ভারতের বোনায় পয়েন্টে জয়, সিরিজের ফাইনালে ভারত এবং শ্রীলঙ্কা

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ডার্ক ওয়ার্থ লুইসের ফাঁদে পড়ে শ্রীলঙ্কার টার্গেট দাঁড়ায় ২৮ ওভারে ১৭৮ রান করা, আর ফাইনালে উঠতে ভারতের প্রয়োজন লঙ্কাকে ১৬৭ রানে বেঁধে রাখা নতুবা উইন্ডিজকে ফাইনালে উঠে যেতে দেওয়া। জটিল এই সমীকরণ সমাধান করে, বোনাস পয়েন্ট অর্জন করে সর্বোচ্চ ১০ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে উঠলো ভারতই। অন্যদিকে উইন্ডিজ এবং শ্রীলঙ্কার সমান ৯ পয়েন্ট থাকলেও রানরেটে এগিয়ে থাকার জোরে উইন্ডিজকে টপকে ফাইনালে ভারতের সঙ্গী হলো শ্রীলঙ্কা।


173186055-10-jpg_223401

টি-টোয়েন্টি’র যুগে ২৮ ওভারে ১৭৮ রান তোলা হয়তো শ্রীলঙ্কার জন্য সহজই ছিলো, কিন্তু কুইন্স পার্ক ওভালে বৃষ্টি ভেজা পিচে পেস বোলিংয়ের সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করে ভারতকে ফাইনালে তুলে দিয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার। তাঁর ক্যারিয়ার সেরা স্পেলের বোলিং এদিন দেখলো ক্রিকেট বিশ্ব। ৬-১-৮-৪, প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের ভেতর চারজনকে আউট করে বলতে গেলে একাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন লঙ্কান ব্যাটিং অর্ডার।

তৃতীয় ওভারে টানা দু’বলে উপুল থারাঙ্গা এবং সাঙ্গাকারাকে আউট করেন তিনি। লঙ্কান দলীয় রান তখন মাত্র ১৪। সপ্তম এবং নবম ওভারে তুলে নেন জয়াবর্ধনে, থিরিমান্নে’র উইকেট। শ্রীলঙ্কা ৩১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। এখান থেকে আর বের হয়ে আসতে পারেনি তারা। গড়ে তুলতে পারেনি কোন ছোট-বড় জুটিও, বলা যায় ভারতীয় বোলাররাই সে সুযোগ দেননি। কুমারের ব্রেক থ্রুকে কাজে লাগিয়ে বল হাতে জ্বল উঠেন ইশান্ত শর্মা এবং জাদেজাও। লঙ্কানদের ভেতর সর্বোচ্চ ২৬ রান তোলা চান্ডিমাল এবং অধিনায়ক ম্যাথুসকে আউট করেন জাদেজা। লোয়ার অর্ডারকে বেশীক্ষণ ক্রিজে থাকতে দেননি ইশান্ত। ২২ তম এবং ২৪ তম ওভারে হেরাথ, দিলহারাকে ফিরিয়ে দেন তিনি। স্বান্তনা’র একটি করে উইকেট পেয়েছেন যাদব এবং অশ্বিনও।

শ্রীলঙ্কা ২৪.৪ ওভারে ৯৬ রানে অলআউট হয়ে মাঠ ছাড়ে, ভারত পায় ৮১ রানের বড় জয়। আগের ৫ পয়েন্টের সাথে এই ম্যাচে বোনাস পয়েন্টসহ সর্বোচ্চ ১০ পয়েন্ট পেয়ে ফাইনালে ওঠে ভারত। অথচ এই সিরিজে প্রথম দুইম্যাচ টানা হেরে ভারতকে নিয়ে সংশয়ই উঠেছিলো কিছুদিন আগে!

এর আগে বৃষ্টি বাধার মুখে ডার্ক/ওয়ার্থ লুইস মেথডে ৫০ ওভারের ম্যাচ কমে ২৯ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পায় ভারত। ৮৩ বলে অপরাজিত ৪৮ রান তুলে ভারতকে ৩ উইকেটে ১১৯ রান এনে দেন রোহিত শর্মা। এছাড়াও ভিরাট কোহলি’র ৩১ রান এই ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ধাওয়ান-কার্তিক যথাক্রমে ১৫ এবং ১২ রান করেন। শ্রীলঙ্কার হয়ে রঙ্গনা হেরাথ ২টি এবং ম্যাথুস ১টি উইকেট পান।

ক্যারিয়ার সেরা বোলিং দিয়ে শ্রীলঙ্কাকে এলোমেলো করে দেয়া ভুবনেশ্বর কুমার জিতেছেন ম্যান অব দ্যা ম্যাচের পুরস্কার। ভারত-শ্রীলঙ্কা ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আগামী ১১ জুলাই বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...