The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

১৬ মে নির্ধারণ হবে: তবুও ভারতের নতুন সরকার নিয়ে জরিপ ও সমালোচনার ঝড়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভারতের নতুন সরকার নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। শেষ তক কি হয় তা পরিষ্কারভাবে এখনও কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে বিশ্বের ক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্র আগাম প্রতিক্রিয়ায় ভারতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার কথা বলেছে। অপরদিকে জরিপে মোদি সরকার গঠন করছেন এমন আভাস দেওয়ার পর বিশ্বজুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়।

INDIA-01

গতকাল ভারতে শেষ দফা নির্বাচনের পরদিন সে দেশের গণমাধ্যমগুলো ভোট শেষের আগেই জরিপ প্রকাশ করে রাজনৈতিক এবং পর্যবেক্ষক মহলের সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অনেকেই বলছেন, গত ১৯৯৯ সাল থেকে অনেকটা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই সমীক্ষাগুলো প্রকাশ করা হয়ে আসছে। কিন্তু ফল প্রকাশিত হলে উল্টো চিত্রই দেখা যায় সব সময়। গতকাল মঙ্গলবার দেশের ক্ষমতাসীন জোট ইউপিএর প্রধান দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস সমীক্ষাগুলো সরাসরি নাকোচ করে দেয়। অবশ্য আলোচিত বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টিও (বিজেপি) সেগুলো নাকোচ করে দিয়েছে। তবে তারা এও বলেছে, তাদের জোট এনডিএ ও দল হিসেবে তারা ৩ শতাধিক আসনে এমনিতেই জয়ী হবে। অপরদিকে সমীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গের চিত্রটি সঠিকভাবে উঠেনি বলেও মন্তব্য করেছে অনেকেই। খবর ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের।

এমন এক পরিস্থিতিতে ভারতের নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশেও রয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় না এলে হয়তো বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে বিজেপির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভয়টা একটু বেশি। কারণ মোদি ইতিমধ্যেই নানা ধরনের ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ওটি ছিল মোদির রাজনৈতিক চাল। বাস্তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলেও কোন প্রকার টানা-পোড়েন হবে না। তাছাড়া প্রতিবেশি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের থেকে ভারতই বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকেন এমন মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

INDIA-02

এখন পরিস্থিতি যায়ই হোক না কেনো। ১৬ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো্ গত্যন্তর নেই। জরিপ হোক আর যায়ই হোক আসলে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফলের পরেই কেবল বলা যাবে কে ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন।

INDIA-04

তাছাড়া ২০০৪ ও ২০০৯ সালে ‘এক্সিট পোল’ নামক ভবিষ্যৎ বাণীতে বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ জোটকে এগিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু সেসময় সরকার গঠন করেছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট। এবারও যদি মিডিয়া জরিপের ফল পাল্টে যায় তাহলে বিতর্কিত হবে এসব ‘এক্সিট পোল’।

২০০৯ সালের এক্সিট পোলে বলা হয়েছিল, বিজেপি ও তার মিত্রজোট এনডিএ পাবে ২৪০-২৫০টি আসন। কিন্তু পরে প্রকৃত ফলাফলে দেখা গেলো, তারা পেয়েছিল ১৮৯টি আসন। কংগ্রেস এবং তার নির্বাচনপূর্ব ‘এক্সিট পোল’ সেসময় বলেছিল, মিত্রদের ১৭০-২০৫টি আসন পাওয়ার কথা। কিন্তু তারা আসলে পেয়েছিল ২১৬টি আসন।

INDIA-03

জরিপে কি বলা হয়েছে

ইন্ডিয়া টুডে সিআইসিইআরও জরিপ বলেছে, বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ ২৬১ হতে ২৮৩টি আসন পেতে পারে। অপরদিকে ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ পেতে পারে ১১০ হতে ১২০টি আসন। অন্যান্য দল পেতে পারে ১৫০ হতে ১৬২টি আসন।

অপরদিকে এবিপি-এসিনিয়েলসনের জরিপ বলছে, এনডিএ ২৭টির বেশি এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট ১১০টি আসন পাবে।

টাইমস নাউ ওআরজির জরিপ বলেছে, বিজেপি এককভাবে ২১৮টি ও জোটগতভাবে এনডিএ ২৪৯টি আসন পাবে এবং ইউপিএ ১৪৮টি আসন পাবে বলে তাদেরা জরিপে উল্লেখ করেছে।

ইন্ডিয়া টিভি-সিভোটারের জরিপে বলা হয়েছে, এনডিএ ২৪৯টি, কংগ্রেস ১০১ ও আম আদমি পার্টি (এএপি) ৫টি আসন পেতে পারে। অপরদিকে নিউজএক্স-সিভোটারের এক জরিপে বলা হয়, বিজেপি ২৫১টি আসন এবং ইউপিএ ১০১টি আসন পাবে।

এখন ‘এক্সিট পোল’ বা জরিপ যায়ই বলুক না কেনো প্রকৃত ফলাফলের উপরই নির্ভর করবে সবকিছু। তবে এজন্য সকলকেই অপেক্ষা করতে হবে ১৬ মে পর্যন্ত। কারণ ১৬ মে ভারতের নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করবে ফলাফল। আর তখনই নির্ধারণ হবে আসলে কে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, আর কে হবেন ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...