আজ সেই রক্তাক্ত ও বিভীষিকাময় ২১ আগস্ট

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ আজ দেশের ইতিহাসে রক্তাক্ত ও বিভীষিকাময় হত্যাযজ্ঞের সেই দিন ২১ আগস্ট। ঘাতকরা সেদিন আইভি রহমানসহ ২৪ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল।

bloody day 21 august

২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের স্ত্রী মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইভি রহমানসহ ২৪ জনকে। মূলত তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছিল। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়। নৃশংস এ হামলার শিকার হয়ে শতাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়। তাদের অনেককে স্থায়ী পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়েছে।

সবথেকে পরিতাপের বিষয় এই যে, ভয়ংকর সেই হামলার ৯ বছর কেটে গেলেও আজও বিচার শেষ হয়নি। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বিচারকাজ। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হতে চললেও বিচারের অগ্রগতি হয়েছে খুব সামান্যই। মাত্র ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে এ সময়ের মধ্যে। এর আগে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে মামলার তদন্ত নিয়ে চলে নানা নাটক। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তদন্ত শেষ করে বিচার শুরু করা হলেও তদন্ত অসমাপ্ত রেখেই তা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর নতুন করে তদন্ত হয়। বর্তমান সরকারের আমলে পুরো দুই বছর ধরে চলে তদন্ত। এরপর বিচারকাজও চলেছে ঢিলেঢালাভাবে। ফলে বর্তমান সরকার আমলেও এ মামলার বিচার শেষ হবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি) ২১ আগস্টের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালালেও হত্যাকারীদের সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে চারদলীয় জোট সরকারের কিছু মন্ত্রী ও নেতার বিরুদ্ধে। ওই সময়ের আলোচিত হাওয়া ভবনে বসেই শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার পরিকল্পনা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর মতিঝিল থানায় দায়ের করা মামলায় মোট তিন দফা তদন্ত হয়। প্রথমে হয় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে। কিন্তু কোনো প্রতিবেদন দাখিল হয়নি। বরং ওই সরকারের নির্দেশে মামলাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা চলে। ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজিয়ে মূল হামলাকারীদের বাঁচিয়ে নিরীহ লোকদের ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু ওই তদন্তে গ্রেনেডের উৎস ও হামলার পরিকল্পনার পেছনে কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটন করা হয়নি অভিযোগে বর্তমান সরকারের আমলে আবার তদন্ত হয়। ২০০৯ সালে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। দুই বছর তদন্তের পর গত বছর ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে বিচার শুরু হতে কেটে যায় আরো ৮ মাস। অভিযোগপত্র দেওয়া হয় দুটি। একটি হত্যা, আরেকটি বিস্ফোরক মামলা। মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল থেকে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও দায়রা আদালতে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর অধিকতর তদন্ত হয়। গত বছর ১৯ মার্চ দুটি মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।

সম্পূরক অভিযোগপত্র : ২০১২ সালের ৩ জুলাই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের দুটি মামলায় অধিকতর তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। উভয় মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, সংসদ সদস্য মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও জোট সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদসহ ৩০ জনকে নতুন করে আসামি করা হয়। এর মধ্যে সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। রয়েছে জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরাও।

৩০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করায় এ মামলায় আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২। ২০০৮ সালের ১১ জুন দেওয়া প্রথম চার্জশিটে হুজি নেতা মুফতি হান্নান, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়েছিল।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার প্রথম চার্জশিটভুক্ত ২২ আসামির মধ্যে বর্তমানে সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ও জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ ১৪ জন কারাগারে রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, ইকবাল (ঝিনাইদহ), মাওলানা আবু বকর (বরিশাল), খলিলুর রহমান (মাগুরা), জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর (দোহার, ঢাকা), মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার (গোপালগঞ্জ)। এ ছাড়া হুজির সদস্য আনিসুল মোরসালিন ও মহিবুল মোত্তাকিন ভারতের তিহার কারাগারে আটক রয়েছেন।

Advertisements
Loading...