The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

শ্রীলঙ্কায় হামলার ‘মূলহোতা’ মৌলভী হাশেম আসলে কে?

স্থানীয় মুসলমানরাও হাশেমকে ‘আপদ’ হিসেবেই জানতেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ইস্টার সানডের অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কার ৩টি গির্জা ও ৩টি হোটেলসহ ৮টি স্থানে আত্মঘাতী বোমা হামলার মূলহোতা মৌলভী জাহরান হাশেম আসলে কে? তার উদ্দেশ্যই বা কী? এমন নানা প্রশ্ন সকলের মনে।

শ্রীলঙ্কায় হামলার ‘মূলহোতা’ মৌলভী হাশেম আসলে কে? 1

আত্মঘাতী বোমা হামলার মূলহোতা মৌলভী জাহরান হাশেমের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে বহু বছর ধরেই অভিযোগ করে আসছিলেন দেশটির মুসলমানরা। তিনি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলায় মূল ভূমিকা রেখেছেন বলে গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা বাট্টিকোলা অঞ্চলে ৪০ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ জাহরান এবং মৌলভী হাশেম নামে পরিচিত। গত রবিবার কলম্বোর বাইরে একমাত্র তিনিই হামলা চালান।

ইউটিউব ও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাশেমের কয়েক হাজার ফলোয়ারও রয়েছে। এতে তিনি উত্তেজনাপূর্ণ ওয়াজ-নসিহত আপ করেন সব সময়। একটি ওয়াজেও দেখা গেছে যে, অমুসলিমদের বিরুদ্ধে ভর্ৎসনাপূর্ণ ওয়াজ করছেন এই হাশেম। তার পেছনে বিভিন্ন দেশের পতাকা দিয়ে একটি ফটোশপে তৈরি করা হয় আগুনের পতাকা।

গড়পড়তার এক মধ্যবিত্ত মুসলমান পরিবারে জন্ম নিয়েছেন এই মৌলভী জাহরান হাশেম। শ্রীলঙ্কার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাট্টানকুডিতে একটি মাদ্রাসায় তিনি পড়াশুনা শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি ঝড়ে পড়েন।

স্থানীয় মুসলমানরাও হাশেমকে ‘আপদ’ হিসেবেই জানতেন। স্থানীয় মসজিদে নানা সমস্যার মূল কারণই ছিলেন এই ধর্মীয় নেতা। সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে তার বিতর্ক প্রায় সব সময় লেগেই থাকতো। একদিন এক মুসল্লিকে হত্যা করতে তলোয়ার উঁচিয়ে তেড়ে গিয়েছিলেন এই হাশেম। ২০১৪ সালে কাট্টানকুডিতে জাতীয় তাওহিদ জামাত গঠন করেন এই হাশেম।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয় এক ভিডিওতে হামলার দায় স্বীকার করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এতে হাশেমকেও দেখা গেছে। ফুটেজে আইএস নেতা আবুবকর আল বাগদাদির আনুগত্য প্রকাশ করে ৮ জনকে শপথ নিতে দেখা গেছে। যাদের মধ্যে কেবল হাশেমের গোলাকার মুখটিই ছিল খোলা। বাকিরা মুখ ঢেকে আনুগত্যের শপথ নিয়েছেন।

মাথায় কালো কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় রাইফেল বহনকারী হাশেম অন্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। বাকিরাও তার মতো কালো পোশাক পরলেও তাদের মুখমণ্ডল ছিল সম্পূর্ণই ঢাকা।

শ্রীলংকার সরকার ইতিমধ্যেই হামলার জন্য পরোক্ষভাবে হাশেমকেই দায়ী করেছে। স্বল্প পরিচিত ইসলামপন্থী সংগঠন জাতীয় তাওহিদ জামায়াতকে হামলার জন্য প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হয়েছে।

অবশেষে হাশেমকে শনাক্তও করা হয়েছে। যদিও তার নাম ভুলভাবে হাশমি বলে উচ্চারণ করা হয়। তবে হামলার আগে ভার্চুয়াল জগতে তিনি তেমন কোনো পরিচিত মুখই ছিলেন না। এমনকি শ্রীলঙ্কার ভেতরেও তার পরিচিত ছিল খুব সামান্য।

শ্রীলঙ্কার মুসলিম কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিলমি আহামেদ বলেছেন, ৩ বছর আগেই হাশেম সম্পর্কে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন তিনি।

দেশটিতে টানা ৮টি সিরিজ বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি। গত রবিবার শ্রীলঙ্কায় ৩টি গির্জা, ৩টি হোটেল ও আরও কয়েকটি জায়গায় এই সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়। হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৪০ জনকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ।

Loading...