সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ান

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ সমপ্রতি সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক হামলা দেশের সকলকেই ভাবিয়ে তুলেছে। বাংলাদেশ কোন সামপ্রদায়িক দেশ নয়। দেশ স্বাধীনের পর থেকেই সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বজায় রেখে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। সামপ্রতিক সময়ে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা শুরু হয়। দেশের সচেতন সকলকেই সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
সংখ্যালঘু
যে দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না সেরকম ঘটনায় ঘটেছে গত দুই সপ্তাহে। চোখের সামনে পুড়ে ছাই ভিটেমাটি। আগুনে অঙ্গার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। লুট হয়ে গেছে গোলার ধান-আলু ও গৃহস্থালির জিনিসপত্র। লুট হয়েছে স্বর্ণালঙ্কারও। সন্তানের সামনেই মারধর করা হয় মা-বাবাকে। ভাইয়ের সামনে বোন, বোনের সামনে ভাই লাঞ্ছনার শিকার। মন্দিরে আগুন। প্রতিমা ভাংচুর। হামলা করা হয় শ্মশানে। পুজোর পবিত্রতায় সিক্ত হতো যে মন্দির সেখানে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প। নৃশংস আর বিভীষিকাময় একেকটি দিন হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে হয়ে ওঠে নিকষ কালো অন্ধকার। প্রতি মুহূর্তে চরম আতঙ্ক। এ যেন স্বাধীন দেশে পরাধীনতার শৃঙ্খল। বেঁচে থাকার তীব্র আকাক্সক্ষায় বাবা নির্দেশ দিয়েছেন সন্তানকে ‘পালিয়ে’ থাকতে। কিশোরী মেয়েকে পাঠিয়ে দিয়েছেন অন্যত্র। তারপরও তাদের কাটছে না অজানা আতঙ্ক। বর্বর এ হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুদের পাশে দাঁড়ায়নি সরকার। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলার সময় যেমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি, তেমনি হামলার পরও তারা রয়েছেন নিষ্ক্রিয়। জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে বিশ্ববিবেক জেগে উঠলেও সরকারের উদাসীনতা রয়েছে বলে মনে করছে দেশের সচেতন সমাজ। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্‌বান জানিয়েছেন তারা। এ ক্ষেত্রে কোনো শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তারা মনে করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার এ ধরনের বক্তব্যকে রাজনৈতিক বলেও মনে করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কোনো এলাকায় না গিয়ে এ ধরনের বক্তব্যদান কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ অবশ্য মনে করেন, পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

সমপ্রতি যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার পর দেশব্যাপী চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করে জামায়াত-শিবির। দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খর্গ। তাদের বাড়িঘরে লুটপাট ও নির্যাতনের সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি যেন একাত্তরের পাকবাহিনীর নিষ্ঠুরতাকে আরেকবার মনে করিয়ে দেয়। ধর্মীয় সম্প্রীতির বাংলাদেশে রচিত হয় আরেকটি কলঙ্কের ইতিহাস। নাড়া দেয় বিশ্ববাসীর বিবেক। যদিও দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা-নির্যাতনের ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। অনেক এলাকায় জনপ্রতিনিধিরাও তাদের পাশে ছিলেন না। পোড়া ভিটায় অনেকে নীরবে অশ্রুপাত করছেন। অনেকে তাদের বাড়িঘরে অবরুদ্ধ। কেও আবার সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসার জোগাড়। কেও ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়েছেন। কারও মনে উদ্বেগ আর আতঙ্ক, আবার কখন নেমে আসবে হামলা-নির্যাতন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে কক্সবাজারে বৌদ্ধ মন্দির ও বসতিতে নৃশংস হামলা এবং গত কয়েক সপ্তাহে দেশের ২০ জেলায় অন্তত ৫০ মন্দির ও কয়েক হাজার ঘরবাড়িতে হামলা, ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
সংখ্যালঘু-2
অনেকের প্রশ্ন- এবারও কি সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীরা পার পাবে তারা কি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে নাকি তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে জামায়াত-শিবির আবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখালঘুদের টার্গেট করে যে নৃশংস হামলা চালিয়েছে তা প্রকাশের ভাষাও অনেকে হারিয়ে ফেলেছেন। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’- স্বাধীন বাংলাদেশের এই মূল চেতনা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে।

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের তালিকা

সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে যারা দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা-নির্যাতন করেছে তাদের তালিকা করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জামায়াত-শিবিরের যেসব নেতার উস্কানিতে মন্দিরে মন্দিরে হামলা করা হয়, তাদের কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন জামায়াত নেতার নাম গোয়েন্দারা জানতে পারেন, যারা প্রকাশ্যে বক্তব্য রেখে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় ইন্ধন জুগিয়েছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জামায়াত দলীয় সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী প্রকাশ্যে উপস্থিত থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখেন। সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পরপরই তিনি এলাকায় গিয়ে জনসভা করে প্রশ্ন তোলেন, সাঈদীর রায় শোনার পর এলাকার মানুষ কীভাবে তা সহ্য করবে।
Sonkha-0
জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অস্ত্র লাইসেন্স বাতিল

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় ওই এলাকার জামায়াত-শিবিরের যেসব নেতার নামে অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে তা বাতিল করা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারে এরই মধ্যে দেশব্যাপী চিরুনি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, দেশের সব মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে সহিংসতাপূর্ণ বিভিন্ন এলাকার যেসব জামায়াত-শিবির নেতার নামে অস্ত্রের লাইসেন্স ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। নির্যাতিতদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ সরবরাহ করা হয়েছে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছেন, যারা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করে দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অনেক জায়গায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়াও হয়েছে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক আরও বলেন, পুলিশ সদস্যরা নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে। যদি দায়িত্ব পালনে কারও ব্যত্যয় ঘটে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বর্বরতার শেষ কোথায়?

গত দুই সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়। নোয়াখালীতে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘরে আগুন দেয় জামায়াত-শিবির। শুধু স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্রই নয়, পরনের কাপড়ও নিয়ে গেছে তারা। নোয়াখালীর রাজগঞ্জে চারদিকে ধ্বংসস্তূপের ছাপ।

সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও আনোয়ারায় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় জামায়াত-শিবির চালায় নারকীয় তাণ্ডব। এখনও সে তাণ্ডবের রেশ কাটেনি সংখ্যালঘু এসব জনপদে। ৩ মার্চ রাতে মন্দির, শ্মশান ও কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে হামলা চালায় জামায়াত-শিবির। সাতকানিয়ার রূপকানিয়ার খোকননাথ ও যিশুনাথ জানান, ৪ মার্চ রাতে তাদের পাড়ার কালীমন্দিরে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ৫ মার্চ রাতে আনোয়ারার পরৈকোরা ও পূর্বকন্যারা গ্রামে জামায়াত-শিবিরের দুর্বৃত্তরা আগুন দেয় ১৬টি দোকান ও ৮টি বসতঘরে। বাঁশখালী পৌরসভা থেকে এক কিলোমিটার দূরে হিন্দু অধ্যুষিত ধোপাপাড়ায় জামায়াত-শিবির ক্যাডারদের ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার দিন ও এর পরের দিন এ এলাকায় চালানো হয়েছে নৃশংস ধ্বংসযজ্ঞ।

৫ মার্চ রাতে ভোলার বোরহানউদ্দিনে রাইমোহন ডাক্তারবাড়ির জয়কালী মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা। ওই রাতেই কাচিয়া ইউনিয়নের বোরহানগঞ্জে ২৬ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

সরকারের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা প্রতিরোধ ও পরবর্তী সময়ে করণীয় নিয়ে সরকারের উদ্যোগে নানা প্রশ্ন উঠেছে। হামলার সময় অনেক ভুক্তভোগী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে কাছে পাননি। অভিযোগ উঠেছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সাহায্য চাওয়ার পরও তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। সহিংসতার সময় সরকারদলীয় অনেক এমপি নিজ এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ-খবরও নেননি। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়নি খোঁজ-খবর। অনেক এলাকায় আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের কারণে জামায়াত-শিবিরের নৃশংসতা মোকাবেলা করা সম্ভব হয়নি। সাতক্ষীরা এলাকায় জামায়াত-শিবির সংখ্যালঘুদের ওপর তাণ্ডব চালালেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক একবারের জন্যও তার জেলায় যাননি। এমনকি তার নির্বাচনী এলাকায়ও তাকে দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, শিগগিরই তিনি এলাকায় যাবেন। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ৮ দিন পর নোয়াখালীতে যান যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ৯ দিন পর গেছেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ূয়া ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী।

বিশ্বসম্প্রদায়ের উদ্বেগ

বাংলাদেশে চলমান সহিংসতা ও প্রাণহানি এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্বের অনেক দেশ ও ব্যক্তি নিন্দা প্রকাশ করেন। ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ একাধিক দেশ। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও সে দেশের বিরোধী দল হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বাংলাদেশে চলমান সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশবিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের মুখপাত্র জানান, ্তুবান কি মুন উদ্বেগের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং চলমান সহিংসতার ঘটনায় তিনি মর্মাহত।্থ মুখপাত্র আরও বলেন, ্তুআন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার একটি জাতীয় প্রক্রিয়া বলে বিবেচিত। তাই সংশিস্নষ্ট সবার উচিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং সহিংসতা বন্ধ করে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা।্থ

কয়েকদিনের সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন। একই সঙ্গে তিনি উপাসনালয় ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানান। এদিকে চলমান সহিংসতার শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্‌বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-মুখপাত্র প্যাট্রিক ভেন্ট্রেল বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সহিংসতা কখনোই কোনো জবাব হতে পারে না।’ (সৌজন্যে: দৈনিক সমকাল)।

এতোকিছুর পরও মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা আজকের এই স্বাধীন দেশে মেনে নেওয়া যায় না। তাই দেশের সকল সচেতন মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হতে হবে। নইলে জাতি হিসেবে আমাদের যে গৌরব ছিল তা ধুলোয় মিশে যাবে।

Advertisements
Loading...