The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

সন্তানকে দিন শৃঙ্খলতা

আপনার সন্তানকে দিন সঠিক শিক্ষা ও জ্ঞ্যন যার বহিঃপ্রকাশে আপনি ও আপনার পরিবাব পাবেন সন্মান ও মর্যাদা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আপনার পরিবারের শৃঙ্খলতা ও সুশিক্ষা আপনার সন্তানের শৃঙ্খলতা ও ব্যবহারের মাঝে ফুটে ওঠে। সন্তানের ব্যবহার আর দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমেই তার পরিবারের ও বাবা মায়ের সঠিক শিক্ষার ছাপ পড়ে থাকে।

সন্তানকে দিন শৃঙ্খলতা 1

আপনার সন্তানকে দিন সঠিক শিক্ষা ও জ্ঞ্যন যার বহিঃপ্রকাশে আপনি ও আপনার পরিবাব পাবেন সন্মান ও মর্যাদা। সম্প্রতি আধুনিক যুগে যেখানে খুব সহজেই আপনার সন্তান নানান অপকর্মে জড়াতে পারে ঠিক এমন অবস্থায় সন্তানের প্রতি নিতে হবে অধিক যত্ন ও দিতে হবে সন্তানকে সঠিক শৃঙ্খলা। প্রত্যেকটি সন্তান তার মা বাবার আচার ব্যবহার ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ ও অনুকরণ করে থাকে। সুতরাং আপনার সন্তানকে সঠিক শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে আপনার নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন আগে করতে হবে। নিজেকে সন্তানের কাছে এমন ভাবে উপস্থাপন করুন যাতে আপনার সন্তান আপনাকে তার রোল মডেল হিসেবে বিবেচনা করে।

আপনি যদি নিয়ম মেনে কাজকর্ম না করেন তাহলে আপনার সন্তান নিজেও আপনাকে অনুসরণ করবে। আপনার অগোছালো জীবন যাপনের প্রভাব আপনার সন্তানের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে দিতে যথেষ্ট। অতএব আপনি যদি অসময়ে টিভি দেখেন, মোবাইল ফোনে কথা বলেন, সময়ের কাজ অসময়ে করেন তাহলে আপনার সন্তান নিজেও তার হোমওয়ার্ক সময়মত করবেনা তা স্বাভাবিক। আপনাকে অবশ্যই আপনার সন্তানের সামনে সচেতন ভাবে সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে কারন আপনার সন্তান আপনাকে দেখেই শিখবে। আপনাকে অবশ্যই আপনার সন্তানের কথার ও সন্তানকে গুরুত্ত দিতে হবে যদি আপনি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে চান। আপনাকে সন্মান পেতে হলে আপনাকেও সন্মান প্রদর্শন করতে হবে।

আমাদের সন্তানের সকল অভিমত শুনতে হবে যাতে করে সে নিজেকে পরিবারের এইটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলে জানতে পারে। আমাদের কখনোই আমাদের সন্তানের মুখের উপর না বলা উচিত নয়। তার কোন অভিমত বা দাবি যদি মানার মত না হয় তাহলে তাকে তা সুন্দর করে বোঝাতে হবে। পরিবারের মধ্যে যখন আমরা আমাদের সন্তানের কোন অন্যায়ের জন্য তাকে শাসন করে থাকি তখন আমাদের সকলেই একসাথে ঐ শাসনের সমর্থন করতে হবে। তবে আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চাকে শাসন করার সময় যাতে কোন প্রকার খারাপ ভাষা ও ইঙ্গিত না করি। আমাদের আরো খেয়াল রাখতে হবে এক জন শাসন করলে অপর কেউ যাতে বাচ্চার পক্ষ না নেই বা তাকে টেনে আদর না করি সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে করে বাচ্চা তার অন্যায় কাজে প্রভাবিত হতে পারে। এছাড়াও তখন সে তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিজেকে ভাগ করে নিবে। শাসন করার সময় তাকে বোঝাতে হবে একটি অন্যায় তা সকলের কাছেই অন্যায় সে হোক বাবা অথবা মা বা অন্য যেকেও।

সন্তানের আত্মবিশ্বাস রক্ষার্থে পরিবার ও মা বাবা সবথেকে বেশি ভুমিকা পালন করে থাকে। আপনাকে অবশ্যই আপনার সন্তানের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করার মত কথা ও কাজ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সন্তানকে কখনোই কারো সাথে তুলনা করে বোকা দেয়া যাবে না। তমাকে দ্বারা এই কাজ কখনোই সম্ভব না, তুমি কোনদিনও পারবে না, তুমি ছাড়া বাকি সবাই পারবে শুধু তুমি পারবে না এই সকল কথা সন্তানকে বলা থেকে আমাদের সকল অভিবাভকদের বিরত থাকতে হবে। এতে করে আপনার সন্তান নিজেকে কোন কাজের জন্য উপযুক্ত বলে মনে করবে না। বাচ্চাকে নিয়েমে আটকে রাখবেন না। বাচ্চাকে তার কাজ ও সাচ্ছন্দমত রুটিন তৈরি করে দিতে হবে। রুটিনে অবশ্যই তার মতামতের গুরুত্ব দিন। বাচ্চাকে নিয়ম করে বন্ধুদের সাথে খেলতেদিন। আপনার সন্তানকে যতটা সম্ভব মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন।

সন্তানের অন্যায় হলে তাকে বোঝান তাতে কাজ নাহলে তাকে ভয় দেখান বোকা দিন তারপরেও কাজ না হলে তাকে শাস্তি দিন। শাস্তি বলতে বাচ্চার গায়ে হাত তলা যাবে না। ওর পছন্দের জিনিষগুলো ওর কাছ থেকে আলাদা করেদিতে পারেন, ওর সাথে কথা বলা কমিয়ে দিতে পারেন। কখনোই আপনার সন্তানের সামনের কোন ধরিনের গালি খারাপ শব্দ উচ্চারণ করবেনা। সন্তানের সামনে কারো বেপারে গিবদ গাইবেন না, মিথ্যা বলবেন না, সমালচনা করবেন না। তাতে করে আপনার সন্তান অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেনা।
সন্তানকে সময়ের মুল্য, ধৈর্য, অপরের প্রতি সন্মান করা শিখতে মননিবেশ করুন। সন্তান যাতে তার সাথে ঘটে যাওয়া সকল কাজ বা অন্যায় নির্ভয়ে তার বাবা মায়ের কাছে বলতে পারে সে সম্পর্ক গড়ে তুলুন। তাতে করে আমরা আমাদের সন্তানের সাথে ঘটতে পারা নানান অসামাজিক কাজ থেকে তাদের রক্ষা করতে সক্ষম হব। মনে রাখবেন আগামি দিনের ভবিষ্যৎ যেন অচিরেই ঝড়ে না পড়ে যায় সে দায়িত্ব আমাদের সকলের।

Loading...