জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়

দি ঢাকা টাইমস ডেস্ক ॥ প্রথম টেস্টে ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় টেস্টে জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-১ এ সমতা এনেছে বাংলাদেশ। ২০০৯ সালের আগস্টের পর এটা বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়, সব মিলিয়ে ৪র্থ জয়।


CRICKET-ZIM-BAN

প্রায় ৪ বছর পূর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-০ তে জয় পাবার আগে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এসেছিলো এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ২০০৫ সালে। আজকের এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট খেলায় উন্নতির একটা চিহ্নও হয়ে থাকলো।

জিম্বাবুয়ের শেষ উইকেট জুটিতে টানা ১১.৩ ওভার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা আর কাইল জার্ভিস বাংলাদেশের জয়ের পথে কাঁটা হয়েছিলেন। কিন্তু চা বিরতির ২০ মিনিট বাকী থাকতেই জার্ভিসকে স্পিন ফাঁদে ফেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

অভিষিক্ত জিয়াউর রহমান প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে তার বোলিংয়ের বিপক্ষে জিম্বাবুয়েকে ভালোই পরীক্ষায় দিতে হয়েছে। মিডিয়াম পেসের সাহায্যে গতকাল ২ উইকেট সংগ্রহের পর শেষ দিনে তৃতীয় সেশনে আবারও ২ উইকেট নিয়ে আঘাত হানেন জিম্বাবুইয়ান শিবিরে, তুলে নেন মোট ৪ উইকেট ৬৩ রানের বিনিময়ে।

জিম্বাবুয়ে প্রথম টেস্টে চমক দেখালেও, দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারেনি। লাঞ্চের পর তারা শুধু পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে, শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫৭ রানে অল আউট হয়েছে।

গতকাল মাসাকাদজা ভাতৃদ্বয় অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়লেও আজ সকালে তাদের জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন আশরাফুল। দিনের প্রথম সেশনে ১৮.১ ওভার পরে শিঙ্গি মাসাকাদজাকে এলবিডব্লিউ আউট করেন আশরাফুল। এর কিছুক্ষণ পরেই সোহাগ গাজীর বলে রবিউলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন এল্টন চিগুম্বুরা। মুতুম্বানি বোল্ড হন জিয়াউর রহমানের বলে, নাসির হোসেনের হাতে ক্যাচ তুলে জিয়াউরের বলেই আউট হয়ে যান গ্রায়েম ক্রিমার। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট তুলে জিম্বাবুইয়ান শিবিরে ত্রাস ছড়ানো রবিউল দ্বিতীয় ইনিংসে একমাত্র উইকেটটি পান কেগান মিথকে এলবিডব্লিউ করে।

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ম্যাচ অফ দ্যা সিরিজের পুরষ্কারটি দখল করেছেন পেসার রবিউল। দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেটের পাশাপাশি প্রথম ম্যাচেও নিয়েছিলেন ৯ উইকেট। সেই সাথে গড়লেন প্রথম কোনো বাংলাদেশী পেসার হিসেবে পুরো সিরিজে ১০০ ওভারের বেশী বোলিং করার অনন্য দৃষ্টান্ত। এর আগে রেকর্ডটি ছিলো খালেদ মাহমুদের, ২০০৩ সালে তিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৯৯ ওভার বোলিং করেছিলেন। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হয়েছেন দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৭ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করা মুশফিকুর রহিম।

এটা ছিলো বাংলাদেশের জন্য মর্যাদার টেস্ট সিরিজ। প্রথম ম্যাচে কিছু ভুল এবং বাজে আম্পায়ারিংয়ের শিকারে বড় ব্যবধানে হারলেও, দ্বিতীয় ম্যাচে তারা দূর্দান্ত ভাবে ফিরে এসেছে। যদিও বাজে আম্পায়ারিং পিছু ছাড়েনি এখানেও।

তবে বাজে আম্পায়ারিং ছাড়াও এই টেস্ট সিরিজ স্মরণীয় হয়ে থাকবে রবিউলের অসাধারণ বোলিং এবং শেষ ম্যাচে দুই ইনিংসেই মুশফিকুরের অধিনায়োকোচিত ব্যাটিং এর জন্য। দ্বিতীয় ম্যাচের দুই ইনিংসেই হাফ সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৪ উইকেট নিয়ে ফর্ম ধরে রাখার ইঙ্গিতই দিলেন দলের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। নাইটওয়াচম্যান নাসির হোসেনও দুই ইনিংসে বিপদজনক সময়ে ফিফটি করে বুঝিয়ে দিয়েছেন দলে তার অপরিহার্যতা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৩৯১ (সাকিব ৮১, নাসির ৭৭, নাসির ৭৭; চিগুম্বুরা ৩/৭৫) মুশফিক ৬০ ও ২৯১/৯ ডিক্লে. (তামিম ৭, জহুরুল ২, আশরাফুল ৪, মমিনুল ২৯, সাকিব ৫৯, মুশফিক ৯৩, নাসির ৬৭*, জিয়া ০, সোহাগ ১১, সাজেদুল ৪, রবিউল ৪*; শিঙ্গিরাই ৪/৫৮, হ্যামিল্টন ৩/২৪, ক্রেমার ১/৭০, জার্ভিস ১/৮০)।

জিম্বাবুয়ে: ২৮২ (চিগুম্বুরা ৮৬, মুতুমবামি ৪২; রবিউল ৫/৮৫, সোহাগ ৪/৫৯) ও ২৫৭ (সিবান্দা ৩২, চাকাবভা ২২, হ্যামিল্টন ১১১*, টেইলর ১০, ওয়ালার ১৫, শিঙ্গিরাই ২৪, চিগুম্বুরা ২, মুতুমবামি ১২, ক্রেমার ৩, মেথ ৪, জার্ভিস ৭; জিয়া ৪/৬৩, সাকিব ৩/৫২, আশরাফুল ১/১৩, রবিউল ১/৫৩, সোহাগ ১/৫৬)।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...