The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

অবিশ্বাস্য কৃত্রিম মাতৃগর্ভ

নেদারল্যান্ডসের এক বিজ্ঞানী দল আগামী এক দশকের মধ্যে যাতে কৃত্রিমভাবে মাতৃগর্ভ তৈরি করা যায় সে বিষয় নিয়ে কাজ করে চলেছেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিগত দশক থেকে এ পর্যন্ত প্রিমেচিউর বেবি বা অপরিণত শিশুর জন্মের হার অধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরিণত শিশুর জন্মের ফলে শিশুটি হারায় তার সঠিক বিকাশ এবং এর ফলে দেখা দেয় শিশুর নানাবিধ জটিলতা।

অবিশ্বাস্য কৃত্রিম মাতৃগর্ভ 1

প্রিমেচিউর হওয়ার কারণে শিশুর শারীরিক জটিলতার সাথে সাথে দেখা দেয় শিশুর মানসিক সমস্যাও। সমগ্র পৃথিবী জুরে বর্তমানে নবজাতকের মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ এই অপরিণত শিশু জন্ম হওয়া যা খুবই ভয়াবহ মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশুদের অপরিণত জন্মানোর প্রতিরোধের ফলে নেদারল্যান্ডসের এক বিজ্ঞানী দল আগামী এক দশকের মধ্যে যাতে কৃত্রিমভাবে মাতৃগর্ভ তৈরি করা যায় সে বিষয় নিয়ে কাজ করে চলেছেন। এটি সম্ভব হলে খুব সহজেই প্রিম্যাচিউর বেবি অথবা অপরিণত শিশু জন্মের হার হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে সকলের ধারনা।

একটি প্রিমেচিউর বা অপরিণত শিশু জন্মের ফলে একটি পরিবারের পাশাপাশি শিশুর পারিবারিক সুখ শান্তিও বিনষ্ট হতে পারে। অপরিণত বেবির জন্মের ফলে শিশুর পাশাপাশি তার মায়ের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

গৃহীত নিয়ম অনুসারে, গর্ভাবস্থার ৩৭ তম সপ্তাহের আগে যে কোনও জন্ম ঘটে তা অকাল বিবেচিত হয়। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় এক মিলিয়ন বাচ্চা অকাল জন্মের কারণে মারা যায়। এমনকি যারা বেঁচে আছেন তাদের জন্যও চিকিত্সা সংক্রান্ত জটিলতা এবং অক্ষমতা রয়েছে।

প্রসবপূর্ব এবং নবজাতক গবেষণার জন্য ইউকে ভিত্তিক নয় এমন লাভের সংস্থার টমির সংগৃহীত তথ্য অনুসারে, গর্ভধারণের ২২ সপ্তাহে জন্ম নেওয়া বাচ্চাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ১০ শতাংশ থাকে। তবে, যুক্ত গর্ভধারণের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে, বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। জার ফলে শিশু তার সঠিক বিকাশ লাভে সহায়তা পেয়ে থাকে।
বাহ্যিক, কৃত্রিম গর্ভগুলি এ জাতীয় ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে কারণ তারা প্রায় নিখুঁত প্রাকৃতিক, গর্ভের মতো পরিস্থিতি সরবরাহ করতে পারে এবং একটি ভ্রূণকে নাভির জলের মাধ্যমে পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং পুষ্টি পেতে পারে। ফুসফুসের মতো অঙ্গগুলিতে সরাসরি অক্সিজেন এবং পুষ্টি সরবরাহ করে এমন বর্তমান ইনকিউবেশন পদ্ধতির বিপরীতে, যার চিকিত্সা পরিচালনার সম্পূর্ণ ক্ষমতা নাও থাকতে পারে, নতুন সিস্টেমটি ভ্রূণকে প্রাকৃতিক অবস্থার অধীনে তার অঙ্গগুলি বৃদ্ধি করতে দেয়।

প্রসবপূর্ব যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে কৃত্রিম গর্ভের জড়িত হওয়া অলৌকিক হতে পারে, তবে নারীদের অধিকারের জন্য এর অর্থ কী হতে পারে তা নিয়ে সমালোচকরা ইতিমধ্যে শঙ্কা বাজিয়েছেন। কিছু নারীবাদী চিন্তাবিদ, যেমন ইউনিভার্সিটির সাউদার্ন মাইনের প্রফেসর জুলিয়েন এস মারফি তাঁর লেখা ‘মেডিকেল এথিক্সে নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি’ বইয়ে লিখেছেন যে, মানুষের শরীরের বাইরের বার্থিং বা অ্যাক্টোজেনেসিস কীভাবে নারীর ধারণাকে প্রভাবিত করবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে । কেউ কেউ এমনকি ভয় পান যে প্রজনন প্রক্রিয়া থেকে মহিলাদের দেহের প্রয়োজনীয়তা মুছে ফেলার ফলে মহিলারা অপ্রচলিত হতে পারে। এটি গর্ভপাতের অধিকার এবং তাদের দেহের উপর নিয়ন্ত্রণ পুনরায় দাবিতে বিশ্বব্যাপী নারী আন্দোলনেও প্রভাব ফেলবে।

এই অভিনব আবিস্কার প্লাস্টিকের ব্যাগ এর মত দেখতে হবে এবং এই কৃত্রিম জরায়ুর ভেতরে থাকবে অপরিণত শিশুটি বলে জানান মাতৃগর্ভের গঠন প্রস্তুতকারী বিজ্ঞানীরা। এই কৃত্রিম মাতৃগর্ভে থাকবে উন্নত মানের পাইপ যাতে খুব সহজে চলাচল করে রক্ত ও অন্যান্য তরল পদার্থ। তারা আরো ব্যক্ত করেন এটা সম্পূর্ণ মায়ের গর্ভের মতোই পরিবেশ সৃষ্টি করে রাখবে যাতে শিশুটি থাকে উপযুক্ত পরিবেশে। বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের ম্যাক্সিমা মেডিকেল সেন্টারে একটিমাত্র মাতৃগর্ভে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে যার প্রধানত খুবই অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য। এই মাতৃ গর্ভ তৈরী করার ক্ষেত্রে খুবই সক্রিয় ভাবে এ কার্য সম্পাদন করা হয়েছে যাতে করে অপরিণত শিশুদের সকল শারীরিক জতিলতা দুরকরে করে উপযুক্ত সময়ে ভূমিষ্ঠ করানো সম্ভব হয়।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...