রক্তাক্ত অবরোধের পর আবার হরতাল এবং…

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশের ইতিহাসে আরও একটি রক্তাক্ত অবরোধ চলে গেলো। আবার আগামীকাল ১১ ডিসেম্বর হরতাল। কিন্তু এর শেষ কোথায়? আর কত মানুষকে রক্ত দিতে হতে, আর কতজনকে জীবন দিয়ে আন্দোলনের মাশুল গুণতে হবে? এ প্রশ্ন এখন দেশের সচেতন প্রতিটি মানুষের।

৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০ এর গণঅভুত্থানে এ দেশের মানুষ অকাতনে জীবন উৎসর্গ করেছে। ৯০ এর পর এদেশের মানুষ ভেবেছিল দেশে গণতন্ত্র এসেছে, মানুষ তার অধিকার নিয়ে বাঁচবে। কিন্তু সে চিন্তা ও চেতনায় ভাটা পড়ে ১৯৯৫ সালে এসেই। মাত্র কয়েকটা বছর যেতে না যেতেই সেই একই সমস্যার মধ্যে পড়েন এ দেশের মানুষ। তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে আবার শুরু হয় আন্দোলন। বহু হরতাল, অবরোধ পেরিয়ে অবশেষে নির্ধারিত সময়ের আগেই সংসদ ভেঙ্গে দেয় তৎকালিন বিএনপি সরকার। নতুন নির্বাচন দেন। যে নির্বাচনে দেশের বড় কোন দল অংশ নেয়নি। পরে অবশ্য প্রথম অধিবেশনেই তত্ত্বাবধায়ক বিল সংসদে পাশ করা হয়। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ২০০৭ এ এসে রাজনৈতিক দলগুলোর একগুয়েমির কারণে আবার দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসে তবে সেই তিন মাসের জন্য নয়। তার পরের কাহিনীও সকলের জানা। এখন আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এসে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জুজুর ভয় দেখিয়ে তা থেকে বিরত থাকে। কারণ হাইকোর্টের একটি রায়ের কারণে তারা এই বলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পূনপ্রবর্তনের বিরোধীতা করলে দেশে শুরু হয় এক অরাজকতা।

যদিও আওয়ামীলীগ সরকারের দূরদর্শিতায় গত ৪/৫ মাস যাবত দেশে হরতাল ধর্মঘট না থাকায় দেশের সাধারণ মানুষ একটু বেঁচেছিল। কিন্তু যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামী চোরা গুপ্তা হামলা এবং হরতাল ডাকলে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো আবার চাঙ্গা হয়ে ওঠেন। এর ফলশ্রুতিতে আবার অবরোধ ও হরতালের মতো গণবিরোধী কর্মসূচি শুরু হয়েছে। যা দেশের সাধারণ মানুষের কাছে মোটেও কাম্য নয়।

৯ ডিসেম্বরের অবরোধে ৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে বহু মানুষ। পুরো দেশজুড়ে শুরু হয়েছে এক উশৃংখল পরিবেশ। বোমাবাজি, গাড়ি পোড়ানো, মানুষ খুন এমন কোন কাজ নেই যা সেদিনের অবরোধে হয়নি। এই অবস্থা আমাদের কাছে মোটেও কাম্য নয়। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বিশেষ করে অবরোধ ও হরতালের মতো কর্মসূচি বাদে অন্যসব শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করলে দেশের মানুষ সব সময় বিরোধী দলের সঙ্গে থাকবে। কিন্তু দেশের মানুষ কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না।

গাড়ি-ঘোড়া রাস্তায় চললেই হরতাল বিফল, বা গাড়ি-ঘোড়া রাস্তায় চললেই হরতাল সফল এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই। কারণ আমাদের দেশে হরতাল-ধর্মঘট করতে করতে এমন একটা পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে, ধর্মঘট সফল ও বিফলে এখন সরকারের কিছুই আসে যায় না। তাহলে আমাদের প্রশ্ন কেনো এই বোমাবাজি? কেনো এই গাড়ি পোড়ানো? কেনো এই মানুষ হত্যা? জনগণের কল্যাণেই যখন রাজনীতি তাহলে তাদের ওপরই আমরা ছেড়ে দেয়। তারা যদি মনে করে হরতাল করতে হবে তাহলে একটি গাড়িও ভাঙ্গা লাগবে না, এমনিতেই রাস্তা ফাঁকা থাকবে।

এখন যুগ এসেছে আধুনিক। আর এই আধুনিক ডিজিটাল যুগের কারণে এখন ঘরে বসেই মানুষ বুঝতে পারেন কোন হরতাল হচ্ছে আর কোনটি হচ্ছে না। কে গাড়ি পোড়ালো এবং কে মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করলো। গত ৯ ডিসেম্বরের অবরোধ চলাকালে পুরোনো ঢাকায় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, সে দৃশ্য দেশের প্রায় সবগুলো চ্যানেলে দেখানো হয়েছে। হাই মানুষ, হাই সভ্যতা!

এখনও সময় আছে দেশের জন্য, দেশের মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করার। সরকারি ও বিরোধী দল উভয়কেই সচেতন হতে হবে এবং নিজেদের লোভ-লালসা, হিংসা বিদ্বেষ ভুলে কেবলমাত্র দেশের মানুষের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। ক্ষমতার মোহে আর কোন সন্ত্রাসী রাজনীতি নয়। আসুন আমরা সবাই মানুষের কল্যাণে কাজ করি।

Advertisements
Loading...