গরমের এই সময় ওজন কমাতে কোন কোন ব্যায়াম করবেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ গরমের সময় ওজন কমানো অনেকের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত ঘাম, ক্লান্তি ও পানিশূন্যতার কারণে অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারেন না।

তবে সঠিক সময়, উপযুক্ত ব্যায়াম এবং কিছু সতর্কতা মেনে চললে গরমেও সহজেই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সকালে বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করা সবচেয়ে ভালো। এই সময় তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে, ফলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে না। দিনের প্রখর রোদ এড়িয়ে চলা উচিত।

হাঁটা

Related Post

গরমের সময় সবচেয়ে সহজ এবং নিরাপদ ব্যায়াম হলো দ্রুত হাঁটা। প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটলে ক্যালোরি কমে এবং শরীর সক্রিয় থাকে। সকালে খালি পেটে হাঁটা হলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।

জগিং ও হালকা দৌড়

যারা একটু বেশি এক্সারসাইজ করতে চান, তারা হালকা জগিং করতে পারেন। তবে খুব বেশি গরমে না দৌড়ানোই ভালো। শরীরের সহনশীলতা অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করুন।

সাইক্লিং

সাইক্লিং একটি কার্যকর কার্ডিও ব্যায়াম। এটি দ্রুত ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে এবং পায়ের মাংসপেশি শক্তিশালী করে। সকালে খোলা পরিবেশে সাইক্লিং করলে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে।

যোগব্যায়াম

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে প্রণায়াম, সূর্য নমস্কার, এবং স্ট্রেচিং শরীরকে ফিট রাখতে সাহায্য করে। এতে অতিরিক্ত ঘাম হয় না, আবার ক্যালোরিও কমে।

স্কিপিং

দড়ি লাফ বা স্কিপিং খুব কম সময়ে বেশি ক্যালোরি বার্ন করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট স্কিপিং করলেই ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে খুব গরমে এটি করার সময় বিরতি নিতে হবে।

হোম ওয়ার্কআউট

যারা বাইরে যেতে চান না, তারা ঘরেই ব্যায়াম করতে পারেন। যেমন—পুশ-আপ, স্কোয়াট, প্ল্যাঙ্ক, মাউন্টেন ক্লাইম্বার ইত্যাদি। এগুলো শরীরের বিভিন্ন অংশের চর্বি কমাতে কার্যকর।

সাঁতার

গরমে সাঁতার একটি আদর্শ ব্যায়াম। এটি শরীর ঠান্ডা রাখে এবং একই সাথে পুরো শরীরের ক্যালোরি বার্ন করে। নিয়মিত সাঁতার ওজন কমাতে খুবই সহায়ক।

সতর্কতা

# পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে
# হালকা ও সুতির পোশাক পরতে হবে
# অতিরিক্ত রোদে ব্যায়াম এড়িয়ে চলতে হবে
# শরীর খারাপ লাগলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম নিতে হবে

গরমের সময় ওজন কমাতে কঠোর ব্যায়ামের চেয়ে নিয়মিত ও পরিমিত ব্যায়াম বেশি কার্যকর। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত পানি পানের সাথে এই ব্যায়ামগুলো মিলিয়ে চললে সহজেই সুস্থভাবে ওজন কমানো সম্ভব।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

This post was last modified on এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 11:23 am

স্টাফ রিপোর্টার

Recent Posts

ইউটিউবে ১০০ কোটি ভিউয়ের রেকর্ডে ‘পাসুরি’

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রথম পাকিস্তানি মিউজিক ভিডিও হিসেবে ইউটিউবে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন)…

% দিন আগে

রাশিয়ার ড্রোন হামলা থেকে অল্পের রক্ষা পেয়েছে জেলেনস্কির বিমান

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নরওয়ের ওসলোতে যাওয়ার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বহনকারী একটি…

% দিন আগে

শনি গ্রহের দক্ষিণ মেরুতে বিশাল ১০ কোণ!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাকাশে এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে, যেগুলো প্রথম দেখায় যেন কোনো…

% দিন আগে

এমন দৃশ্য আপনি কী আগে কখনও দেখেছেন?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩…

% দিন আগে

ভাতের সঙ্গে ঘি খেলেও কী মেদ কমতে পারে?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি খাওয়ার প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারেই…

% দিন আগে

ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস এ স্বীকৃতি অর্জন করলো এনার্জিপ্যাক

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ টেকসই অবকাঠামো, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ…

% দিন আগে