The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ: আবারও লকডাউন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যে কারণে ফ্রান্স, পোল্যান্ড ও ইউক্রেনে লাখ লাখ মানুষের ওপর ইতিমধ্যেই নতুন করে লকডাউন আরোপ করা হয়েছে।

ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ: আবারও লকডাউন 1

গত শনিবার হতে পোল্যান্ড, প্যারিসসহ ফ্রান্সের কিছু অংশ ও ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সেখানকার বেশিরভাগ দোকান-পাটই বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়াও লোকজনকে বাড়ি থেকেই কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক সময় নতুন করে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশটির রাজধানী প্যারিস ও উত্তরাঞ্চলের কিছু অংশে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কড়াকড়ির আওতায় প্যারিসে সব ধরনের অনাবশ্যক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সেখানকার স্কুল এখনও খোলা রয়েছে। তাছাড়াও বাড়ি হতে ১০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে হাঁটাচলা ও ব্যায়ামের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

নতুন কড়াকড়িতেও আগের মতোই নিয়ম-কানুন মেনে চলার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। বাড়ি থেকে বের হতে হলেই কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কারণ দেখাতে হবে। অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

সংক্রমণ বাড়তে থাকার কারণে ফ্রান্সের ১৬টি এলাকার ২ কোটি ১০ লাখ মানুষের ওপর গত শুক্রবার মধ্যরাত হতে আংশিক লকডাউন আরোপ করা হয়। প্যারিসের স্টেশনগুলো হতে রেল বোঝাই লোকজনকে লকডাউন শুরুর আগেই শহর ত্যাগ করতে দেখা যায়।

যেসব স্থানে সংক্রমণ কম বেশিরভাগ লোকজনই সেখানে চলে যাচ্ছেন। তবে ফ্রান্সের এই নতুন বিধিনিষেধ আগের লকডাউনের মতো অতোটা কঠোর নয় বলেও জানানো হয়।

ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রাঁ শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, শুধুমাত্র ‘লকডাউন’ শব্দটি সরকারের কৌশল ব্যাখ্যা করা মোটেও সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা যা চাই তা হলো নিজেদের সবকিছু বন্ধ করে না দিয়ে বরং ভাইরাস সংক্রমণ কমানোর চেষ্টা করা।’

অপরদিকে পোল্যান্ডে শনিবার হতে জরুরি নয় এমন সব দোকানপাট, হোটেল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রগুলো তিন সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, করোনার ব্রিটিশ ধরণটি খুবই সংক্রামক বলেই লকডাউন দিতে হচ্ছে। জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য মতে, মোট সংক্রমিত লোকের শতকরা ৬০ ভাগই এই নতুন ধরনের করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

জার্মানিতেও সংক্রমণ বাড়ছে দ্রুতহারে। চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে লকডাউন আরোপের কথাও বলেছেন। বেলজিয়াম এবং সুইজারল্যান্ডে করোনার বিধিনিষেধ শিথিল করার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে। অপরদিকে ব্রিটেন, জার্মানি এবঙ নেদারল্যান্ডসহ একাধিক দেশে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ করেছে।

এদিকে বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে শনাক্তের হার ২ থেকে ১০ এর উপরে উঠে এসেছে। যে কারণে আবার অফিস আদালত বন্ধের চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...