The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মাশরুম হতে পারে প্রাণীজ আমিষের বিকল্প

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী ও ঔষধিগুণে ভরপুর একটি খাবার হলো মাশরুম। অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু, ঔষধিগুণ সম্পন্ন এই খাবারে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, অ্যামাইনো এসিড, অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

মাশরুম হতে পারে প্রাণীজ আমিষের বিকল্প 1

স্বাদ, পুষ্টি ও ঔষধিগুণের কারণে ইতিমধ্যেই এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আমাদের দেশেও। মাশরুমের পুষ্টিমানও তুলনামূলকভাবে অত্যধিক। এটির প্রোটিন অতি উন্নতমানের। মানব দেহের জন্য অতিশয় প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে এর মধ্যে।

পরিপূর্ণ প্রোটিনের পূর্বশর্তই হলো মানব দেহের অত্যাবশ্যকীয় ৯টি অ্যাসিডের উপস্থিতি। মাশরুমে রয়েছে অতীব প্রয়োজনীয় এই ৯টি অ্যামাইনো অ্যাসিড বিদ্যমান। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মাংস, পনির ইত্যাদি প্রাণীজ খাবারের সমান প্রোটিন বিদ্যমান মাশরুমে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা মেডিকেল স্কুলের একটি গবেষণায় দেখা যায়, মাশরুমের মধ্যে রয়েছে এসপিরিন-সদৃশ কিছু বৈশিষ্ট্য, যা হৃদরোগ এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। শীতকালীন ফ্লু প্রতিরোধেও মাশরুমের ভূমিকা রয়েছে ব্যাপক। মাশরুম কমায় গেঁটেবাতের ঝুঁকিও।

চীনের ঐতিহ্যবাহী কিছু প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতিতে ফুসফুসের ক্যান্সার নিরাময়ে অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে মাশরুম। চীনের এই ধারার চিকিৎসকদের ধারণা মতে, মাশরুম একদিকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে, সেইসঙ্গে পারে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতেও। একটি গবেষণায় দেখা যায়, যেসব মহিলার সাপ্তাহিক খাদ্যতালিকায় মাশরুম ছিলো তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি নেমে এসেছে তুলনামূলক অর্ধেকের কাছে।

অপরদিকে ক্যান্সার চিকিৎসার একটি অন্যতম অনুষঙ্গ হলো কেমোথেরাপি। এর অবধারিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই হলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া। কেমোথেরাপির কারণে রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যাওয়া ঠেকাতেও মাশরুমকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে চীনে।

প্রাণিজ আমিষ যেমন- মাছ, মাংস, ডিম অতি নামি-দামি খাবার হলেও তাতে চর্বি সম্পৃক্ত অবস্থায় থাকায় যা অতি মাত্রায় গ্রহণ করলে শরীরে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে, যার কারণে মেদ-ভুঁড়ির সৃষ্টি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে বৃদ্ধি পেতে পারে।

মাশরুমের প্রোটিনে-ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অতি স্বল্প ও কোলেস্টেরল ভাঙার উপাদান-লোভস্ট্রাটিন, অ্যান্টাডেনিন, ইরিটাডেনিন এবং নায়াসিন থাকায় শরীরের কোলেস্টেরলস জমতে পারে না বরং মাশরুম খেলে শরীরে বহু দিনের জমানো কোলেস্টেরল ধীরে ধীরে বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে। ১০০ গ্রাম শুকনো মাশরুমে ২৫-৩৫ গ্রাম প্রোটিন বিদ্যমান। অথচ আমরা যা অতি দামি খাবার হিসেবে খেয়ে থাকি যেমন- মাছ, মাংস, ডিম খেয়ে থাকি তার মধ্যেও ১০০ গ্রাম মাছ, মাংস এবং ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ হলো মাত্র ১৬-২২ গ্রাম, ২২-২৫ গ্রাম এবং ১৩ গ্রাম।

তাই প্রাকৃতিকভাবে মাশরুমে সবচেয়ে বেশি ভিটামিন এবং মিনারেল বিদ্যমান। মাশরুমে রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, আয়রণ, পটাসিয়াম এবং সেলেনিয়াম। সেলেনিয়াম উপাদানটি কেবলমাত্র মাছেই পাওয়া যায়। যারা পুরোপুরি নিরামিষভোজী তারাও মাশরুমের মাধ্যমে এই উপকারী উপাদানটি গ্রহণ করতে পারেন। তাছাড়াও মাশরুমে আরও রয়েছে এরগোথিওনেইন নামে এক ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা মানব দেহের জন্য ঢালের মতোই কাজ করে। মাশরুমে ভিটামিন বি-১২ রয়েছে প্রচুর পরিমাণে যা অন্য কোনো উদ্ভিজ্জ উৎসে তা নেই। মাশরুম একেবারে কোলেস্টেরল শূন্য। এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও খুব সামান্য। এতে যে এনজাইম এবং ফাইবার রয়েছে তা দেহে উপস্থিত বাকি ব্যাড কোলেস্টেরলের বসতিও উজাড় করে দিতে পারে।

তাই সম্পূরক বা বিকল্প খাদ্য হিসেবে নয়, মাশরুমকে মূল খাদ্য হিসেবে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। স্বাদ এবং গুণগত মান বজায় রাখতে রান্নার সময় বেছে নিতে হবে তাজা মাশরুম, যেগুলোতে কোনো দাগ বা স্যাঁতসেঁতে ভাবও নেই। রান্নার আগে মাশরুম ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

মাশরুমে থাকে উচ্চমাত্রার আঁশ, সোডিয়ামের পরিমাণ থাকে কম এবং প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে। মাশরুমে কোলেস্টেরল কমানোর অন্যতম উপাদান ইরিটাডেনিন, লোভাস্টটিন, এ টাডেনিন, কিটিন ও ভিটামিন বি, সি ও ডি থাকায় নিয়মিত মাশরুম খেলে উচ্চ রক্তচাপও হৃদরোগও নিরাময় হয়। মাশরুমের ফাইবার কিংবা আঁশ পাকস্থলী দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখতেও সাহায্য করে। মাশরুম রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে ও ওজন কমাতেও সহায়তা করে। উচ্চ ফ্যাট সমৃদ্ধ লাল মাংসের পরিবর্তে মাশরুম গ্রহণ করলে ওজন কমানোও সহজ হবে। তাই এটি হতে পারে প্রাণীজ আমিষের বিকল্প।

তথ্যসূত্র : হেলথ এন্ড নিউট্রিশন

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...