দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে বিশ্বজুড়ে চিপের চাহিদা যে কতটা বেড়েছে, তার নতুন উদাহরণ তৈরি করেছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া।
সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এই আয় শুধু আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি নয়, বরং বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকেও এটি ছাড়িয়ে গেছে।
এনভিডিয়ার ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি এখন আর শুধু গেমিং গ্রাফিক্স নয়। তথ্যকেন্দ্র কিংবা ডেটা সেন্টারে এআই মডেল প্রশিক্ষণ এবং পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতার প্রসেসরই প্রতিষ্ঠানটির আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ প্রান্তিকে ডেটা সেন্টার ব্যবসা থেকে প্রায় ৮৯ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে, যা এক বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অ্যামাজন, মেটা ও গুগলের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণ এই চাহিদার অন্যতম কারণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এনভিডিয়া শুধু বর্তমান বাজারের দিকে তাকিয়ে নেই। প্রতিষ্ঠানটি আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৭০ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশিত বৃদ্ধির হার ছিল এর চেয়ে অনেক কম। অর্থাৎ এনভিডিয়ার ব্যবস্থাপনা মনে করছে, এআই অবকাঠামোতে বিনিয়োগের প্রবণতা আগামী কয়েক বছরেও শক্তিশালী থাকবে। প্রতিষ্ঠানটি একই সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের ‘ভেরা রুবিন’ প্রসেসর ও বৃহৎ এআই কম্পিউটিং অবকাঠামো নিয়ে এগোচ্ছে।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে এআই চিপের ক্রেতাদের বৈচিত্র্য। আগে বড় ক্লাউড কোম্পানিগুলোই প্রধান ক্রেতা ছিল। এখন এআই গবেষণাগার, বিভিন্ন দেশের সরকারি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানিও এই ধরনের প্রসেসরের জন্য প্রতিযোগিতা করছে। ফলে এআই চিপ এখন কেবল প্রযুক্তি পণ্যের উপাদান নয়, বরং অর্থনীতি এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হচ্ছে।
তবে এই সাফল্যের মাঝেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উন্নত এআই চিপ তৈরিতে প্রয়োজনীয় মেমোরি এবং অন্যান্য উপাদানের সরবরাহ সীমাবদ্ধতা উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে। একইসঙ্গে চিপের দাম এবং উৎপাদন ব্যয় বাড়লে মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। চীনের বাজারেও মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কারণে এনভিডিয়ার ব্যবসায় অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এনভিডিয়ার সাম্প্রতিক ফলাফল তাই শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সাফল্যের খবর নয়। এটি আসলে বিশ্ব প্রযুক্তি খাতে এআই বিপ্লবের গভীরতা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আগামী দিনে কম্পিউটার, রোবট, স্বয়ংক্রিয় যান, গবেষণা, চিকিৎসা এবং শিল্পকারখানায় এআই ব্যবহারের বিস্তার যত বাড়বে, ততই উচ্চক্ষমতার চিপের গুরুত্ব বাড়বে। যে কারণে প্রযুক্তি বিশ্বের পরবর্তী প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্র হতে যাচ্ছে এআই চিপ এবং কম্পিউটিং অবকাঠামো।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on আগস্ট ২৭, ২০২৬ 3:14 pm
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে অনেকের শরীরে গাউট কিংবা…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রক্তস্বল্পতা কিংবা অ্যানিমিয়া এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যখন রক্তে পর্যাপ্ত…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্কটল্যান্ডে প্রত্নতাত্ত্বিকদের সাম্প্রতিক এক আবিষ্কার ইতিহাস এবং প্রাচীন মানুষের বিশ্বাস…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ একসময় হৃদরোগকে মূলত বয়স্ক মানুষের সমস্যা হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু…