The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

সোহাগ গাজীর ইতিহাস সৃষ্টির ম্যাচে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যাণ্ড টেস্ট ড্র

নিউজিল্যাণ্ড ড্র করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশের সাথে। শেষদিনে ৪৫ ওভারে তুলতে হতো ২৫৬, চেষ্টা করলে প্রতি ওভারে ছয়ের কাছাকাছি রান তুলে হয়তো বাংলাদেশ জিততেও পারতো, কিন্তু সেই আক্ষেপ করতে বয়েই গেছে! এই ম্যাচে জয় না পেলেও, ‘এই টেস্টটি ছিলো ব্যক্তিগত অর্জনের একটা ম্যাচ’ বাংলাদেশ এমন দাবী করতেই পারে!


168885

খেলার প্রথম দিন থেকে দুদল সমানে সমানে লড়ে গেলেও শেষদিকে এসে বাংলাদেশ আধিপাত্য বিস্তার করে খেলেছে নিউজিল্যাণ্ডের বিপক্ষে। প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যাণ্ডের দুটি সেঞ্চুরিতে তোলা ৪৬৯ রানের জবাবে বাংলাদেশও দুটি সেঞ্চুরিতে ৫০১ রান তোলে। আসলে স্কোরবোর্ডটা দেখতে এরকম হলেও বাংলাদেশের সেঞ্চুরির মাহাত্ম্য অন্য জায়গায়। বাংলাদেশের বাইশ বছর বয়সী তরুণ মমিনুল হক শুরুটা করেছিলেন ঝড়ো ইনিংস দিয়ে, সাধারণত যেমনটা হয় টেস্ট ক্রিকেটে ঝড় তুলে শুরু করা ইনিংস কিছুদূর গিয়েই থেমে যায়। কিন্তু মমিনুলের বেলায় সেটা ঘটেনি। মাত্র ৩৬টি বলে ১০টি চার মেরে ফিফটিতে পৌঁছা মমিনুল হক যখন তৃতীয় দিন আউট হয়ে মাঠ ছাড়ছেন তখন তার পাশে যোগ হয়েছে ২৭৪ বলে ১৮১ রান! ছোটোখাটো শরীর নিয়ে নিউজিল্যান্ড দলের বোলারদের কি নাজেহালটাই না করেছেন!

মমিনুল আউট হয়ে যাবার পর মুশফিকও মাত্র ৬৭ রানে ফিরে গেল বাংলাদেশের স্কোর ৪০০ পেরোনোর আশা কেউ করেনি, কিন্তু লোয়ার অর্ডারে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন স্পিনার সোহাগ গাজি। গাজীর ১৬১ বলে ১০১ রানের অপরাজিত সেঞ্চুরি বাংলাদেশকে তুলে দেয় ৫০১ রানের পাহাড়ে, এনে দেয় ৩২ রানের লিড। কিন্তু কে জানতো ক্রিকেটে সোহাগের নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে বলেই এই টেস্ট ম্যাচটির জন্ম হয়েছে!?

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড নাকানি চুবানি খেয়েছে সোহাগের কাছে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যাণ্ড ২৮৭ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ডিক্লেয়ার ঘোষণা করে। যার ৬টি উইকেটই তুলে নিয়েছেন সোহাগ গাজী। শেষদিনে দুই সেশন মিলিয়ে বাংলাদেশকে ২৫৬ রানের টার্গেট দেয় নিউজিল্যান্ড। ব্যাট করতে নেমে তামিম ইকবালের ৪৬ এবং সাকিব আল হাসানের অর্ধশতকে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান তুলে ম্যাচ ড্র করে বাংলাদেশ।

সোহাগ গাজীর ইতিহাস সৃষ্টি

168887

কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ইনিংসেই সোহাগ গাজীর যে ইতিহাসের জন্ম দিলো সেটি কি? নিউজিল্যান্ডের হারিয়ে যাওয়া ৭টি উইকেটের ৬টিই গাজী তুলে নিয়েছেন। না ইতিহাস আসলে এখানে নয়, ইতিহাস হলো, টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরির পাশাপাশি পাঁচ উইকেটের এলিট ক্লাবে ঢুকে গেছেন সোহাগ গাজী, এর আগে ঢুকেছিলেন সাকিব আল হাসান।

এন্ডারসন, ওয়াটলিং এবং ব্রেসওয়েলের উইকেট তুলে নিয়ে আন্তর্জাতিক টেস্টে ৩৭তম বোলার হিসেবে হায়টট্রিকের কীর্তি গড়েছেন গাজী। গাজীর হাত ধরে দুবছর পর ৩৯তম হ্যাটট্রিকের মুখ দেখল আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট। সর্বশেষ ২০১১ সালে নটিংহ্যামে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট হ্যাটট্রিক করেছিলেন স্টুয়ার্ট ব্রড। আর দেশের হয়ে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক বোলারের তালিকায় নাম লেখালেন ডানহাতি এই অফ স্পিনার। এর আগে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে পরপর তিনটি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন অলক কাপালি, সেই ২০০৩ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানের বিপক্ষে।

কিন্তু সোহাগ গাজীর ইতিহাস এখানেই সমাপ্তি হয়নি। যেটা শুরু থেকেই বলা হচ্ছে, গাজী সম্পূর্ণ আনকোরা একটি ইতিহাস সৃষ্টি করে বসে আছেন! টেস্ট ক্রিকেটে এক ম্যাচে সেঞ্চুরি এবং পাঁচ উইকেটের কীর্তি আছে ভুরিভুরি। চলমান টেস্টে সোহাগ গাজীরটি নিয়ে মোট ২৯ বার এই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সেঞ্চুরির সাথে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট, তার সাথে আবার হ্যাটট্রিক; এই-ই প্রথম! স্যার গ্যারি সোবার্স, ইয়ান বোথাম, কপিল দেব বা ইমরান খান, বিশ্ব ক্রিকেটের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেওয়া একেকটি নাম। সর্বকালের সের অলরাউন্ডারও এরাই। কিন্তু এই বড় বড় নামগুলোকে সোহাগ গাজী ছাড়িয়ে গেছেন অনন্য রেকর্ডে! এদের কারোরই এই অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটানোর সৌভাগ্য হয়নি।

একই ম্যাচে সেঞ্চুরি+হ্যাট্রিক+৫ উইকেট=সোহাগ গাজী এটা টেস্ট ক্রিকেটের নতুন ও এখন পর্যন্ত একমাত্র সমীকরণ!

এর আগেও সোহাগ গাজী প্রথম শ্রেনীর ম্যাচে সেঞ্চুরি ও হ্যাটট্রিক করেছিলেন, তখন পত্রিকার ম্যাচরিপোর্টে বলা হয়েছিল – ইয়ান বোথাম, গ্যারি সোবার্স, ইমরান খান, কপিল দেব, রিচার্ড হ্যাডলি, ওয়াসিম আকরাম’রা যা করে দেখাতে পারেন নি, তাই করে দেখালেন সোহাগ গাজী। সেই কথাটি ঘুরেফিরে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উচ্চারিত হবে কে ভেবেছিলো!

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...