দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শরীর সুস্থ রাখতে ও হজম স্বাভাবিক রাখতে সবজি ও শাক খাদ্যতালিকায় অপরিহার্য। অনেকেই নিয়মিত ভাতের সঙ্গে সবজি ও শাক খাচ্ছেন, কিন্তু তবুও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে, যা আমাদের বুঝতে হবে।
ফাইবারের পরিমাণ যথেষ্ট না থাকা একটি বড় কারণ। সবজি ও শাকের মধ্যে যেমন ফাইবার থাকে, তেমনি সঠিক পরিমাণে তা না খেলে হজমে তেমন প্রভাব পড়ে না। বিশেষ করে যদি খাদ্য তালিকায় ভাত বা অন্যান্য পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে, তাহলে ফাইবারের কার্যকারিতা কমে যায়। ভাত থেকে সহজে হজমযোগ্য শর্করা বেশি পাওয়া যায়, যা কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়।
পানি খাওয়ার অভাব কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ানোর প্রধান কারণ। ফাইবার হজমে সহায়ক হলেও পানি ছাড়া তা কাজ করে না। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করলে ফাইবার পাকস্থলী ও অন্ত্রে পানি শোষণ করতে পারে না, ফলে মল শক্ত হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। বিশেষ করে শাক-সবজি খাওয়ার সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি না খেলে সমস্যা সমাধান কঠিন।
শারীরিক কার্যক্রমের অভাবও কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য দায়ী। সঠিক খাদ্য খেলে ওজন কমানো ও হজম ভালো রাখা সম্ভব, কিন্তু দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা শারীরিক ব্যায়াম না করলে অন্ত্রের কার্যকারিতা ধীর হয়ে যায়। হাঁটা, ব্যায়াম বা হালকা যোগব্যায়াম অন্ত্রকে সক্রিয় রাখে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।
খাবারের ধরন ও রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। খুব বেশি তেলে ভাজা, দীর্ঘ সময় সিদ্ধ বা প্রক্রিয়াজাত সবজি ফাইবার হারিয়ে দেয়। একইভাবে পাকা বা কলা জাতীয় হাই কার্ব খাদ্যের সঙ্গে শুধুমাত্র হালকা সবজি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমতে অনেক সময় লাগে না।
মানসিক চাপ ও জীবনধারার প্রভাবও উপেক্ষা করা যায় না। স্ট্রেস, ঘুমের অভাব বা অনিয়মিত খাবার পদ্ধতি অন্ত্রের কার্যকারিতা ধীর করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সবজি ও শাক খাওয়ার পরও কোষ্ঠকাঠিন্য কমতে দেরি হয়।
শুধু সবজি ও শাক খাওয়াই যথেষ্ট নয়। কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে প্রয়োজন- পর্যাপ্ত পানি পান, সঠিক পরিমাণে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, শারীরিক কার্যক্রম, সুষম খাদ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন। এই সবকিছুর সমন্বয়ে নিয়মিত সবজি ও শাক ভাতের সঙ্গে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমানো সম্ভব।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ 1:56 pm
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি খাওয়ার প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারেই…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ টেকসই অবকাঠামো, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্যামসাং-এর ফ্যান এডিশন, সংক্ষেপে এফই সিরিজের মূল লক্ষ্য হলো- ফ্ল্যাগশিপ…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার দাবিতে প্রেমনির্ভর…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইজিস সিস্টেম সমৃদ্ধ যুদ্ধজাহাজ…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রকৃতির জগতে এমন প্রাণী রয়েছে, যাদের দেখলে মনে হতে পারে…
View Comments
ketocare You’re so awesome! I don’t believe I have read a single thing like that before. So great to find someone with some original thoughts on this topic. Really.. thank you for starting this up. This website is something that is needed on the internet, someone with a little originality!