The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

গর্ভাবস্থায় ত্বকের যত্ন

একজন গর্ভবতী মায়ের গর্ভধারণ থেকে শুরু করে বাচ্চা জন্ম দেয়া পর্যন্ত পোহাতে হয় বিভিন্ন ধরণের জটিল সব সমস্যা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ গর্ভবতী মায়েদের গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ধরণের পরিবর্তন ও সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে, যার ফলে গর্ভবতী মায়েরা নানাবিধ ভোগান্তিতে পড়ে থাকেন। গর্ভাবস্থায় ত্বকেরও নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। জেনে নিন গর্ভাবস্থায় ত্বকের যত্ন কিভাবে নেবেন।

গর্ভাবস্থায় ত্বকের যত্ন 1

একজন গর্ভবতী মায়ের গর্ভধারণ থেকে শুরু করে বাচ্চা জন্ম দেয়া পর্যন্ত পোহাতে হয় বিভিন্ন ধরণের জটিল সব সমস্যা। গর্ভবতী মায়েদের গর্ভাবস্থায় শারীরিক বিভিন্ন পরিবর্তন ও সমস্যার মাঝে তাদের ত্বকের সমস্যা গুলো হয় দৃশ্যমান যা গর্ভবতী মায়েদের চিন্তার একটি অন্যতম কারণ হতে পারে। মায়েদের গর্ভাবস্থায় ত্বকের ক্ষতি হয় স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি। গর্ভবতী মায়েদের গর্ভাবস্থায় ত্বকের ব্রণ, কালো ছোপ, চোখের নিচের কালো দাগ ও শরীরের স্ট্রেচমার্ক বেশি লক্ষ করা যায়। এমতাবস্থায় গর্ভবতী মায়েদের চিন্তার শেষ নেই। তবে কিছু প্রাকৃতিক প্রতিকারের মাধ্যমে খুব সহজেই গর্ভবতী মায়েরা তাদের হারানো উজ্জ্বলতা আর ত্বক ফিরে পেতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে ত্বকের উজ্জ্বলতার জন্য গর্ভবতী মায়েদের সচেতন ভাবে গর্ভাবস্থায় তাদের ত্বকের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে।

আসুন জেনে নেই গর্ভবতী মায়েদের গর্ভাবস্থায় ত্বকের যত্নে করনীয় যা খুব সহজেই ফিরিয়ে দিবে হারানো সৌন্দর্য।
ব্রণ সমস্যাঃ গর্ভবতী নারীর গর্ভাবস্থায় ও তার পরবর্তী সময়ে ব্রণ একটি সাধারণ সমস্যা। গর্ভবতী মায়েদের হরমোন জটিলতার কারনে ব্রণ হতে পারে যার ফলে স্বাভাবিকের থেকে এই সময় একটু বেশি ব্রণ হয়েছে বলে মনে হতে পারে। ত্বকের এমন ব্রণের কারনে হতাশ হওয়ার কিছু নেই এমতাবস্থায় মুখে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে হবে। অ্যালোভেরা জেলের পাশাপাশি অ্যাপেল সিডার ভিনেগারও ব্যবহার করতে পারি। গর্ভাবস্থায় নিয়মিত সাবান অথবা ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে রাখতে হবে। গর্ভবতী মায়েদের গর্ভাবস্থায় ব্রণ একটি সাধারণ ঘটনা হলেও নখ লাগিয়ে এটিকে স্থায়ী করা যাবে না। নখের স্পর্শে ব্রণের উপর কালে দাগ পড়ে যেতে পারে যা দীর্ঘ সময়ে আমাদের ত্বকে ছাপ রেখে যেতে পারে। তবে ব্রণ থাকা অবস্থায় একটি পরিষ্কার কাপরে বরফ নিয়ে তা মুখে ঘষা যেতে পারে।

মেসতা সমস্যাঃ গর্ভবতী মায়েদের গর্ভাবস্থায় খুব সহজেই মুখে কালো অথবা বাদামি বর্ণের দাগ বসে মেসতার সৃষ্টি হতে পারে। মেসতা হওয়ার একটি অন্যতম প্রধান কারণ হল পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করা। নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমানোর ফলেও আমাদের মুখে মেসতা দেখা দিতে পারে। গর্ভবতী নারীদের শিশু জন্মের পর নিজে নিজেই এই সকল দাগ চলে যায়। যদি এমনটি না ঘটে তাহলে অবশ্যই বাইরে বের হউয়ার সময়ে সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। মেসতাকে কার্যকর ভাবে দূর করতে নিয়মিত দৈনিক অন্তত দুই লিটার পানি পান করতে হবে। রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। এছাড়া নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি মইয়েশ্চারাইজার দিয়ে মুখ ধুতে হবে।

শরীরের দাগ বা স্ট্রেচমার্কঃ গর্ভবতী মায়েদের গর্ভাবস্থায় পেটে উরুতে কালো দাগ পড়ে থাকে যা আমরা স্ট্রেচমার্ক বলে জানি। গর্ভবতী মায়েদের পেট বড় হয়ে যাওয়ার কারণে এই দাগ গুলো দৃশ্যমান হয়ে থাকে। স্বাভাবিক ভাবে অপুষ্টি হীনতায় গর্ভবতী মায়েদের শরীরে স্ট্রেচমার্ক বা দাগ পড়ে। সুতরাং স্ট্রেচমার্ক কমাতে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং এর পাশাপাশি অবশ্যই নিজেকে হাইড্রেড রাখতে হবে। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পাশাপাশি অ্যালোভেরার জেল, লেবুর রস এবং শসা ব্যবহার করেও শরীরের স্ট্রেচমার্ক কমানো যায়। এমন অবস্থায় নিয়মিত নারিকেল তেল ব্যবহার করা খুবি উত্তম। এছাড়া পাশাপাশি মইয়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে গর্ভবতী মায়েদের গর্ভাবস্থায় ত্বকের এই সকল দাগ দূর করা যায়।
গর্ভবতী মায়েদের গর্ভাবস্থায় জীবন খুবি জটিল ও কষ্টের হলেও সামান্য সচেতনতার মাধ্যমে এই সময়টিকে খুব সহজেই পরিণত করা যায় উপভোগ্য।

Loading...