ইউরিক অ্যাসিডে কোন খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে অনেকের শরীরে গাউট কিংবা গেঁটে বাতের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে পায়ের বুড়ো আঙুল, গোড়ালি, হাঁটু বা অন্যান্য জোড়ায় হঠাৎ তীব্র ব্যথা, ফোলা, লালচে ভাব এবং গরম অনুভূত হতে পারে। ইউরিক অ্যাসিড শরীরের স্বাভাবিক বিপাকীয় প্রক্রিয়ার অংশ হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে জমে গেলে সমস্যা সৃষ্টি করে।

খাবারের মাধ্যমে অতিরিক্ত পিউরিন গ্রহণ ইউরিক অ্যাসিড বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু খাবারই এর একমাত্র কারণ তা কিন্তু নয়; বংশগত প্রবণতা, কিডনির কার্যকারিতা, ওজন, কিছু ওষুধ এবং অন্যান্য শারীরিক অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু খাদ্য পরিবর্তনই নয়, প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শও জরুরি।

Related Post

ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে প্রথমেই কমাতে হবে লাল মাংস। গরু, খাসি এবং অন্যান্য লাল মাংসে পিউরিনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে নিয়মিত এবং বেশি পরিমাণে এইসব খাবার খেলে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে। একইভাবে কলিজা, কিডনি, মগজসহ বিভিন্ন ধরনের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো। এগুলোও পিউরিনসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে পড়ে।

কিছু সামুদ্রিক মাছ এবং সামুদ্রিক খাবারও সমস্যার কারণ হতে পারে। সার্ডিন, অ্যাঙ্কোভি, ম্যাকারেল, হেরিং, কিছু ধরনের টুনা ও শেলফিশে পিউরিন বেশি থাকতে পারে। তাই যাদের গাউটের সমস্যা রয়েছে, তাদের এইসব খাবার নিয়মিত এবং বেশি পরিমাণে খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। তবে মাছের সব ধরনের খাবার একেবারেই নিষিদ্ধ- এমন ধারণা ঠিক নয়। ব্যক্তিভেদে খাবারের প্রতিক্রিয়া ভিন্নও হতে পারে।

অ্যালকোহল, বিশেষ করে বিয়ার, ইউরিক অ্যাসিড এবং গাউটের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। একইসঙ্গে অতিরিক্ত চিনি কিংবা ফ্রুক্টোজযুক্ত কোমল পানীয়, মিষ্টি পানীয় ও কিছু প্রক্রিয়াজাত খাবারও সীমিত করা দরকার। অনেক সময় মানুষ মনে করেন যে, শুধুমাত্র মাংস বাদ দিলেই ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও সমস্যাকে আরও বাড়াতে পারে।

তাহলে কী খাবেন?

খাদ্যতালিকায় বেশি রাখা যেতে পারে শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিন। কম চর্বিযুক্ত দুধ কিংবা দইও অনেকের জন্য উপকারী খাদ্য হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করা ও পানিশূন্যতা এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। ওজন বেশি হলে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর ওজনের দিকেই আসার চেষ্টা করা উচিত; তবে দ্রুত ওজন কমানোর জন্য ‘ক্র্যাশ ডায়েট’ করা মোটেও ঠিক নয়।

ইউরিক অ্যাসিড বেশি পাওয়া মানেই শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ করলে সমস্যা পুরোপুরি চলে যাবে- এমনটি নয়। দীর্ঘদিন ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা, কিডনির কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দরকার হতে পারে। তাই খাবারে সচেতনতা, পর্যাপ্ত পানি, স্বাস্থ্যকর ওজন ও নিয়মিত চিকিৎসা- এই ৪টি বিষয় একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

This post was last modified on আগস্ট ২৩, ২০২৬ 3:42 pm

স্টাফ রিপোর্টার

Recent Posts

এমন সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখলে হৃদয়টা জুড়িয়ে যায়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩…

% দিন আগে

এআই চিপের বাজারে নতুন বিস্ফোরণ!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে বিশ্বজুড়ে চিপের…

% দিন আগে

রক্তস্বল্পতায় করণীয় কী?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রক্তস্বল্পতা কিংবা অ্যানিমিয়া এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যখন রক্তে পর্যাপ্ত…

% দিন আগে

২ হাজার বছর পুরোনো কূপের তলায় মানুষের কঙ্কাল!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্কটল্যান্ডে প্রত্নতাত্ত্বিকদের সাম্প্রতিক এক আবিষ্কার ইতিহাস এবং প্রাচীন মানুষের বিশ্বাস…

% দিন আগে

পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনা ধারা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩…

% দিন আগে

কম বয়সেও হৃদরোগ হানা দিচ্ছে: কিন্তু কেনো?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ একসময় হৃদরোগকে মূলত বয়স্ক মানুষের সমস্যা হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু…

% দিন আগে