দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সূর্যের আলো জীবনের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু সূর্যের অতিবেগনি বা ultraviolet কিংবা UV রশ্মির অতিরিক্ত সংস্পর্শ ত্বক, চোখ এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত UV exposure ত্বকের অকাল বার্ধক্য এবং বিভিন্ন ধরনের skin cancer-এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, অতিরিক্ত UV radiation ত্বকের ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ এবং অতিরিক্ত সূর্যালোক থেকে সুরক্ষা নেওয়া হলে অনেক ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব।
UV রশ্মির প্রধান দুই ধরনের মধ্যে UV-A ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। এটি ত্বকের elasticity কমানো এবং অকাল বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে UV-B ত্বকের উপরিভাগে বেশি প্রভাব ফেলে এবং sunburn বা রোদে পোড়ার প্রধান কারণ। দীর্ঘমেয়াদি অতিরিক্ত UV exposure বিভিন্ন ধরনের ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়।
শুধু গরমের সময় নয়, বছরের বিভিন্ন সময়ই UV radiation-এর বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। বিশেষ করে দিনের মাঝামাঝি সময়ে সূর্যের UV রশ্মি বেশি শক্তিশালী হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর পরামর্শ অনুযায়ী, UV Index 3 কিংবা তার বেশি হলে সূর্য থেকে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সুরক্ষার প্রথম উপায় হলো সম্ভব হলে তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা। বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে ছায়া ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুধু ছায়ায় দাঁড়ালেই পুরোপুরি UV থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায় না, কারণ আশপাশের পানি, বালি বা উজ্জ্বল পৃষ্ঠ থেকেও UV রশ্মি প্রতিফলিত হতে পারে।
পোশাক সূর্যের UV থেকে সুরক্ষার একটি কার্যকর মাধ্যম। দীর্ঘ হাতার পোশাক, শরীর ঢেকে রাখা কাপড় ও প্রশস্ত কিনারাযুক্ত টুপি ব্যবহার করা যেতে পারে। WHO বলছে, ঘন বুননের কাপড় তুলনামূলক বেশি সুরক্ষা দিতে পারে। চোখের সুরক্ষার জন্য UV-A ও UV-B থেকে প্রায় ১০০ শতাংশ সুরক্ষা দেয় এমন wraparound-style sunglasses ব্যবহার করা যেতে পারে।
যেসব ত্বক পোশাকে ঢাকা থাকে না, সেখানে broad-spectrum sunscreen ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে sunscreen ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় রোদে থাকার অনুমতি পাওয়া যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্টভাবে বলছে, সূর্য থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রে ছায়া ও উপযুক্ত পোশাককে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। শৈশব এবং কৈশোরে অতিরিক্ত UV exposure পরবর্তী জীবনে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই শিশুদের বাইরে খেলাধুলা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই; বরং টুপি, উপযুক্ত পোশাক, ছায়া ও প্রয়োজন অনুযায়ী sunscreen ব্যবহার করে নিরাপদে বাইরে থাকার অভ্যাস তৈরি করা উচিত।
ত্বকে নতুন কোনো অস্বাভাবিক দাগ, দীর্ঘদিন না শুকানো ক্ষত, অস্বাভাবিক গুটি, রঙ কিংবা আকৃতিতে পরিবর্তন হওয়া তিল কিংবা বারবার রক্তপাতের মতো পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূর্যের আলো পুরোপুরি এড়িয়ে চলাও প্রয়োজনীয় নয়। বরং লক্ষ্য হওয়া উচিত অতিরিক্ত UV exposure থেকে নিজেকে রক্ষা করা। সচেতনতা, উপযুক্ত পোশাক, ছায়া, UV Index সম্পর্কে ধারণা ও প্রয়োজন অনুযায়ী sunscreen- এই অভ্যাসগুলো ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on আগস্ট ১৯, ২০২৬ 4:22 pm
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে অনেকের শরীরে গাউট কিংবা…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে বিশ্বজুড়ে চিপের…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রক্তস্বল্পতা কিংবা অ্যানিমিয়া এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যখন রক্তে পর্যাপ্ত…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্কটল্যান্ডে প্রত্নতাত্ত্বিকদের সাম্প্রতিক এক আবিষ্কার ইতিহাস এবং প্রাচীন মানুষের বিশ্বাস…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩…
View Comments
I truly appreciate your technique of writing a blog. I added it to my bookmark site list and will