রজোনিবৃত্তির পর শরীরের কী পরিবর্তন আসে?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রজোনিবৃত্তি নারীদের জীবনের একটি স্বাভাবিক জৈবিক ধাপ, যা সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে ঘটে। এই সময় ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং মাসিক চক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Menopause বলা হয়। রজোনিবৃত্তির পর শরীরে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন দেখা দেয়, যা সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

হরমোনের পরিবর্তন সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে শরীরে হট ফ্ল্যাশ (হঠাৎ গরম লাগা), অতিরিক্ত ঘাম, বিশেষ করে রাতে ঘাম হওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। অনেক নারীর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, যা দৈনন্দিন জীবনে ক্লান্তি তৈরি করে।

Related Post

হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ইস্ট্রোজেন হরমোন হাড়কে শক্ত রাখতে সাহায্য করে। এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং Osteoporosis হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ফলে অল্প আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ওজন বৃদ্ধি একটি সাধারণ সমস্যা। রজোনিবৃত্তির পর বিপাক ক্রিয়া (Metabolism) ধীর হয়ে যায়, যার ফলে শরীরে চর্বি জমতে শুরু করে, বিশেষ করে পেটের অংশে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম না করলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ইস্ট্রোজেন হরমোন হৃদস্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। এই হরমোন কমে গেলে Cardiovascular disease হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই এই সময় স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও জীবনযাপন অত্যন্ত জরুরি।

মানসিক পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যায়। অনেক নারী এই সময়ে মুড সুইং, উদ্বেগ, হতাশা বা খিটখিটে মেজাজের সমস্যায় ভোগেন। হরমোনের পরিবর্তন এর একটি প্রধান কারণ। পরিবার ও সামাজিক সহায়তা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়াও, ত্বক ও চুলের পরিবর্তনও দেখা যায়। ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং বলিরেখা বাড়তে পারে। চুল পাতলা হওয়া বা ঝরে পড়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যোনিপথে শুষ্কতা তৈরি হওয়ায় যৌন জীবনে অস্বস্তি হতে পারে।

রজোনিবৃত্তি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও এর পরবর্তী পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে এই সময়টিকে স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকরভাবে পার করা সম্ভব। সচেতনতা ও যত্নই পারে এই পরিবর্তনকে সহজ করে তুলতে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

This post was last modified on এপ্রিল ৬, ২০২৬ 4:16 pm

স্টাফ রিপোর্টার

Recent Posts

ইউটিউবে ১০০ কোটি ভিউয়ের রেকর্ডে ‘পাসুরি’

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রথম পাকিস্তানি মিউজিক ভিডিও হিসেবে ইউটিউবে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন)…

% দিন আগে

রাশিয়ার ড্রোন হামলা থেকে অল্পের রক্ষা পেয়েছে জেলেনস্কির বিমান

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নরওয়ের ওসলোতে যাওয়ার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বহনকারী একটি…

% দিন আগে

শনি গ্রহের দক্ষিণ মেরুতে বিশাল ১০ কোণ!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাকাশে এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে, যেগুলো প্রথম দেখায় যেন কোনো…

% দিন আগে

এমন দৃশ্য আপনি কী আগে কখনও দেখেছেন?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩…

% দিন আগে

ভাতের সঙ্গে ঘি খেলেও কী মেদ কমতে পারে?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি খাওয়ার প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারেই…

% দিন আগে

ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস এ স্বীকৃতি অর্জন করলো এনার্জিপ্যাক

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ টেকসই অবকাঠামো, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ…

% দিন আগে