ক্ষতিকর ধোঁয়া নির্গমন ছাড়াই ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে!

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক॥ বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে চিন্তার বিষয় বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং পরিবেশ দূষণ, প্রতিনিয়ত পৃথিবীর বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়ছে তার সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র সমূহ। বাতাসে কোনোরূপ কার্বনডাই অক্সাইড ধোঁয়া নির্গত হবেনা এমন বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করবে ব্রিটেন। বিতর্কের বিষয় হচ্ছে আদৌ কি এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র দূষণ কমাতে পারবে?


237521_zima_-yelektrostanciya_-den_-sneg_-nebo_-zabor__1920x1200_(www.GdeFon.ru)

বর্তমানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার জন্য উৎপাদিত বিদ্যুতের বেশীরভাগ তৈরি হচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানী অর্থাৎ খনিজ তেল, গ্যাস কিংবা কয়লা পুড়িয়ে। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী জ্বালানী ব্যবহারকারী দেশ আমেরিকা তাঁদের বিদ্যুতের ৭০% তৈরি করছে জীবাশ্ম জ্বালানী পুড়িয়ে অপরদিকে অন্যান্য উন্নত দেশ এবং উন্নয়নশীল সমূহ একই পন্থা অনুসরণ করছে।

তবে এরই মাঝে বিশ্বের অনেক দেশ তাঁদের পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র সমূহে আধুনিকায়ন করছে যেমন আমেরিকার দক্ষিণ ক্যারোলিনা অঞ্চলের সকল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এমন ভাবে আধুনিক করা হচ্ছে যাতে এতে তেল বা কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও পরিবেশের আদৌ তেমন কোন ক্ষতি হবেনা কারণ এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পরিবেশ দূষণ হবে এমন বর্জ্য নির্গত হবে না।

8 Rivers Capital যারা কিনা পরিবেশ বান্ধব Net Power ব্যবস্থার উদ্ভাবক এর প্রধান প্রযুক্তিবিদ Rodney Allam বলেন, “ আমরা চাচ্ছি জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যাবহার করেও কি করে পরিবেশে কার্বনডাই অক্সাইড কম নির্গত করা যায় অর্থাৎ Co2 এর নির্গমন যথা সম্ভব কম রাখা যায় তার বিষয়ে ব্যাবস্থা নিতে।”

_70120691_basicflowdiagram_color-1

পরিবেশ বান্ধব নেট পাওয়ার ব্যবস্থা এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে কার্বনডাই অক্সাইড নির্গমন অনেক অংশে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এ ব্যাবস্থায় জীবাশ্ম জ্বালানীর সাথে কার্বনডাই অক্সাইড ও জ্বালানী হিসেবে পড়ানো হবে! ফলে পরিবেশে ক্ষতিকর কোন গ্যাস বা ধোঁয়া নির্গত হবেনা। হ্যাঁ শুনতে অবাক লাগলেও চলুন জেনে নেই কিভাবে এটি সম্ভব।

এখানে প্ল্যান্টে তৈরি হওয়া কার্বনডাই অক্সাইড পুনরায় আবার রিসাইক্লিং করে প্ল্যান্টেই বিদ্যুৎ তৈরিতে ব্যাবহার করা হবে। Rodney Allam এ বিষয়ে বলেন, “ আমরা এমন এক ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছি যেখানে জ্বালানী পোড়ানর ফলে সৃষ্ট ক্ষতিকর গ্যাস পুনরায় জ্বালানী পোড়ানর কাজে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।”

520004df68ef3-090106_FutureGen_Fig_1

তিনি আরও বলেন, “ আমাদের প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভবিষ্যতে জ্বালানী পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে পরিবেশে কার্বনডাই অক্সাইড নির্গমন ০% এ কমিয়ে আনা।”

নেট পাওয়ার প্রযুক্তিতে পাইপ লাইনে তৈরি হওয়া কার্বনডাই অক্সাইড সমূহ ৩২০ atmospheres চাপে বিশুদ্ধ করে ফেলা হবে! একেই নেট পাওয়ার প্রযুক্তি বলছে “capture ready” অথবা আদর্শ অবস্থা! এখানেই অন্যান্য প্রযুক্তির বিদ্যুৎ কেন্দ্র সমূহের সাথে নেট পাওয়ারের পার্থক্য, অন্যান্য প্রযুক্তিতে তারা প্রকৃতিতে কার্বনডাই অক্সাইড ছেড়ে দিচ্ছে পাশাপাশি সেখানে থাকছে ক্ষতিকর সালফার! ফলে পরিবেশ হচ্ছে ভয়ংকর ঝুঁকির সম্মুখীন।

আসলেই কি এই প্রযুক্তি ব্যবহার যোগ্য!

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক Dieter Helm বলেন, ”এই প্রযুক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এটি একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। অর্থের দিক দিয়েও এটি অনেক সাশ্রয়ী একটি প্রকল্প হতে পারে। তবে কার্বন ক্যাপচার এবং স্টোরেজ (ccs) প্রযুক্তি স্থায়ী কোন সমাধান হবেনা এটি কেবল মাত্র খরচ বাঁচাতে সক্ষম হবে পাশাপাশি আগের চেয়ে কম কার্বন নির্গমন ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। “

এদিকে নেট পাওয়ার সিস্টেম জানিয়েছে তারা এই প্রযুক্তির একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করতে যাচ্ছেন যা ১২ মাসের মধ্যে উৎপাদনে যেতে পারবে।

আগামি ২০১৪-২০১৫ সালে ব্রিটেনের বিদ্যুৎ ব্যাবস্থা অত্যন্ত সংকটময় একটি অবস্থা মোকাবেলা করতে যাচ্ছে কারণ এই সময় ব্রিটেন বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে তাঁদের বেশ কিছু পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে যার স্থানে তৈরি করা হবে আধুনিক কম দূষণের বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ফলে নেট পাওয়ারের মত আরো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এরই মাঝে কি ভাবে দূষণ কমিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা সম্ভব তা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এখন দেখার বিষয় আসলেই কি বিশ্বের গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমন কমিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে?

সূত্রঃ বিবিসি

Advertisements
Loading...