দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ইতিহাসে এমন একটি যুদ্ধ আছে যার শুরু হয়েছিল একটি শূকরকে হত্যা করার কারণে। এই ঘটনাটি ঘটে ১৮৫৯ সালে এবং ইতিহাসে এটি পরিচিত Pig War নামে।

সেই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে San Juan Islands নামে একটি দ্বীপের মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। দ্বীপটিতে ব্রিটিশ ও আমেরিকান- দু’দেশের মানুষই বসবাস করত। পরিস্থিতি তখনো পুরোপুরি শান্ত ছিল।
কিন্তু একদিন একজন আমেরিকান কৃষক দেখতে পান যে তার বাগানের আলু একটি শূকর খেয়ে ফেলছে। রাগের মাথায় তিনি শূকরটিকে গুলি করে হত্যা করেন। পরে জানা যায়, সেই শূকরটি ছিল একজন ব্রিটিশ নাগরিকের।
শূকরের মালিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। কিন্তু কৃষক তা দিতে অস্বীকার করেন। এই ছোট ঘটনা দ্রুত বড় রাজনৈতিক সমস্যায় রূপ নেয়।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে উভয় দেশই সৈন্য পাঠায়। যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪৬০ জন সৈন্য পাঠায় এবং ব্রিটেনও কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ পাঠায়।
কয়েক মাস ধরে দ্বীপে হাজার হাজার সৈন্য অবস্থান করলেও আশ্চর্যজনকভাবে কোনো বড় যুদ্ধ হয়নি। শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো- এই পুরো সংঘর্ষে মাত্র একটি প্রাণীই মারা গিয়েছিল, আর সেটি ছিল সেই দুর্ভাগা শূকর।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org