দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কথা মনের মধ্যে চেপে না রেখে, তা খোলাখুলিভাবে বলে দিলেও সম্পর্কের ছোটখাট জটিলতাগুলোই দূরে চলে যায়। চুটিয়ে গল্প না করে চুপ করে থাকলেই কী মজবুত হবে সম্পর্কের ভিত? কী বলছে সমীক্ষা?
প্রেম হোক কিংবা দাম্পত্য, সম্পর্ক মধুর হয় কীভাবে? এ সম্পর্কে নানা জনের নানা মত। কারও মতে সম্পর্ক ভালো রাখতে চাইলে, পরস্পরের প্রতি দায়বদ্ধও থাকতে হবে। আবার কেও বলেন, ভুল বোঝাবুঝি যতো কম হবে, প্রেম ততো গাঢ় হবে। তবে প্রেমের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও মনোবিদরা বলেন, সম্পর্ক ভালো রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপই হলো মন খুলে কথা বলা। কথা মনের মধ্যে চেপে না রেখে, সেটি খোলাখুলি বলে দিলেও সম্পর্কের ছোটখাট জটিলতাগুলো দূরে চলে যেতে পারে। তবে মনে যা চলছে, তা ভাষায় প্রকাশ করলে কী সত্যিই সম্পর্কের ভিত মজবুত হবে?
সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা কিন্তু একেবারেই অন্য কথা বলছে। কিছু না বলেও, নিঃশব্দে মনের ভাব প্রকাশ করার অভ্যাস জরুরি বলেও জানিয়েছে ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অফ রিডিং’-এর নতুন এক সমীক্ষা। অনর্গল কথা বলে যাওয়ার চেয়ে, বরং পরস্পরের সঙ্গে নীরব কিছু সময় কাটালে নাকি ভালোবাসা আরও বাড়ে।
এর মানে কী রাগ-দুঃখ-অভিমানে কথা বন্ধ করে দেওয়া? তা একেবারেই নয়। বরং দু’জনের মানুষের মনের সংযোগ ঘটাতে নৈঃশব্দ্য কতোটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে, তা প্রকাশিত হয়েছে ‘মোটিভেশন অ্যান্ড ইমোশন’ শীর্ষক একটি জার্নালে।
তবে এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরে অনেকেই জানিয়েছেন যে, তা হলে কী সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিতে হবে? অভিমান, ঝগড়া হলে তখনতো এমনিতেই কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। তবে সম্পর্ক আরও ঝলমলে করে তুলতে কী পৃথক করে কথা বন্ধ রাখতে হবে? গবেষকরা সেটি বলছেন না। তাদের বক্তব্য হলো, কথা বললে অনেক সময় এমন অনেক অসন্তোষমূলক কথাবার্তাও উঠে আসে, যা সম্পর্কের ক্ষতিও করছে। তারচেয়ে একসঙ্গে নীরবে গান শোনা, গল্পের বই পড়া বা অন্য কোনও কাজ করলে সম্পর্ক আরও ভালো হয়। তথ্যসূত্র: এই সময়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org