দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ যুগে যুগে অনেক বিখ্যাত শহর ধ্বংস হয়েছে, কতগুলো হারিয়ে গেছে সাগরের অতলে। ইতিহাসের পাতায় থাকলেও পানির নিচে ডুবে থাকা শহরগুলো অনেকের অপরিচিত। ভারতের শোর মন্দির থেকে শুরু করে আটলান্টিসের মত শহর তলিয়ে গেছে নোনা পানির নিচে। আটলান্টিস খুঁজে পাওয়া না গেলেও সাগরের নিচে অন্য অনেক শহর ডুব দিয়ে রয়েছে যা অভিভূত করবে সবাইকে।
ডায়ান রাজ্যঃ
২০০১ সালে একদল প্রত্নতত্ত্ববিদ চীনের ফুক্সিয়ান হ্রদের তলদেশে ডুবন্ত কতগুলো স্থাপনা আবিষ্কার করেন। খাড়া দেয়াল, টালি পাথর দিয়ে বাঁধানো রাস্তা সহ পুরো একটি শহরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।
প্রায় ৬.৫ কিলোমিটার জুড়ে স্থাপনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। ওখানকার স্থানীয় লোকজন এই স্থাপনা অনেক আগে থেকেই নাকি দেখে আসছিল। এটি নিয়ে অনেক লোককথা প্রচলিত ছিল। পরীক্ষা করে জানা গেছে, এটি ডায়ান রাজ্যের অংশ এবং প্রায় ১,৭৫০ বছরের পুরনো। ধারনা করা হচ্ছে, শহরের একটি অংশ ভেঙ্গে হ্রদে পড়ে গেছে।
ইডিয়ামঃ
জার্মানির উত্তরপশ্চিমে ওয়াডেন সাগরে ডুবে আছে ইডিয়াম। ১৩০০ শতাব্দীর কোন এক সময়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তারপর থেকে বারংবার নির্মাণ করা হলেও সাগরের তাণ্ডবে টিকতে পারেনি শহরটি। ১৪৩৬ সালে এটি সাগরে ডুবে যায়। এখনও পানির উপর থেকে ঝাপসা দেখা মিলে ইডিয়ামের।
পোর্ট রয়ালঃ
জ্যামাইকার সমুদ্র উপকূলীয় শহর ছিল পোর্ট রয়াল। অত্যন্ত খারাপ হিসেবে এর কুখ্যাতি ছিল। এখানটায় জলদস্যুদের অভয়ারণ্য ছিল। এমন কোন খারাপ কাজ নেই যা এখানে হত না। বিধাতার ইশারায় কিনা নিশ্চিত নই, তবে ১৬৯২ সালে ৭.৫ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে পুরোপুরি তলিয়ে যায় শহরটি।
ইয়োনাগুনি-জিমাঃ
সঠিক ইতিহাস বা শহরের নমুনা না থাকলেও জাপানের উপকূলের কাছে পিরামিডসহ বেশ কিছু স্থাপনা সাগরে ডুবে রয়েছে। এই স্থাপনাগুলো আঞ্চলিক ভাবে ইয়োনাগুনি নামে পরিচিত। এগুলোর বিশেষত্ব হল, মানুষের তৈরি কিনা তা এখনও নিশ্চিত হতে পারছে না গবেষকেরা। তবে সাগরের তলদেশ থেকে প্রায় ২৫০ মিটার উঁচু স্তম্ভগুলো দেখলে বিস্মিত হতে হয়।
প্রাচীন দ্বারকাঃ
২০০০ সালে ভারতে আবিষ্কার করা হয় দ্বারকা। ধারনা করা হয়, এটি দেবতা কৃষ্ণের প্রাচীন শহর। পুরাকাহিনী অনুযায়ী, কৃষ্ণের ছিলো এমন এক বিশাল শহর যাতে স্বর্ণ, রৌপ্য এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতু দিয়ে তৈরি ৭০ হাজার প্রাসাদ। কৃষ্ণের মৃত্যুর পর দ্বারকা শহর তলিয়ে যায় সাগরে। আবিষ্কৃত শহরটি বর্তমান দ্বারকা শহর থেকে ১৩১ ফুট নিচে। ডুবন্ত এই শহরের বিভিন্ন নিদর্শন খ্রিষ্টপূর্ব ৭৫০০ সালের। তাই কৃষ্ণের শহরের ধারণা আরো প্রতিষ্ঠিত হয়।
ক্লিওপেট্রার প্রাসাদঃ
মিশরের আলেক্সান্দ্রিয়ায় খুঁজে পাওয়া গেছে রানি ক্লিওপেট্রার প্রাসাদ। এটি প্রায় দেড় হাজার বছর আগে এক ভূমিকম্পে হারিয়ে গিয়েছিল। রহস্যজনক এই রানির রহস্যজনক প্রাসাদের সাথে পাওয়া গেছে দেবী আইসিসের মন্দিরসহ ১৪০টি স্থাপনা।
লায়ন সিটিঃ
প্রায় ৬২ টি ফুটবল মাঠের সমান বিস্তৃত এক নগরী ডুবে আছে পানির তলে। যাতে রয়েছে অসাধারণ সব স্থাপনা। এটি হচ্ছে চীনের লায়ন সিটি। ১৯৫০ সালে ইচ্ছাকৃতভাবে ইহা ডুবিয়ে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য বাঁধ নির্মাণ। তবে লায়ন সিটি ইদানিং চায়নার অন্যতম জনপ্রিয় টুরিস্ট স্পট হয়ে উঠছে।
এই অজানা রহস্য ঘেরা শহর আর স্থাপনাগুলো প্রাচীনকালের ইতিহাস বর্ণনা করে। স্থল থেকে হারিয়ে এগুলো জলে জায়গা করে নিয়েছে। হয়ত কোন একদিন আবারো উঠে আসবে আর বলবে অজানা কোন এক কাহিনী।
This post was last modified on জুন ৩, ২০১৪ 4:52 অপরাহ্ন
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শীতে মধু মাখলে বেশ উপকার পাওয়া যাবে। যে কারণে এই…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আসলে ২০২৫ সালের প্রযুক্তি–দুনিয়া কেমন যাবে, তা নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ফিল্মের মানুষদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অভিযোগে ২০২১ সালে সেন্সর বোর্ড থেকে…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের রাজধানী এনজামেনায় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বোকো হারাম…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাইরাল এক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, হাতির পিঠে দড়ি দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে…