দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের পর আজ (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা গেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। ফেসবুকে দেওয়া বিবৃতিতে বিএনপি জানিয়েছে যে, আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন- ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইননা ইলাহি রাজিউন।
দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ২৩ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হতেই তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। এই সময় বিভিন্ন স্থানে সমর্থকদের দোয়াসহ নানা কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়।
খালেদা জিয়া জন্ম
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ইস্কান্দার মজুমদার মূলত ফেনীর মানুষ। পরবর্তীতে তিনি জলপাইগুড়িতে চা ব্যবসা করার পর পূর্ববঙ্গে চলে আসেন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর এদেশ হয় পূর্ব পাকিস্তান। এরপরে স্বাধীনতা অর্জন করে নাম হয় বাংলাদেশ। খালেদা দিনাজপুরেই শৈশব কাটান, দিনাজপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন, পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে তিনি ভর্তি হন।
তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় তার ইচ্ছা থেকে নয়, বরং এক অস্থির পরিস্থিতির কারণেই। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে ব্যর্থ সামরিক বিদ্রোহে তার স্বামী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হন। তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে অস্থিতিশীল করে তোলে ও প্রতিষ্ঠাতা ছাড়া বিএনপি গভীর সংকটে পড়ে। রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও, বিএনপির শীর্ষ নেতারা মনে করতেন যে, কেবল খালেদা জিয়াই বিভিন্ন পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারবেন। এর মধ্যেই ১৯৮২ সালে সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে মার্শাল ল’ জারি করেন। এই অস্থির সময়ে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়। একজন বেসামরিক চ্যালেঞ্জার হিসেবে অভিভূত হন তিনি।
১৯৮২ সালে তিনি বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালে ভাইস চেয়ারম্যান হন ও ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। তারপর তিনি তিন দফা নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন। দীর্ঘমেয়াদে শেখ হাসিনার সঙ্গে সমান্তরালে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন তিনি। তার ব্যক্তিজীবনও ছিল বেদনাময়। বড় ছেলে তারেক রহমান ২০০৮ সালে নির্বাসনে চলে যান। আর ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালে মারা যান। ২০১৮ সালে দুর্নীতির এক মামলায় তিনি কারাবন্দি হন। পরবর্তীতে অসুস্থতা এবং নিঃসঙ্গতা তার জীবনকে গ্রাস করে।
প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
১৯৮০-এর দশকে খালেদা এবং শেখ হাসিনার দল যৌথভাবে এরশাদবিরোধী আন্দোলন চালান। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি তার নেতৃত্বে নির্বাচন বর্জন করে। যে কারণে তিনি আপসহীন নেত্রী হিসেবে জনমনে জায়গা করে নেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তার একের পর এক গৃহবন্দি হওয়ার কারণে তার ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও জামায়াতের সমর্থনে সরকার গঠন করে ও খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
তিনি তিন মেয়াদে দেশ পরিচালনা করেন। ১৯৯১-১৯৯৬, ১৯৯৬ সালের স্বল্পমেয়াদী সরকার এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তার সরকার ক্ষমতায় ছিল।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫ 11:08 am
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রথম পাকিস্তানি মিউজিক ভিডিও হিসেবে ইউটিউবে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন)…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নরওয়ের ওসলোতে যাওয়ার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বহনকারী একটি…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাকাশে এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে, যেগুলো প্রথম দেখায় যেন কোনো…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি খাওয়ার প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারেই…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ টেকসই অবকাঠামো, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ…
View Comments
Really great read — I appreciate how clearly you explained the importance of local online presence for businesses today. It's a topic many companies overlook, i find it very interesting and very important topic. can i ask you a question? also we are recently checking out this newbies in the webdesign industry., you can take a look . waiting to ask my question if allowed. Thank you