প্রেমের কারণেই এটি সম্ভব: বস্তির বর আর বিদেশি বধূ!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পৃথিবীতে প্রেমের কারণে অনেক অসম্ভব সম্ভব হয়ে ওঠে। প্রেম কখনও কোনো কিছুর বাছ-বিচার করে না। প্রেমের কারণে রাজা হয় ফকির এমন ঘটনাও বিচিত্র নয়। এমনই এক প্রেমের কাহিনী এটি।

foreign bride and groom slum

পৃথিবীতে অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও সেই প্রেমের সত্যতা এখনও বিদ্যমান। অর্থাৎ সত্যিকারের ভালোবাসা এখনও হারিয়ে যায়নি। আর তাই এখনও বিভিন্ন সময় সত্যিকারের ভালোবাসার প্রমাণ পাওয়া যায়। সেরকম এক প্রেমের ঘটনা অবলম্বনে আমাদের আজকের প্রতিবেদন।

কাহিনীটি হলো আমেরিকান ৪১ বছর বয়সী নাগরিক এমিলিকে নিয়ে। তার ভারতের আহমেদাবাদের বস্তীতে বসবাস করা ২৩ বছর বয়সী হিতেশ চাওরার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক জড়িয়ে যায়। ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের একে-অপরের পরিচয় ঘটে, যা এক সময় গভীর প্রেমে পরিণত হয়।

এই দুই প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে বিশাল সমস্যা ছিল তাদের একে-অপরের ভাষা নিয়ে। তবে গুগল ট্রান্সলেটরের কারণে তাদের এই সমস্যার সমাধান হয়েছে।

ইন্ডিয়া টাইম্‌সকে হিতেশ জানান, তিনি এমিলির ইংরেজি কথা সব সময় হিন্দিতে রূপান্তরিত করে বুঝে নিতেন। তারপর তিনি আবার নিজের ভাষা গুগলের মাধ্যমে ইংরেজিতে রূপান্তরিত করে তাকে বার্তা পাঠাতেন। আর এভাবেই তাদের ভালোবাসা চলতে থাকে।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, এমিলি মন্টানায় একজন স্বাস্থ্য সেবিকা হিসেবে কাজ করেন। সেই সুবাদে তিনি ভারতে ভ্রমণ করতে আসেন। ভারতে এসে হিতেশের সঙ্গে দেখা করেন এবং সেদিনই ভারতীয় রীতিতে বিয়ে করেন হিতেশকে।

প্রথমে এই বিয়ে মেনে নিতে চায়নি হিতেশের পরিবার। তবে তাদের একে-অপরের প্রতি ভালোবাসা দেখে তারা শেষ পর্যন্ত আর কিছু বলতে পারেননি।

সংবাদ মাধ্যমকে হিতেশ জানান, এমিলির সাধারণ জীবন জাপন প্রণালী দেখে তিনি এমিলির প্রতি আরও বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছেন। এমিলির ভালোবাসায় তিনি সত্যিই মুগ্ধ। তারজন্য এমিলি এখন ভারতীয় রান্না শিখা শুরু করেছেন!

এমিলি বলেছেন, হিতেশ কখনও তার কাছে কোন কিছু লুকায়নি। যে কারণে তিনি তাকে এতো ভালোবাসেন। তার সরলতার কারণে তিনি এতদূর পাড়ি জমিয়েছেন।

প্রেমের টানে বিভর এই দম্পতি খুব শীঘ্রই আমেরিকা ভ্রমণে যাবেন। তারপর তারা আবার ফিরে এসে ভারতেই বসতি গড়বেন নিজেদের।

Advertisements
Loading...