নুহাস পল্লীর প্রতিটি গাছ-পালা, বনরাজি, পখ-পখালি সবাই যেনো এই নন্দিত লেখকের স্পর্ষে আনন্দে-উদ্বেলিত!

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ নুহাস পল্লী যেনো হূমায়ুন আহমেদকে পেয়ে আনন্দিত। নুহাস পল্লীর প্রতিটি গাছ-পালা, সবুজ ঘাস, বনরাজি, পখ-পখালি সবাই যেনো এই নন্দিত লেখকের স্পর্ষে আনন্দে-উদ্বেলিত!

নুহাস পল্লীর লিচু বাগানে চিরনিদ্রায় শায়িত বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে পেয়ে ওখানকার গাছ-পালা সবুজ ঘাস, বনরাজি, পখ-পখালি এলাকার প্রকৃতি-বাতাস সবাই যেনো এতদিন অপেক্ষা করছিল বরেণ্য এই লেখকের অপেক্ষায়। তাইতো এই জাহানের সকলেই যখন চোখের পানি ফেলছে তখন তারা নন্দিত এই লেখককে পেয়ে যেনো আনন্দে আত্মহারা। যেনো তারা তাদের মালিককে পেয়ে দিশেহারা। কারণ একদিন হুমায়ূন আহমেদ তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন গাজীপুরের এই নুহাস পল্লী। এই নুহাস পল্লী ছিল হুমায়ূন আহমেদের প্রাণ। তিনি সেখানে যেতেন আর প্রকৃতির সঙ্গে কথা বলতেন। আর তাইতো নুহাস পল্লীকে গড়ে তুলেছেন এক মায়াবি বনানী রূপে। ওখানে যে যাবেন সেই বুঝতে পারবেন হূমায়ুন আহমেদ কতটা পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছেন এই নুহাস পল্লী। আর তাই সেখানে হূমায়ুন আহমেদ চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ায় যেনো ওই এলাকার গাছরাজি থেকে শুরু করে সবকিছুই যেনো ধন্য ধন্য করছে। কি প্রকৃতির খেলা!

জন্মিলেই মরিতে হইবে-এই চির সত্যটিকে সবাই মেনে নিয়েছেন কিন্তু তারপরও কি সবাই থেমে আছে? নুহাস পল্লীর লিচু বাগানে চিরনিদ্রায় শায়িত বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে তার ভক্ত ও অনুরাগীদের ভিড় লেগেই আছে। মঙ্গলবার ২৪ জুলাই দাফনের পর থেকেই গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে লোকজন দল বেঁধে হুমায়ূন আহমেদের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে আসছেন। বিশেষ করে স্থানীয় পিরুজালী গ্রাম ও আশপাশের এলাকার মহিলারা ভিড় করছেন বেশি। যারা ভিড়ের কারণে ২৪ জুলাই আসতে পারেননি তারাই বেশি এসেছেন। ২৫ জুলাই সকাল থেকে কবরের পাশে কোরআনখানি অনুষ্ঠিত হয়। কবর থেকে খানিকটা দূরে লিচু গাছের বাঁধানো চত্বরে বসে কোরআন তেলাওয়াত করেন স্থানীয় মুসল্লিরা। বিকেলে বৃষ্টি বিলাসের সামনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে দোয়া পরিচালনা করেন স্থানীয় মৌলভী সেকান্দার আলী।

২৪ জুলাই হুমায়ূন আহমেদের লাশে কফিনের সঙ্গে আসা তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, তার পিতা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, মাতা তহুরা আলী এমপি, শাওনের দুই পুত্র নিশাত ও নিনিত, শাওনের বোন সেজুতি ও সিনজনসহ অন্য আত্মীয়-স্বজনরা নুহাশ পল্লীর বাংলোতে রাত কাটিয়েছেন। তাদের সঙ্গে অন্য প্রকাশের স্বত্বাধিকারী মাজাহারুল ইসলামের স্ত্রী, তার দুই সন্তান এবং অভিনেত্রী তানিয়াও তার ছেলে নিয়ে এদিন রাত্রি যাপন করেন নুহাশ পল্লীতে। শাওনসহ তার পরিবারের সদস্যরা আরও কিছুদিন নুহাশ পল্লীর বাংলোতে থাকবেন বলে জানা গেছে।

২৫ জুলাই ভোরে ফজরের নামাজের পর শাওন তার দুই পুত্র ও তার পরিবারের সদস্যরা হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠ করেন। শাওনের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী কোরআনখানি বাদ আসর দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং ইফতারের আয়োজন করা হয়। আশপাশের লোকজন ছাড়াও হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সদস্য বন্ধু-বান্ধব, শুভানুধ্যায়ীরা ইফতারে অংশগ্রহণ করেন। শাওনের পিতা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী জানান, শাওনের পক্ষ থেকে ২৫ জুলাই এসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, তার মা আয়েশা ফয়েজ এবং পরিবারের অন্য সদস্যদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। শাওন কতদিন নুহাশ পল্লীতে থাকবেন এ প্রশ্নের জবাবে শাওনের পিতা জানান, যতদিন শাওনের মনে চায় ততদিনই সে নুহাশ পল্লীতে থাকবে। এটি তার নিজস্ব মনের ব্যাপার।

তবে শাওন তার বাবা, মা ও বোন ছাড়া বুধবার নুহাশ পল্লীতে প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের মা, দুই ভাই, ভাই বৌ এবং প্রথম পক্ষের সন্তান নুহাশ, নোভা ও শিলাসহ কেও আসেননি। এ ব্যাপারে শাওন সাংবাদিকদের বলেন, নুহাশ পল্লী তো আমার নামে বা হুমায়ূন আহমেদের নামে নয়। এটি নুহাসের নামে। তাই এখানে আসতে বাধা কোথায়? তিনি বলেন, আমি হুমায়ূন আহমেদের সব ইচ্ছা পূরণের চেষ্টা করব।

মেহের আফরোজ শাওনের সাত বছর দাম্পত্য জীবনে এই প্রথম দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর কবরের পূর্ব দিকে বহু স্মৃতি বিজড়িত বাংলোতে একাকী রাত্রি যাপন করলেন। ২৪ জুলাই দাফনের পর রাতে হুমায়ূন আহমেদের কবরের পাশে সারারাত একটি হারিকেন জ্বালিয়ে রাখা হয়। ২৪ জুলাই সকাল থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত নুহাস পল্লীতে পুলিশ মোতায়েন ছিল।

২৫ জুলাই ভোরে নুহাসের কর্মচারী মোশারফ হোসেন কবরের অদূরে দাঁড়িয়ে ফজরের আজান দেন। পরে তিনি কবরের চার পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাটি পরিষ্কার করেন। এদিন নুহাস পল্লীতে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থান থেকে এখনও লোকজন আসছে তাদের প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। তারা অনেকেই কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে।

Advertisements
Loading...