দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ গ্রীষ্মকাল এলেই তীব্র রোদ, অতিরিক্ত ঘাম, ধুলাবালি ও গরম আবহাওয়ার কারণে ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। অনেকের ত্বক তৈলাক্ত হয়ে যায়, কারও আবার রোদে পোড়া দাগ, ব্রণ কিংবা চুলকানির সমস্যা বাড়ে।
তাই এই সময় ত্বকের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি। কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে গরমেও ত্বককে সুস্থ, সতেজ ও উজ্জ্বল রাখা সম্ভব।
গরমের সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ত্বক পরিষ্কার রাখা। অতিরিক্ত ঘামের কারণে মুখে ময়লা জমে রোমকূপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, ফলে ব্রণ বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। তাই দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার ভালো মানের ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা উচিত। যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তারা অয়েল-ফ্রি ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত মুখ ধোয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হতে পারে।
রোদ থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। গরমে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে এবং ত্বক কালচে হয়ে যেতে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। SPF ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ভালো সুরক্ষা পাওয়া যায়। এছাড়া ছাতা, সানগ্লাস বা টুপি ব্যবহার করলেও রোদের ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব।
গরমে শরীর ও ত্বককে সতেজ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। শরীরে পানির ঘাটতি হলে ত্বক শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি কিংবা ফলের রস খেলে ত্বক ভেতর থেকে ভালো থাকে। তরমুজ, শসা, কমলা ও লেবুর মতো পানিসমৃদ্ধ ফল বেশি খাওয়াও উপকারী।
গ্রীষ্মে ভারী মেকআপ ব্যবহার না করাই ভালো। অতিরিক্ত মেকআপ ঘামের সঙ্গে মিশে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। হালকা ও অয়েল-ফ্রি প্রসাধনী ব্যবহার করলে ত্বক স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই মেকআপ পরিষ্কার করে নিতে হবে।
এই সময় ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক উপাদানও বেশ উপকারী। টক দই, শসা, অ্যালোভেরা বা গোলাপজল ব্যবহার করলে ত্বকে শীতল অনুভূতি আসে এবং রোদে পোড়া ভাব কমে। সপ্তাহে এক বা দুই দিন ঘরোয়া ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বক আরও সতেজ দেখায়।
শুধু বাইরের যত্নই নয়, স্বাস্থ্যকর খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুমও ত্বক ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার কম খেয়ে শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খাওয়া উচিত। নিয়মিত ঘুম না হলে ত্বক ক্লান্ত ও নিষ্প্রাণ দেখাতে পারে।
গ্রীষ্মকালে সামান্য সচেতনতা ও নিয়মিত যত্নই ত্বককে নানা সমস্যা থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই এই গরমে ত্বকের যত্নে অবহেলা না করে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on মে ১৩, ২০২৬ 3:24 pm
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রথম পাকিস্তানি মিউজিক ভিডিও হিসেবে ইউটিউবে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন)…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নরওয়ের ওসলোতে যাওয়ার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বহনকারী একটি…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাকাশে এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে, যেগুলো প্রথম দেখায় যেন কোনো…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি খাওয়ার প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারেই…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ টেকসই অবকাঠামো, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ…