The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

আমিরাতের ঐতিহাসিক আল বিদিয়া মাটির মসজিদ

আমিরাতের ফুজিরা প্রদেশের আল বিদিয়া মাটির এই মসজিদটি দেশটির ঐতিহাসিক ও প্রাচীন অন্যতম নিদর্শন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। শুক্রবার, ২৬ মে ২০১৭ খৃস্টাব্দ, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৯ সাবান ১৪৩৮ হিজরি। দি ঢাকা টাইমস্ -এর পক্ষ থেকে সকলকে শুভ সকাল। আজ যাদের জন্মদিন তাদের সকলকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা- শুভ জন্মদিন।

আমিরাতের ঐতিহাসিক আল বিদিয়া মাটির মসজিদ 1

যে ছবিটি আপনারা দেখছেন সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আল বিদিয়া মাটির মসজিদ।

আমিরাতের ফুজিরা প্রদেশের আল বিদিয়া মাটির এই মসজিদটি দেশটির ঐতিহাসিক ও প্রাচীন অন্যতম নিদর্শন। ফুজিরাহ শহর হতে ৫০ কিলোমিটার উত্তরে আল বিদিয়া নামক স্থানে এই মসজিদটি অবস্থিত। অনেকের ধারণা, মসজিদটি প্রায় ৬শ’ বছর পূর্বে ৫৩ বর্গমিটার (৫৭০ বর্গফুট) আয়তনজুড়ে নির্মিত হয় এই ঐতিহাসিক মসজিদটি।

জানা যায়, ১৯৯৭-৯৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় ফুজিরাহ প্রত্নতাত্ত্বিক কেন্দ্র দ্বারা মসজিদটির নির্মাণকাল নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান করা হয়। সে হিসেবে ধারণা করা হয় যে, এটি ১৪৪৬ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়েছে। তবে অনেকের ধারণা, ইসলাম প্রচারের জন্য এই অঞ্চলে আগত কয়েকজন সাহাবা হাজার বছর আগে পাহাড় কেটে এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।

মসজিদটির পুরোটাই মাটি এবং পাথরের তৈরি। চারপাশের দেওয়াল ছাড়াও একটি মাত্র মাটির পিলারের উপর ভর করে রয়েছে ৬শ’ বছরেরও পুরনো এই প্রাচীন মসজিদটি। কাঁচা মাটি দ্বারা পলেস্তরার স্তর দেওয়া আছে এই মসজিদটির দেওয়ালে। বিভিন্ন সময় সংস্কার করা হলেও বর্তমানে দেওয়ালের কিছু কিছু জায়গা হতে পলেস্তরার স্তর খসে পড়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে কয়েকবার দেওয়ালের রংও পরিবর্তন করা হয়। মসজিদটিতে প্রার্থনা কক্ষের মধ্যে কোনো জানালা নেই। তবে বাতাস আসা-যাওয়ার জন্য মূল ফটকের ওপর কিছুটা অংশ প্রায়ই খোলা রয়েছে। আলো আসার জন্য রয়েছে ছোট ছোট কয়েকটি ফাঁকা স্থানও।

এই মাটির তৈরি মসজিদের ছাদে ভিন্ন রকমের ৪টি গম্বুজ, প্রার্থনা কক্ষের ভেতরে ছোট মিহরাব এবং একটি মিম্বার, মসজিদের সামনে একটি পানির কূপ এবং পেছনে রয়েছে দুটি দুর্গ। ভেতরের দেওয়ালে কোনো কোনো অংশে সাধারণ কারুকার্যও করা রয়েছে। কোরআন শরীফ রাখার জন্য দেওয়ালের চারপাশে ঘনক আকৃতির বক্সও করা। মসজিদের ভেতরে কিছু কোরআন শরিফ, কয়েকটি বাতি, দুটি এসি, মাইক, একটি দেওয়ালঘড়ি এবং একটি বিদ্যুৎচালিত পাখাও রয়েছে। তা ছাড়া এখানে রয়েছে একটি অতি প্রাচীন বরই গাছ।

জানা গেছে, ২০০৩ সালের মার্চে দুবাই মিউনিসিপ্যালিটি নিজস্ব অর্থায়নে পুরনো নিদর্শন ছাড়াও মসজিদের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং পর্যটকদের সুবিধার্থে নির্মাণ করেছে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক অজুখানা, বিশ্রামের জন্য পৃথক কক্ষ, দুর্গে যাতায়াতের জন্য পাথরের সিঁড়ি ইত্যাদি। সীমানা প্রাচীরসহ মসজিদের পাশে তৈরি করা হয়েছে একটি বাগানও। এখানে রয়েছে দুটি দোকানঘরও। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় দিবসে আমিরাতের ঐহিত্যবাহী জিনিসপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এখানে। ফুজিরাহসহ পুরো আমিরাতের অনত্যম দর্শনীয় স্থানও এটি। প্রতিদিন আল বিদিয়া মসজিদ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন দেশ হতে আগত পর্যটকদের ভিড়ে থাকে মুখরিত।

উল্লেখ্য, হাফেজ আহাম্মদ নামের একজন বাংলাদেশী প্রবাসী রয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদে ১০ বছর ধরে তিনি ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ির বাসিন্দা বলে সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায়।

ছবি ও তথ্য: http://www.kalerkantho.com এর সৌজন্যে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...