The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

এবার করোনার নতুন উপসর্গ হলো কাঁচা মাছ বা পোড়া গন্ধ!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহামারী করোনায় আক্রান্ত কাওকে চেনার অনেকগুলো লক্ষণের কথা জানিয়েছেন চিকি/সা বিজ্ঞানীরা। এই তালিকায় এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতির পরিবর্তন, অর্থাৎ মাছ-পোড়া গন্ধ!।

এবার করোনার নতুন উপসর্গ হলো কাঁচা মাছ বা পোড়া গন্ধ! 1

নতুন এক গবেষণার পর এই তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হলেই স্বাদ ও গন্ধ হারাচ্ছেন মানুষ। তবে লং কোভিড বা দীর্ঘদিন ধরে এই ভাইরাসে কেও আক্রান্ত থাকলে তার মধ্যে এক ধরনের নতুন উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। লং কোভিড রোগী কিংবা দীর্ঘদিন ধরে যারা কোভিডে আক্রান্ত রয়েছেন তারা অদ্ভুতভাবে কাঁচা মাছ বা পোড়া গন্ধ পাচ্ছেন। এই উপসর্গটি একেবারেই নতুন বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই অদ্ভুত অসুখের নাম হলো প্যারোস্মিয়া (Parosmia)। প্যারোস্মিয়া হলে রোগীর মস্তিষ্ক কোনও নির্দিষ্ট বস্তুর প্রাকৃতিক গন্ধ চিনতে একেবারে অক্ষম হয়ে পড়ে।

জানা গেছে, অল্প বয়সি ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে এই উপসর্গটি বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে করোনা আক্রান্ত হয়ে যারা স্বাদ ও গন্ধ হারিয়ে ফেলছেন তাদের মধ্যেও এই উপসর্গই দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ডে এই উপসর্গটি অনেকের মধ্যেই দেখা গেছে। এদের মধ্যে কেও কেও শুধুমাত্র কাঁচা মাছের গন্ধ ছাড়া অন্য কোনও গন্ধই পাচ্ছেন না। আবার কেও কেও শুধুমাত্র পোড়া পোড়া গন্ধ পাচ্ছেন এমন জায়গা হতে যেখানো আদতেও কোনও পোড়া জিনিস পর্যন্ত নেই।

স্বাস্থ্যকর্মীরা এই ভাইরাসের সংস্পর্শে বেশি থাকছে বলেই হয়তো তাদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে- এমনটি মনে করছেন ইংল্যান্ডের ইএনটি বিশেষজ্ঞরা। মূলত এই ভাইরাসটি নার্ভাস সিস্টেমকে গিয়ে আঘাত করলেই এই ধরনের উপসর্গগুলি দেখা যায়।

এই বিষয়ে চিকিৎসকরা বলেছেন, যখন কোনও রোগী বেশ কয়েক সপ্তাহ কিংবা বেশ কয়েক মাস ধরে করোনায় আক্রান্ত থাকছেন, তখন তাকে লং কোভিড বলা হয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড কেয়ার এক্সিলেন্স এর মতে, লং কোভিড ১২ সপ্তাহেরও বেশি থাকতে পারে। এই সময়েও শ্বাসকষ্ট, গা হাত পা ব্যথা, বুকে ব্যথা, ক্লান্তি এবং স্বাদ-গন্ধহীনতার মতো উপসর্গ দেখা যায়। এরই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই প্যারোস্মিয়া অর্থাৎ যখন আক্রান্ত ব্যক্তি কাঁচা মাছ বা পোড়া গন্ধ পাচ্ছেন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের

Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...