The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

জমি রেজিস্ট্রিতে যে বিষয়গুলো না জানলেই নয়

মানুষ শেষ বয়সে এসে এক খণ্ড জমি কিনে- যাতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার মাথা গুজার এক টুকরো জায়গা থাকে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে আমাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। কিভাবে জমি রেজিস্ট্রি করতে হবে, জমির দাগ, খতিয়ান ইত্যাদি বিষয়েও আমাদের মোটেও কোনো ধারণা নেই। আজ জেনে নিন জমি রেজিস্ট্রির বিষয়গুলো সম্পর্কে।

জমি রেজিস্ট্রিতে যে বিষয়গুলো না জানলেই নয় 1

সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে অনেক মানুষ শেষ বয়সে এসে এক খণ্ড জমি কিনে- যাতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার মাথা গুজার এক টুকরো জায়গা থাকে। তবে জমি কিনেই ঝামেলায় পড়েছেন অনেকেই। কেও আবার হয়েছেন সর্বশান্তও। মূলত জমি সংক্রান্ত বিষয়ে স্বল্প জ্ঞান এবং অসতর্কতার কারণেই মানুষ এই সমস্ত ঝামেলায় পড়ে।

তাই জমি কেনার আগে অবশ্যই আপনাকে সতর্ক হতে হবে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক জমি রেজিস্ট্রির আগে যে বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত জরুরি:

# আপনাকে অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে জরিপের মাধ্যমে প্রণিত রেকর্ডটি। খতিয়ান এবং নকশাও ভালো মতো যাচাই করে নিতে হবে।

# জমির মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর এবং ওই দাগে জমির মোট পরিমাণও দেখে নিতে হবে আপনাকে।

# জমি কেনার পূর্বে উক্ত জমির সিএস রেকর্ড, এসএ রেকর্ড, আরএস রেকর্ড ও মাঠ পর্চাগুলো ভালোভাবে আপনাকে দেখে নিতে হবে।

# যদি বিক্রেতা জমিটির মালিক ক্রয়সূত্রে হয়ে থাকেন তাহলে তার কেনার দলিল রেকর্ডের সঙ্গে মিল করে যিনি বেচবেন তার মালিকানা সঠিক রয়েছে কিনা সেটি নিশ্চিত হতে হবে।

# যদি জমির বিক্রয়কারী ব্যক্তি উত্তরাধিকারসূত্রে জমিটি পেয়ে থাকলে তাহলে সর্বশেষ জরিপের খতিয়ানে তার নাম রয়েছে কিনা তা ভালো ভাবে আপনাকে খতিয়ে দেখতে হবে। যদি সর্বশেষ খতিয়ানে বিক্রেতার নাম নাই থাকে, তাহলে তিনি যার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে ওই জমিটি পেয়েছেন তার মূল মালিকের সঙ্গে বিক্রেতার নামের যোগসূত্র বা রক্তের সম্পর্ক রয়েছে কিনা বিষয়টি ভালো ভাবে যাচাই করে নিতে হবে আপনাকে।

# এই বিষয়ে আইনজ্ঞরা আরও বলেছেন, যদি মাঠ পর্চার মন্তব্য কলামে কিছু লেখা থাকে যেমন- (AD) তাহলে বুঝতে হবে যে উক্ত খতিয়ানের বিরুদ্ধে সত্যায়ন কিংবা শুদ্ধতার পর্যায়ে আপত্তি রয়েছে, সেক্ষেত্রে জমি ক্রয়ের পূর্বে জরিপ অফিসে জমিটির সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিতে হবে।

# তবে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি বিক্রিকারীর শরিকদের সঙ্গে জমি বিক্রয়কারীর সম্পত্তি ভাগাভাগির বণ্টননামা কিংবা ফারায়েজ ভালো ভাবে দেখে নিতে হবে।

# জমি বিক্রয়কারীর নিকট হতে সংগৃহীত দলিল, বায়না দলিল, খতিয়ান, মাঠ পর্চা ইত্যাদি কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যাওয়ার পর তলবকারী কিংবা স্বত্বলিপি রেজিস্ট্রারের কাছে গিয়ে কাগজপত্র সঠিক রয়েছে কিনা তা যাচাই করে নিতে হবে।

# জমি কেনার ক্ষেত্রে যিনি জমি কিনবেন তাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, ১৯১৩ সালের সরকারি পাওনা/দাবি আদায় আইনের ৭ ধারায় বলা রয়েছে সার্টিফিকেট মামলাভুক্ত সম্পত্তি কোনো ভাবেই বিক্রয়যোগ্য নয়।

Loading...