The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

৩০ বছর ধরে মানবশূন্য এক গ্রামের গল্প!

স্পেনের উত্তরে গ্যালিসিয়ায় রয়েছে ‘আকোরাদা’ নামের ছোট্ট এই গ্রাম

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এমন একটি গ্রামের গল্প রয়েছে আজ যে গ্রাম ৩০ বছর ধরে মানবশূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিগত ৩০ বছর ধরে জনমানবশূন্য হয়ে ফাঁকা পড়ে রয়েছে!

৩০ বছর ধরে মানবশূন্য এক গ্রামের গল্প! 1

খুব ছোট্ট একটি গ্রাম। গোটা গ্রামে সর্ব সাকুল্যে রয়েছে মাত্র ৬টি পাথরের বাড়ি। দীর্ঘদিনের অযন্তে সেগুলিও রং হারিয়ে ধূসর বর্ণ ধারণ করেছে। তবে গোটা গ্রাম বিগত ৩০ বছর ধরে ফাঁকাই পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের মুখে মুখে পরিত্যাক্ত এই গ্রামটিকে ঘিরে নানা ‘ভূতুড়ে’ গল্প-গুজবের কথা শোনা যায়।

স্থানীয়দের মধ্যে বিশ্বাস যে, সন্ধের পর এই গ্রামটিতে নেমে আসে অশরীরী, ভূত-প্রেতরা! চতুর্দিকের পরিবেশও কেমন যেনো থমথমে ভাব।

স্পেনের উত্তরে গ্যালিসিয়ায় রয়েছে ‘আকোরাদা’ নামের ছোট্ট এই গ্রামটি। একটা সময় এখানে বসবাস করতেন ইগলেসিয়াস পরিবারভূক্ত সদস্যরা। তবে বিগত ৩০ বছর ধরে একেবারে ফাঁকা পড়ে রয়েছে এই আকোরাদা গ্রাম।

শুধুমাত্র ইগলেসিয়াস পরিবারের এক ৫৭ বছরের সদস্য তাদের পৈতৃক ভিটেমাটির দেখভাল করে আসছেন এই গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে। তাহলে কী এমন ঘটলো যে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হলেন ইগলেসিয়াস পরিবারের সব সদস্যরা?

জানা গেছে, ২০০৮ সালে বিশ্বজুড়ে আর্থিক সংকটে উপার্জন হারিয়ে ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পড়েন লক্ষ লক্ষ মানুষ। এই সময় বেঁচে থাকার তাগিদে, উপার্জনের চেষ্টায় গ্রাম ছেড়ে শহরে বসবাস শুরু করেন অনেকেই। আর্থিক সংকটের সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা হলেও দায়ি এখানকার অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা।

আধুনিক জীবনযাপনের কোনো সুযোগ-সুবিধা ছিল না এখানে। তাই একে একে ‘আকোরাদা’র বেশির ভাগ মানুষই অন্যত্র চলে গেছেন। স্পেনের ‘আকোরাদা’র মতো একের পর এক প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে ইউরোপের এমন অনেক গ্রাম।

স্পেনের গ্রামোন্নয়ন দফতরের সমীক্ষা মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষই শহরাঞ্চলে বসবাস করবেন। গ্রাম ছেড়ে শহরে বসবাসের এই সংখ্যাটা দিনের পর দিন যেনো বেড়েই চলেছে। সেইসঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় বসতি ক্রমশ ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত থাকার কারণে গ্রামের চেহারাই বদলে গেছে। লোকজনের বসবাস না থাকায় চতুর্দিকের পরিবেশও যেনো স্বাভাবিক ভাবেই থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শুধু এটিই নয়, ইউরোপের এমন অন্তত ৪০টি পরিত্যক্ত গ্রাম বিদেশিরা কিনে নিয়েছেন।

জায়গাগুলির মালিকানা বদলের পর সেগুলির পরিবেশও অনেকটাই বদলে গেছে। গ্রামগুলিতে ফিরেছে আবার প্রাণের স্পন্দন! ‘আকোরাদা’র ক্ষেত্রেও এমনটাই আশা করা হচ্ছে।

Loading...