The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

একজনের ভোট নিতে যাবেন ১০ জন কর্মী!

আগামী ১১ এপ্রিল হতে শুরু হচ্ছে ভারতের সাধারণ নির্বাচন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভারতে আসন্ন নির্বাচনের সময় একজন ভোটারের ভোট গ্রহণ করতে মাইলের পর মাইল, পাহাড় পর্বত পাড়ি দিয়ে যাবেন ১০ জন নির্বাচন কর্মী! অপর আরেকজন ভোটারের ভোট সংগ্রহ করতে ভোটকর্মীদের গভীর জঙ্গলও পাড়ি দিতে হবে!

একজনের ভোট নিতে যাবেন ১০ জন কর্মী! 1

এই দুই বিশেষ ভোটারের একজন ভোটারের নাম হলো সকেলা তায়াং। তিনি থাকেন চীন, মিয়ানমার এবং ভুটানের সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশে। অন্য ভোটার ভারতদাস দর্শনদাসের বসবাস পাকিস্তান লাগোয়া গুজরাট রাজ্যের গির অভয়ারণ্যে।

এই দুই ভোটারের মধ্যে দূরত্বের ব্যবধান প্রায় তিন হাজার ৫০০ কিলোমিটার। তারা একজন আরেকজনকে চেনেনও না! তবে ভারতের ৯০ কোটি ভোটারের দেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের উৎসবে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে একই ভূমিকায় দেখা যাবে দুই প্রান্তের এই দুই ভোটারকে।

আগামী ১১ এপ্রিল হতে শুরু হচ্ছে ভারতের সাধারণ নির্বাচন। এবার নির্বাচন কমিশনের শ্লোগান, ‘‌কেও বাদ নয়, কারও ভোট বাদ নয়।’‌ এই শ্লোগানকে বাস্তবায়ন করে তুলতে অরুণাচল প্রদেশ ও গুজরাট রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সকেলা তায়াং এর জন্য

অরুণাচলের রাজধানী ইটানগর হতে ৩০০ মাইল দূরে আনজাও জেলা অবস্থিত। সেখানকার একটি গ্রামের নাম মালোগাম। প্রধান সড়ক হতে সেখানে যেতে ২৪ মাইল পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয়। এই পথ যেতে ভোটকর্মীদের প্রায় ১১ ঘণ্টা সময় লেগে যায়!

৩৯ বছর বয়সী সকেলা তায়াং একজন গৃহবধূ। তার স্বামী, সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন চীন, মিয়ানমার ও ভুটান লাগোয়া ওই গ্রামে। গতবার তার স্বামীও ভোট দিয়েছিলেন। এবছর যেকোনো কারণেই হোক অন্য বুথে স্ত্রীর নাম স্থানান্তর করিয়েছেন তার স্বামীই। তবে আগের মতোই ভোট দেবেন সকেলা তায়াং।

অরুণাচল রাজ্য নির্বাচন দপ্তরের নোডাল অফিসার লর্ড তাকার সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘‘‌একজন ভোটার বলে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের আয়োজন কম হবে, এমনটা কিন্তু নয়। কমিশনের নির্দেশিকা মেনে সব ব্যবস্থাই করতে হচ্ছে আমাদের।’

‘‌একজন ভোটারও যেনো বাদ না পড়ে’‌ কমিশনের এই শ্লোগানকে সামনে রেখেই আমরা সব ব্যবস্থা করছি। ১০ হতে ১৮ জন ভোটকর্মী মালোগামে গিয়ে সকেলা তায়াং এর ভোট গ্রহণ করবেন।’‌

‌‌রাজ্যের ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার লিয়েন কোয়ু জানিয়েছেন যে, ‘‌‘রাজ্যে মোট ২ হাজার ২০২টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের মধ্যে ৭টি এমন ভোটগ্রহণ কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে মোট ভোটারের সংখ্যা ১০ জনের চেয়েও কম। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভোট গ্রহণের দিন অর্থাৎ ১১ এপ্রিল সকাল ৭টা হতে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ কেন্দ্র খুলে রাখতে হবে। নির্বাচন কর্মী ও অফিসাররা আগের দিন ১০ এপ্রিল রওনা হবেন। তবে তাদের জানা নেই, সকেলা কখন ভোট দিতে আসবেন। আগেভাগে ভোট দেওয়ার জন্য কাওকেই চাপ দেওয়া চলে না।’

‌আবার রাজ্যে এমন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রও রয়েছে, যেখানে ভোটারদের ভোট দিতে যেতে হলে ৩০ মাইল পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয়! এমন বুথের সংখ্যা ৫১৮টি৷ এই হেঁটে পাহাড়ি পথ বেয়ে সংবাদ আদান-‌প্রদানের জন্য বেশ কয়েকজন ‘‌রানার’‌কে ভাড়া করেছে নির্বাচন কমিশন। বিস্ময়কর বিষয় হলো, ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকের সেই মোঘল আমল হতেই ভারতে হাঁটা পথের সংবাদ বাহকের প্রচলন রয়েছে।

ভারতদাসের জন্য ব্যবস্থা

গুজরাটের সোমনাথ জেলার গির হলো অভয়ারণ্য সিংহের জন্য বিখ্যাত। সেই গভীর জঙ্গলে একা বাস করেন এক সাধু। এই ভোটারের নাম ভারতদাস দর্শনদাস। তার জন্যও ইভিএম ও ভিভিপ্যাট নিয়ে গভীর জঙ্গলের উদ্দেশে রওনা হবেন জনা দশেক ভোটকর্মী! সেখানে ভোটগ্রহণ করা হবে ২৩ এপ্রিল।

গির সোমনাথের ডেপুটি জেলা নির্বাচন অফিসার ভি এম প্রজাপতি জানিয়েছেন, ‘‌রাজ্যের উনা জেলার বানেজ এলাকার একমাত্র ভোটার হলেন ভারতদাস। কারও ভোট যেনো বাদ না পড়ে, সেই লক্ষ্যে তার ভোটগ্রহণ করার জন্য তার কাছে পৌঁছাবেন ভোটকর্মীরা! অতীতেও একইভাবে তার ভোটগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন অফিসার। তিনি বলেছেন, প্রতিবারই তিনি ভোটও দেন।’

Loading...