The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

সময়ের বিবর্তনে ডাকবাক্সগুলো আজ মূল্যহীন!

সম্প্রতি দেশের ডাকঘরগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপন ও আসবাবপত্র নতুন করে তৈরি করা হলেও দাফতরিক কোনো কাজকর্ম তেমন একটা নেই বললেই চলে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এমন এক সময় ছিলো যখন মানুষ খামে ভরা কাগজের চিঠির জন্য ডাকঘরের সামনে অপেক্ষা করতেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কখন আসবে সেই প্রিয়জনের চিঠি। কিন্তু এখন সময়ের বিবর্তনে ডাকবাক্সগুলো মূল্যহীন!

সময়ের বিবর্তনে ডাকবাক্সগুলো আজ মূল্যহীন! 1

ডাকঘরের অধিকাংশ ডাকবাক্স বর্তমানে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সম্প্রতি দেশের ডাকঘরগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপন ও আসবাবপত্র নতুন করে তৈরি করা হলেও দাফতরিক কোনো কাজকর্ম তেমন একটা নেই বললেই চলে। প্রতিটি ডাকঘরে একজন মাষ্টার, ডাক পিয়ন। তবে তারা যে বেতন পান তা দিয়ে ঠিকমত সংসার চালাতেও পারেন না এমন অভিযোগও রয়েছে।

জানা যায়, জেলা ও উপজেলার ডাকঘরগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম চললেও গ্রাম্য ডাকঘর গুলো কোনোমতে দিন কাটছে।

এই বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে রানীশংকৈল উপজেলা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার মোস্তফা আলম জানিয়েছেন, দেশ এখন ডিজিটাল হয়ে গেছে। বর্তমানে চলে অনলাইনে সব কাজ। তবে ডাক বাক্সে কোনো চিঠি আসে না, কোনো কোনো দিন হঠাৎ এক দুইটা পাওয়া যায়। অনলাইনের মাধ্যমে টাকা-পয়সা আদান-প্রদান করা হয়, যে কারণে মানি অর্ডারও বন্ধ।

এই বিষয়ে জনৈক ব্যক্তি বলেন , মোবাইল ফোন হতে শুরু করে ই-মেইল, ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইমো, ভাইবার, মেসেঞ্জারসহ প্রযুক্তির কতো রকমের সুবিধা এখন সবার জন্যই প্রযোজ্য। শহরের চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই গ্রামও। কারণ এখন সবকিছুই ডিজিটাল হয়ে গেছে। দেশ এখন ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে। হাতের কাছে মানুষ অনেক সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। সরকারি ডাক বিভাগের পাশাপাশি বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসে চিঠিপত্র এবং টাকা-পয়সা আদান-প্রদান করতে পারছেন।

এই আধুনিক সমাজে মানুষ এখন প্রবাসী স্বজনদের সঙ্গে বা প্রিয়জনের যোগাযোগের সুযোগটা যখন ইচ্ছে তখনই অনলাইনে উপভোগ করছেন। ঠাকুরগাঁওয় জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ডাকঘর গুলোর সবকটিতেই নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে।উপজেলার প্রধান ডাকঘরটিতে সাইনবোর্ডটিও এখন নেই। কর্তাবাবুরা চা পান খেয়ে বা গল্প গুজব করেই অফিসের সময় কাটান প্রায়। সময়ের বিবর্তনে আজ ডাকঘরগুলো অনেকটাই কোনোমতো দিনানিপাত করছে অবহেলায়। এক সময় এই ডাকঘরগুলো থাকতো প্রাণবন্ত ও কর্ম মুখরিত। রানার বা ডাক পিয়নের অপেক্ষায় হাজার হৃদয়ের মানুষগুলো প্রাণ ফিরে পেতো। এক সময় মানি অর্ডারের টাকার জন্য অনেকেই পোস্ট অফিসে ধরনা দিতেন। এখন আর তা করতে হয় না।

রাণীশংকৈলের ডাকঘরের পাশ দিয়ে গেলেই চোঁখে পড়ে মরিচা পড়া ডাকবাক্সটির দিকে। অবহেলায় মরিচিকায় ক্ষয়ে যাওয়া নোংড়া ডাকবাক্সটি মহাসড়কের পাশে অবহেলায় যেনো দাঁড়িয়ে রয়েছে।হয়তো কারণ একটাই, আর তা হলো তার মধ্যে আর চিঠিই পড়েনা।

তথ্য: অনলাইন পত্রিকা সূত্রের।

Loading...