তরমুজ তো নয় যেনো ‘বিশ’!

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ বাজারে এসেছে তরমুজ-বাঙ্গি। নতুন উঠেছে বলে দামও চড়া। কিন্তু এই তরমুজ আসলে কি তা সঠিকভাবে না জানলে আপনিও খাবেন লোভে পড়ে। কারণ নতুন এই ফলের প্রতি দুর্বলতা আপনার থাকতেই পারে। কিন্তু এই তরমুজ-বাঙ্গিতে আসলে যা মেশানো হচ্ছে তা শুনলে পিলে চমকে যাবে!
Tormuj-000
খোঁজ নিয়ে জানা গেলো ভয়ংকর কাহিনী। তৈরি থেকে শুরু করে পুরো প্রক্রিয়াটিই একটি বিষাক্ত প্রক্রিয়া। এক তরমুজ ব্যবসায়ী জানান, করবেল কোম্পানির বিল্ডর, সিনজানটা কোম্পানির ভলুম প্লাসসহ তিতো, অ্যাডমারের মতো বিষাক্ত সব রাসায়নিক তিনি ব্যবহার করেন তরমুজ উৎপাদনে। বীজ রোপন থেকে শুরু করে ঢাকায় নিয়ে আসার আগ পর্যন্ত এ ধরনের বিষ স্প্রে করেন তিনি। কিন্তু কেন- তার উত্তর বিষ না দিলে পোকামাকড়ে তরমুজ বড় হতে দেবে না, নষ্ট করে ফেলবে। তাতে লোকসান হবে।

ওই ব্যবসায়ী আরও জানান, ১০ বছর আগেও তারা এ ধরনের বিষ ব্যবহার করতেন না। প্রাকৃতিকভাবেই সব তরমুজ উৎপাদিত হতো। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে তরমুজের চাষ শুরু হওয়ার পর বিষ ব্যবহারের পরিমাণ দিনকে দিন বাড়ছে।
বাঙ্গি
জানা যায়, এসব বিষ মেশানো তরমুজে হাত বোলালে নাকি অনুভূত হয়। তরমুজ নাড়লে নাকি মনে হয় হাতে কিছু লেগেছে। এ তথ্য দিয়েছে একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ করে একটি অনলাইন সংবাদ সংস্থা। বাঙ্গিতে উৎপাদন শুরুর সময় তেমন কোন বিষ না দিলেও গাছের পোকা মারার জন্য নাকি এক ধরনের বিষ দেওয়া হয়। তবে এতে নাকি তেমন একটা ক্ষতিকর কিছু হয় না বলে অনেক ব্যবসায়ী দাবি করেন।

একটি সূত্র বলেছে, পটুয়াখালী ও ভোলায় দেশের উৎপাদিত তরমুজের একটি বড় অংশ উৎপন্ন হয়। তাছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চলেও অনেক তরমুজ উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে আগে উৎপাদিত হতো গাড়ো সবুজ রঙের দেশী তরমুজ। যার ভিতরে অতটা লাল হতো না। কিন্তু দিনকে দিন এই সব বিদেশী জাতের ওপর এদেশের ব্যবসায়ীরা নির্ভর করছে। এখন আবার অধীক মুনাফার লোভে এসব বিষ দিচ্ছে তরমুজে। এসব বিষাক্ত তরমুজ খেয়ে ক্যান্সারসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। বিশেষ করে এখন তরমুজের দাম বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা অধীক মুনাফার জন্য দ্রুত পাকাতেও এসব মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর জিনিস ব্যবহার করছে।

প্রতিদিন লাখ লাখ তরমুজ ট্রাকযোগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে এসব তরমুজ। সাধারণ মানুষ না বুঝে টাকা দিয়ে কিনে খাচ্ছে এসব ‘বিষ’- অথচ দেখার কেও নেই!

এ ব্যাপারে এখনই তরিৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করে।

Advertisements
Loading...