The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ইউরোপের কয়েকটি সবচেয়ে দরিদ্র দেশ [দুই]

মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, বেলারুশ, মন্টিনিগ্রো ও বুলগেরিয়া

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর নাগরিকদের কাছে ইউরোপ যেনো এক পছন্দের গন্তব্যস্থল। আজ পর্ব দুই এ ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ সম্পর্কে জেনে নিন।

মেসিডোনিয়া

মেসিডোনিয়া হলো বলকান উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ৯ হাজার ৯২৭ বর্গমাইলের ছোট্ট একটি দেশ। প্রায় ২০ লাখ জনসংখ্যা-অধ্যুষিত দেশটি উত্তরে রয়েছে সার্বিয়া, উত্তর-পশ্চিমে কসোভো আর পশ্চিমে আলবেনিয়া, পূর্বে বুলগেরিয়া এবং দক্ষিণ গ্রিসের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে।

১৯৯২ সালে এক গণভোটের মাধ্যমে যুগোস্লাভিয়া ফেডারেশন হতে পৃথক হয়ে মেসিডোনিয়া এক স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলো। অর্থোডক্স খ্রিষ্টানিটির অন্যতম তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত মেসিডোনিয়ার রাজধানীর নাম হলো স্কুপিয়ে। পার ক্যাপিটা হিসাবে দেশটির জিডিপির পরিমাণ হলো ৫ হাজার ৪৪২ ইউএস ডলার। বেকারত্বের সমস্যা রয়েছে দেশটিতে প্রবল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশটির বেকারত্বের হার হলো ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, মেসিডোনিয়ার শতকরা ২১ দশমিক ৯ ভাগ মানুষই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন।

সার্বিয়া

ইউরোপে সার্বিয়ার পরিচিতি বলা যায় এক খলনায়ক হিসেবে। পার ক্যাপিটা হিসাবে সার্বিয়ার জিডিপির পরিমাণ হলো ৫ হাজার ৯০০ ইউএস ডলার, যা গোটা ইউরোপের মধ্যে হলো সপ্তম সর্বনিম্ন। অথচ যুগোস্লাভিয়া যুগে এই সার্বিয়া ছিলো ইউরোপের সবচেয়ে প্রগতিশীল অর্থনীতিগুলোর মধ্যে একটি। দেশটির রাজধানী বেলগ্রেডকে একসময় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বর্তমান প্রশাসনিক রাজধানী ব্রাসেলসের সঙ্গেও তুলনা করা হতো। সেই সময় বেলগ্রেডকে ইউরোপের সেরা শহরগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সার্বিয়াতে দুর্নীতি এবং অপরাধপ্রবণতার মাত্রা পরিমাণে অনেক বেশি। এ ছাড়াও ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতি দেশটির অর্থনীতিতে ঋণাত্মক প্রভাব সৃষ্টি করে। ২০১৭ সালে প্রকাশিত এক জরিপ অনুযায়ী দেখা যায়, দেশটির শতকরা ২০ দশমিক ৩ ভাগ মানুষই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন।

বেলারুশ

বেলারুশ হলো পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত ৮০ হাজার ২০০ বর্গমাইলের একটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র। সর্বশেষ জনগণনা অনুযায়ী এই দেশটির মোট জনসংখ্যা ৯০ লাখেরও কিছু বেশি। বেলারুশ দক্ষিণে ইউক্রেন, পশ্চিমে পোল্যান্ড, পূর্ব এবং উত্তর-পূর্বে রাশিয়া ও উত্তর-পশ্চিমে লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়ার সঙ্গেও সংযুক্ত।

১৯৯১ সালে ইউএসএসআরের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়ন হতে পৃথক হয়ে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে বেলারুশের আত্মপ্রকাশ ঘটলেও দেশটি এখনও পুরোপুরিভাবে রাশিয়ার প্রভাব হতে মুক্ত হতে পারেনি। ১৯৯৪ সাল হতে আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো একচেটিয়াভাবে দেশটিকে শাসন করে আসছেন। বিশ্ব মানবাধিকার সূচকে বেলারুশের অবস্থান এখনও তেমন একটা আশানুরূপ নয়, এমনকি দেশটির গণমাধ্যমও ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতোই সেই অর্থে স্বাধীন নয়। একই সঙ্গে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতির মাত্রাও অত্যন্ত প্রবলতর। পার ক্যাপিটা হিসেবে বেলারুশের জিডিপির পরিমাণ হলো ৬ হাজার ২৮৩ ইউএস ডলার।

মন্টিনিগ্রো

আড্রিয়াটিক সাগরের তীরবর্তী স্থানে অবস্থিত মন্টিনিগ্রো বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোর অন্যতম। ২০০৬ সালে মন্টিনিগ্রো সার্বিয়া হতে পৃথক হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলো। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত কবি লর্ড বাইরেন মন্টিনিগ্রোকে পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর দেশ হিসেবে আখ্যা দেন। পার ক্যাপিটা হিসাবে মন্টিনিগ্রোর জিডিপির পরিমাণ হলো ৭ হাজার ৬৬৯ ইউএস ডলার।

মন্টিনিগ্রোর অর্থনীতি মূলত এনার্জি ইন্ডাস্ট্রিনির্ভর। সাম্প্রতিক সময় নগরায়ণের কারণে দেশটিতে ব্যাপক পরিমাণে বন-জঙ্গল ধ্বংস করা হয়, যে কারণে দেশটিতে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমাণ অনেকটাই কমে এসেছে। এ ছাড়াও দেশটিতে লিঙ্গ ও বয়সভিত্তিক বৈষম্য প্রবল, যার প্রভাব অনেক সময় দৈনিক আয়ের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে। বিগত কয়েক বছরে এই দেশটিতে উদ্বাস্তু সমস্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালের জনগণনা অনুযায়ী মন্টিনিগ্রোর মোট জনসংখ্যা হলো ৬ লাখ ২২ হাজার ১৮২ জন, এর মধ্যে দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীর সংখ্যা ৫০ হাজারের কাছে। মন্টিনিগ্রোর মোট জনসংখ্যার ৮ দশমিক ৬ শতাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।

বুলগেরিয়া

পার ক্যাপিটা হিসাবে বুলগেরিয়ার জিডিপির পরিমাণ হলো ৮ হাজার ৩১ ইউএস ডলার, যা ইউরোপের মধ্যে দশম সর্বনিম্ন হিসেবে পরিগণিত। এ ছাড়াও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র রাষ্ট্রের তকমা পাওয়া দেশটির নামই হলো বুলগেরিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময় হতে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশটিতে কমিউনিজমভিত্তিক শাসনব্যবস্থার প্রচলিত ছিল। বেশিদিন আগের কথা নয়, ১৯৯০ সালের ১৫ নভেম্বর গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক আধুনিক বুলগেরিয়া নামে রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়। গণতন্ত্র ও মুক্তবাজার অর্থনীতির পথে রূপান্তর বুলগেরিয়ার জন্য প্রথম দিকে খুব একটা সুখপ্রদ হয়নি। কমিউনিস্ট সরকারের পতন ও সোভিয়েত বাজারে বুলগেরিয়ান পণ্যের বিলোপ ঘটার কারণে দেশটির অর্থনীতির প্রবল সংকোচন হয়ে যায়।

অপরদিকে মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বের ঊর্ধ্বগতি, অবারিত দুর্নীতি ও সমাজকল্যাণ ব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটার কারণে জীবনযাত্রার মানের চরম পতনও ঘটে। অনেক বুলগেরিয়ান দেশ ছেড়ে চলেও যান। তবে দেশটির সরকার কর্তৃক নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে গৃহীত সংস্কারগুলোর ব্যাপারে অটল থাকলেও ধীরে ধীরে বৃহত্তর রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জিত হচ্ছে। ২০০১ সাল থেকে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক- সব দিক থেকেই বুলগেরিয়া উন্নতি লাভ করতে শুরু করেছে। বর্তমানে তাই আন্তর্জাতিক মানব উন্নয়ন সূচকে বুলগেরিয়ার অবস্থান হলো ৫৬ তম। ২০০৭ সালে বুলগেরিয়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যপদ লাভ করতে সমর্থ হয়। দেশটির মোট জনসংখ্যার শতকরা ৪১ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমা রেখার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে এবং শতকরা ১০ ভাগ মানুষই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।

# রাকিব হাসান রাফি, শিক্ষার্থী, ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন ফিজিকস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস, ইউনিভার্সিটি অব নোভা গোরিছা, স্লোভেনিয়া- লেখা অবলম্বনে অনুদিত।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...