The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

পর্তুগালে গেলেই পাওয়া যাবে নাগরিকত্ব!

পর্তুগাল অভিবাসীবান্ধব দেশ

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মূলত পর্তুগাল হলো অভিবাসীবান্ধব দেশ। পুরো পৃথিবী ব্যাপী এই বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত। এবার সেই বিষয়টির প্রমাণ পাওয়া গেলো। পর্তুগালে গেলেই পাওয়া যাবে নাগরিকত্ব!

পর্তুগালে গেলেই পাওয়া যাবে নাগরিকত্ব! 1

পর্তুগাল অভিবাসীবান্ধব দেশ সেই কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের মাথায় যে জিনিসটা চলে আসে তা হলো পর্তুগালে গেলে খুব সহজেই রেসিডেন্ট কার্ড পাওয়া যায় এবং ইউরোপে বসবাস করার সুযোগও হয়। তবে শুধুমাত্র থাকার সুযোগ দেওয়াটাই অভিবাসনবান্ধব বলা যায় না। সেজন্য আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও রয়েছে।

আপনি যখন যে দেশে বসবাস করবেন, একজন অভিবাসী হিসেবে কাজের ক্ষেত্রে কতোটুকু অগ্রাধিকার বা স্বাধীনতা পাবেন, স্বাস্থ্যসেবায় অধিকার, শিক্ষার ক্ষেত্রে অধিকার, নাগরিকত্ব লাভের ক্ষেত্রে ইত্যাদি বিষয়ে সরকারের নীতিমালা তথা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও আপনার অধিকার প্রতিষ্ঠা পাওয়া গেলে তবেই সেই দেশটিকে অভিবাসনবান্ধব বলা চলে।

অপরদিকে মাইগ্রেন্ট ইন্টিগ্রেশন পলিসি ইনডেস্ক ২০২০ (এমআইপিইএক্স) তাদের ২০২০ সালের এক রিপোর্টে পর্তুগালকে বিশ্বের তৃতীয় অভিবাসনবান্ধব দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। মানুষের জীবন যাপনের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ৮টি বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক প্যারামিটার দ্বারা বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপনও করেছে। এমআইপিইএক্স ৫টি মহাদেশের সবগুলো দেশের পর্যালোচনার মাধ্যমে ৫২টি দেশকে সার্থকতার ভিত্তিতে যুক্তও করেছে।

এদিকে শ্রম বাজারের গতিশীলতা, উক্ত ৫২টি দেশের ক্ষেত্রে পর্তুগালের অবস্থান এক নম্বরের কারণ খুব সহজেই আপনি ওখানে কাজ শুরু করতে পারবেন এবং চাইলেই নিজে ব্যবসাও করতে পারবেন। সরকারি দফতরের কাজও করতে পারবেন, পেশাগত মান উন্নয়নের জন্য আপনি বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণও গ্রহণ করতে পারবেন। তাছাড়াও পেশাগত স্বীকৃতিসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধাও রয়েছে যা অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে খুবই কঠিন একটি কাজ।

পারিবারিক পুনর্মিলন কিংবা পরিবার একত্রীকরণের ক্ষেত্রেও পর্তুগাল অভিবাসীদেরকে খুব সহজ নীতিমালা প্রবর্তন করেছে। অভিবাসীদের পরিবারের সদস্যরা খুব সহজেই পর্তুগালে আগমন ও তাদের থাকার অধিকার অর্জন এবং স্থানীয় পরিবারের মতোই সকল সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন যা অভিবাসীদের জীবনযাপনের জন্য একটি উচ্চমাত্রার যোগ করেছে, এই সূচকে পর্তুগালের অবস্থান হলো তৃতীয়।

অপরদিকে শিক্ষা ক্ষেত্রে অভিবাসীদের সমান অধিকারে বাধ্যতামূলক শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগও সৃষ্টি করেছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে অভিবাসীদের শিক্ষার জন্য পৃথক ধরনের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাও করা হয়েছে। স্কুল শিক্ষার কারিকুলামেও বিভিন্ন বৈচিত্র্য রয়েছে দেশটিতে। এছাড়াও অভিবাসীদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক বিভিন্ন কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্তও করা হয়েছে।

জাতীয়তা গ্রহণের ক্ষেত্রেও পর্তুগাল খুবই সহজে গ্রহণযোগ্য একটি নীতিমালা প্রবর্তন করেছে। যে কেও ৫ বছর নিয়মিতভাবে বসবাস করলেই পর্তুগিজ জাতীয়তার জন্য আবেদন করতে পারেন। খুব কম সময়ে ও স্বল্পসংখ্যক প্রয়োজনীয় দলিলপত্রাদি সরবরাহ করে বিদেশীরা পর্তুগিজ নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন।

স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রেও নতুন আগত অভিবাসীদের জন্য একটি জটিলতার অভিপ্রায় সৃষ্টি হলেও নিয়মিত হওয়ার পর পর্তুগিজ নাগরিকদের মতোই অভিবাসীদেরও স্বাস্থ্যসেবায় সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে বলতে গেলে এটা বিনামূল্যেই বলা যায়। তবে শিশু স্বাস্থ্য ও গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পর্তুগাল ভিন্ন মাত্রা যোগ করে যা অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনায় পর্তুগালকে অনেক বেশিই এগিয়ে রাখবে।

অনেক অভিবাসী পর্তুগালে পৌঁছানোর পূর্বেই জীবন ঝুঁকির সম্মুখীন হয়ে থাকেন এবং তাদের জীবনাবসানও ঘটে। তাই এই সকল সুযোগ-সুবিধা দেখে বিপদজনক পথে পা না বাড়িয়ে সঠিক উপায়ে অর্থাৎ আইনসঙ্গতভাবে অভিবাসনের পরিকল্পনা করলে পর্তুগাল সরকারের সহজ অভিবাসন নীতিতে শামিল হলে উন্নত জীবনযাপন করা সম্ভবপর হবে।

Loading...