাথে কথা বলুন। যিনি আগে একবার ঐ স্থান ঘুরে এসেছেন, তিনি আপনাকে বেশ ভালো ধারণা দিতে পারবেন। থাকা খাওয়ার খরচ, গাইড, সেখানকার মানুষজন, নিয়মকানুন সম্পর্কে তার রয়েছে বাস্তব ধারণা। তার পরামর্শ নিন। ট্যুরিস্ট এজেন্সীর পরামর্শ/সহায়তাও নিতে পারেন।

০৩. ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজানো খুব জরুরি বিষয়। আপনার বাজেট, সদস্য সংখ্যা, সময় মাথায় রেখে ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজান। কিছু অতিরিক্ত বাজেট রাখুন, হোক না সামান্য, বিপদে-আপদে কাজে লাগতে পারে।

০৪. একা নয়, বরং চেষ্টা করুন দলীয়ভাবে ভ্রমণ করতে। এতে খরচ যেমন কমবে, তেমনি বিপদে-আপদে বেশ ভালো সাপোর্টও পাবেন। দলীয়ভাবে ভ্রমণ করলে খরচগুলো ভাগাভাগি করে নেয়া যায়।

০৫. অফ সিজনে থাকা-খাওয়ার খরচ অনেকটাই কম লাগবে। সেজন্য অফ সিজনে যেতে পারেন। আবার অফ সিজনের আগে বা পরে কাছাকাছি কোনো সময়েও যেতে পারেন। তখনও খরচ কিছুটা কম লাগবে।

০৬. দরদাম করতে পারার গুণটা থাকা খুব জরুরি। বাইরে কোথাও গেলে হোটেল কিংবা ট্যাক্সি ভাড়া করার সময় দরদাম করে নিন। একটু যাচাই-বাছাই করে নিলে ক্ষতি তো নেই। শপিংয়ের বেলাতেও একই কথা প্রযোজ্য।

০৭. সম্ভব হলে আগে থেকেই টিকিট কেটে রাখুন। এতে করে অনেক সাশ্রয়ে টিকিট কিনতে পারবেন। অনেক সময় এয়ারলাইন্সগুলোতে বিভিন্ন অফার থাকে। একটু চোখ-কান খোলা রাখলে এই সুযোগটি পেয়ে যেতে পারেন।

০৮. অনেক জায়গায় সরকারি পরিবহনের ভাড়া তুলনামূলক কম থাকে। যেমন- কলকাতায় আমাদের বিআরটিসি বাসের মতন অনেক বাস আছে। সেগুলোর ভাড়া বেশ কম। এ ধরণের পরিবহন ব্যবহারে ট্যাক্সি বা অটোর চেয়ে ভাড়াটা কম পড়বে নিঃসন্দেহে।

০৯. অদলবদল করতে পারেন। যদিও এটা এখনো আমাদের দেশে অতটা প্রচলিত নয়। ধরুন, আপনি চট্টগ্রাম যাবেন, সেখানকার কোনো বন্ধু আপনাকে হোস্ট করলো। আবার সে আপনার এলাকায় এলে আপনি তার হোস্ট হলেন। এতে দুজনেরই থাকা-খাওয়ার খরচটা বাঁচবে।

১০. কোথাও গেলে সেখানকার স্থানীয় মানুষজন যা খায় তা-ই খেতে চেষ্টা করুন। এতে করে খরচ লাগবে কম আর খাবারে পাবেন নতুন আমেজ।

১১. ভ্রমণে গেলে আমরা হুটহাট অনেক কিছু খেয়ে নিই যা আমাদের ক্লান্ত করে ফেলে। এই ব্যাপারটা মাথায় রাখুন। সকালে পেট ভরে খেতে পারেন। এটা শরীরকে সারাদিন শক্তি যোগাবে। দুপুরের খাবারটা হোক হালকা। আবার রাতে একটু ভারি খাবার খেতে পারেন। খেয়াল রাখবেন যা-ই খাচ্ছেন তা যেন কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ হয়। কেননা ভ্রমণে শরীর থেকে প্রচুর ক্যালরি খরচ হয়।

১২. সম্ভব হলে ছুটির দিনগুলো বাদ দিয়ে ভ্রমণ করুন। কারণ এ সময় মানুষজন বেশি থাকায় ভিড়ের পাশাপাশি জিনিসপত্রের দামও থাকে বেশি।

১৩. অনেক সময় অনেক অর্গানাইজেশন স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের বিনিময়ে বিনে পয়সায় ভ্রমণের সুযোগ দিয়ে থাকে, যদিও এজন্য একটা যাচাই বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেন। এ ধরণের সুযোগ জানতে পারেন ইয়ুথ অপরচুনিটিস নামের এই ওয়েবসাইট থেকে।

মোটামুটিভাবে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখলে ভ্রমণ খরচ কমে যেতে পারে অনেকখানিই। আর হ্যাঁ, চাইলে কিন্তু একেবারে বিনেপয়সাতেই ভ্রমণ করা যায়! সেজন্য কিন্তু ভবঘুরে হতে হবে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...