বিয়ের আগে ব্লাড গ্রুপ যে কারণে জানতে হবে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিয়ের আগে ব্লাড গ্রুপ যেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি একটি কাজ। বিশেষ কিছু কারণও রয়েছে এই ব্লাড গ্রুপ জানার।

Couple holding hands

আমাদের সমাজে একটি বিষয় প্রচলন রয়েছে আর তা হলো বিয়ের আগে পরস্পরের ব্লাড গ্রুপ জেনে নিতে হবে। বেশিরবাগ মানুষেরই ধারণা বর ও কনের ব্লাড গ্রুপ মিলে গেলে নাকি হতে পারে নানান রকম সমস্যা। আসলেই কি তাই? কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেছেন ধারণাটি একদম ভুল। ব্লাড গ্রুপ মিলে গেলে কোনো রকম সমস্যা নেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিয়ের আগে বর ও কনের ব্লাড গ্রুপ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। কেনো এটা করতে হবে সেটি জেনে নিন।

জরুরি কিছু তথ্য:

প্রথমে আমাদের ব্লাড গ্রুপ সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা দরকার। প্রধানত ব্লাড গ্রুপকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
একটি হলো ABO system (A, B, AB & O)
অপরটি হলো Rh factor {Rh positive(+ve) & Rh negative(-ve)}. অর্থ্যাৎ Rh factor ঠিক করবে ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ হবে নাকি নেগেটিভ হবে।

ব্লাড গ্রুপগুলো হলো:

A+ve, A-ve, B+ve, B-ve, AB+ve, AB-ve O+ve, O-ve. জেনে নেওয়া যাক, যদি অন্য গ্রুপের ব্লাড কারো শরীরে দেওয়া হয় তাহলে কী ঘটবে।

কি কারণে টেস্ট করাবেন?

যখন কোনো Rh নেগেটিভ গ্রুপের ব্যক্তিকে Rh পজেটিভ গ্রুপের ব্লাড দেওয়া হয়, তখন প্রথমবার সাধারণত কোন সমস্যা দেখা যাবে না। কিন্তু এর বিরুদ্ধে রোগীর শরীরে এন্টিবডি তৈরি হবে। যে কারণে রোগী যদি আবার কখনও পজেটিভ ব্লাড শরীরের নেয়, তাহলে তার ব্লাড cell গুলো একেবারে ভেঙ্গে যাবে। দেখা দেবে মারাত্মক সমস্যা। যেমন- জ্বর, কিডনি ফেইলিউর, হঠাৎ মৃত্যু ইত্যাদি নানা সমস্যা। এই সমস্যাকে মেডিকেল টার্ম এ বলা হয়ে থাকে ABO incompatibility।

স্বামী-স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ কেমন হওয়া দরকার?

যদি স্বামীর ব্লাডগ্রুপ যদি নেগেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ অথবা নেগেটিভ যে কোনো একটি হলেই চলবে। কিন্তু স্বামীর ব্লাডগ্রুপ যদি পজেটিভ হয়, সেক্ষেত্রে স্ত্রীকেও পজেটিভ ব্লাড গ্রুপের একজন হতে হবে। কোনোভাবেই স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হওয়া চলবে না। এর অর্থ হচ্ছে, একজন নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের নারী কেবলই একজন নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের পুরুষকে বিয়ে করাই বেশি নিরাপদ।

ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ ও নেগেটিভ হলে কী সমস্যা হবে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রক্তের গ্রুপ মিলে গেলে কোন সমস্যা নেই। তবে ভিন্ন ব্লাড গ্রুপে স্ত্রী যদি নেগেটিভ হয় আর স্বামী যদি পজিটিভ হয়, সেক্ষেত্রে সন্তান জন্মের সময় ‘লিথাল জিন’ বা ‘মারন জিন’ নামে একটি জিন তৈরি হয় যা পরবর্তীতে জাইগোট তৈরিতে বাঁধা সৃষ্টি করে। কিংবা জাইগোট মেরে ফেলে। সেক্ষেত্রে মৃত বাচ্চার জন্ম হয়ে থাকে।

তবে স্বামীর ব্লাড গ্রুপ পজেটিভ হলে সাধারণত বাচ্চার ব্লাডগ্রুপও পজেটিভ হবে। যখন কোনো নেগেটিভ ব্লাডগ্রুপের মা ধারণ করবে পজেটিভ Fetus (ভ্রুন), তখন সাধারণত প্রথম বাচ্চার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু ডেলিভারির সময় পজেটিভ Fetus এর ব্লাড, placental barrier ভেদ করে ও placental displacement -এর সময় মায়ের শরীরে প্রবেশ করবে। মায়ের শরীরে ডেলিভারির সময় যে ব্লাড প্রবেশ করবে, যা ডেলিভারি হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই মায়ের শরীরে Rh এন্টিবডি তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে।

একজন মা যখন দ্বিতীয় সন্তান গর্ভে ধারণ করবে, তখন যদি তার fetus এর ব্লাডগ্রুপ পুনরায় পজেটিভ হয় তাহলে মায়ের শরীরে আগে যে Rh এন্টিবডি তৈরি হয়েছিলো সেটি placental barrier ভেদ করে বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করবে। আর যখন fetus এর শরীরে Rh antibody ঢুকবে তখন fetal -এর RBC -এর সঙ্গে agglutination হবে, যে কারণে RBC ভেঙে যাবে। এটিকে মেডিকেল টার্ম এ ‘Rh incompatibility’ বলা হয়ে থাকে। এতে শিশুটি মারা যাবে।

তাই পজিটিভ ব্লাড গ্রুপের পুরুষ নেগেটিভ গ্রুপের মহিলাকে বিয়ে করলে তাদের একটিই সন্তান থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কোন কারণে প্রথম সন্তানটি জন্ম না নিলে পরবর্তীতে তারা নিঃসন্তান থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়। তাই বিষয়গুলো ভেবে চিন্তে নেওয়া উচিত। অর্থাৎ সম্ভব হলে বিয়ের আগে হবু বর ও কনের ব্লাডগ্রুপ জেনে নেওয়া দরকার।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...