The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

দেশে করোনার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কুর্মিটোলা হাসপাতালের সেবিকা রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো দেশে করোনা ভাইরাস টিকাদান কর্মসূচি।

দেশে করোনার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন 1

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে যোগদান করে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।বিকেল ৪টার পর কুর্মিটোলা হাসপাতালের সিনিয়র নার্স মিজ কস্তাকে টিকা প্রদানের মধ্যেদিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কস্তার সঙ্গে কুশলও বিনিময় করেন। শেখ হাসিনা কস্তাকে জিজ্ঞাসা করেন, “ভয় পাচ্ছ না তো”। তখন জবাবে কস্তা বলেন, “জ্বি না”।

পরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আরও ৪ জনকে টিকা প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা-সহ আরও একজন ডাক্তার, একজন পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন সেনা কর্মকর্তাও ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের দুর্ভাগ্য হলো কিছু কিছু লোক থাকে যারা সবকিছুতেই নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে থাকেন। হয়তো মানুষ তাদের কাছে কোনো সাহায্যও পায় না, তবে কোন কাজ করতে গেলে সেখানে বিরূপ সমালোচনা, মানুষের মধ্যে সন্দেহ ঢোকানো, মানুষকে ভয়ভীতি দেওয়া, এই ধরনের কিছু কাজের কারও কারও অভ্যাস রয়েছে”।

তিনি আরও বলেন, আমি চা’ই, তারা সাহস করে আসবেন। আমরা তাদেরকেও ভ্যাকসিন দেবো, যাতে করে তারাও সুরক্ষিত থাকেন। তাদের কিছু হলে আমাদের কে সমালোচনা করবে?

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, কোভিশিল্ড নামে যে টিকাটি বাংলাদেশে দেওয়া হচ্ছে, “এ পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে নিরাপদ ভ্যাকসিন হিসেবে বিবেচিত অন্য সব ভ্যাকসিনের তুলনায়”।

আজ (বুধবার) কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে কুর্মিটোলা হাসপাতালে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার আরো মোট ২৭ জন মানুষকে করোনা টিকা প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন ডাক্তার, নার্স, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক ও আরও কয়েকটি পেশার মানুষও। তবে কাল থেকে প্রথম পর্যায়ের বাদবাকী যাদের টিকা দেওয়া হবে তাদের সবাইই করোনা ভাইরাস রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মী।

যে টিকাটি তাদের দেওয়া হচ্ছে, সেটি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার আবিষ্কৃত ও ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত কোভিশিল্ড টিকা। এরই মধ্যে ৭০ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড মজুত করা হয়েছে।

কুর্মিটোলা ছাড়াও বাকী ৩টি হাসপাতালে এই টিকা দেওয়া হবে। হাসপাতালগুলো হলো- উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এই মানুষগুলোকে তারপর থেকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। পুরোপুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। শুরুতেই পাবেন সম্মুখ সারিতে থাকা বিভিন্ন পেশার মানুষরা। সেইসঙ্গে ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়সের ব্যক্তিরাও টিকা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

সুরক্ষা অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটে নিবন্ধন :

তবে এজন্য সুরক্ষা নামে একটি (https://www.surokkha.gov.bd/) ওয়েবসাইটে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। পরবর্তীতে মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে টিকা নেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্থান এবং সময় তখন জানিয়ে দেওয়া হবে।

টিকা প্রদানের বিভিন্ন ধাপ :

নিবন্ধন : জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি নিবন্ধন হবে।
ভ্যাকসিন কার্ড : ওয়েব পোর্টাল হতে ভ্যাকসিন কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।
এসএমএস বার্তা প্রেরণ : ভ্যাকসিন প্রদানের তারিখ এবং তথ্য প্রেরণ।
প্রথম ডোজ : নির্দিষ্ট তারিখ এবং সময়ে প্রদান।
দ্বিতীয় ডোজ : নির্দিষ্ট তারিখ এবং সময়ে প্রদান।
ভ্যাকসিন সনদ: দুইটি ডোজ নেওয়ার পর পোর্টাল হতে সংগ্রহ করা যাবে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের

Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...