ভারতকে মিসাইল ড্রোন পাঠাচ্ছে ইসরায়েল! যুদ্ধের দামামা কী আরও বাড়বে?

গোটা বিশ্ব যেনো উত্তপ্ত অবস্থায় নিপতিত হয়েছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ যুদ্ধ নয় শান্তি চাই। এই কথাটি এখন বলা যায়, কথার কথা মাত্র। কারণ সমগ্র বিশ্ব জুড়েই যেনো চলছে যুদ্ধের দামামা। বিশেষ করে পারমানবিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো এই দামামা আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। চীনের যুদ্ধ জাহাজের মহড়া, ভারতকে ইসরায়েলের মিসাইল ড্রোন, উত্তর কোরিয়ার শক্তি প্রদর্শন ইত্যাদি যেনো যুদ্ধকেই আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে!

গোটা বিশ্ব যেনো উত্তপ্ত অবস্থায় নিপতিত হয়েছে। শান্তির সুবাতাস কোথায় যে উবে গেছে তা বোঝা মুশকিল। এমনই এক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে বিশ্ব। সাম্প্রতিক সময় উত্তর কোরিয়ার বিষয়টি বিশ্ব বাসীকে নাড়া দেয়। যেনো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের অশনি সংকেত দিয়েছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনায় সাম্প্রতিক সময় দু’দেশের মধ্যে যে কোনো মুহূর্তে যুদ্ধ বেধে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া সামরিক শক্তিমত্তায় কতক্ষণ টিকে থাকবে তা নিয়ে যদিও প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সংখ্যার দিক থেকে উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী অনেক বড় ও খুবই কার্যক্ষম একটি বাহিনী। কর্মক্ষমতার দিক থেকে এই সেনাবাহিনীর অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম স্থান। এছাড়া দেশটির প্রধান নেতা কিম জং উনের মধ্যে অস্থির ও আক্রমণাত্মক স্বভাবও বিদ্যমান। পারমাণু বোমা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময় বেশ আলোচনায় চলে আসেন কিম।
হঠাৎ করে চীন এক যুদ্ধজাহাজের মহড়া করে যেনো জানান দিলো যে তারা প্রস্তুত রয়েছে। বিশ্ববাসী সেই দৃশ্য দেখলো সংবাদ মাধ্যমে। বিশ্বকে যেনো আবারও একবার নাড়া দিলো যুদ্ধ আশংকার।

অবশেষে ভারতের হাতে আসতে চলেছে ইসরায়েলের মিসাইল ড্রোন। জানা গেছে, ১০টি ড্রোন পাঠাচ্ছে ইসরায়েল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফরের পর সেই পথ সুগম হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মোট ৪০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলের ওই ১০টি ড্রোনের সব ক’টি এতোটাই শক্তিশালী যে তা শত্রুকে খুঁজে তার ঘাঁটিতে আক্রমণ করে তাদের গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম! প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ভারত তাদের বেশিরভাগ অস্ত্র ইসরায়েলের থেকে ক্রয় করে, আর ইসরায়েলও নরেন্দ্র মোদীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-তে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। ২০১৫ সালেই এইসব মিসাইল ড্রোন ভারতে আসার কথা থাকলেও নানা কারণে দেরি হয়েছে। অবশেষে ২০১৭ সালে ভারতে আসতে চলেছে এই মিসাইল ড্রোনগুলো।

জানা গেছে, এই ড্রোন যে কোনো এলাকার উপর টানা ৩০ ঘণ্টা চক্কর দিতে পারে। ৪৫০০০ ফুট উচ্চতা হতে পাঠাতে পারে ‘লাইভ’ ছবিও। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালকবিহীন এই ড্রোন ঘাঁটি হতে বহু দূরে গিয়েও নজরদারি চালাতে পারে। কারণ কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরবর্তী এলাকার আকাশে ভাসতে ভাসতে এই মিসাইল ড্রোন নিজের সদর দফতরে তথ্য এবং ছবি পাঠাবে। ভারতের পার্শ্ববর্তী চীন এবং পাকিস্তানের ভেতরে বহু দূর পর্যন্ত খুব সহজে নজর রাখতে এই ড্রোন অত্যন্ত কার্যকরী হবে বলে মনে করছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে এর ক্ষমতা যায়ই হোক না কেনো এটি যে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিবে না সেটি বলা যায়। বরং পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোকে আরও চিন্তার মধ্যে ফেলবে তাতে সন্দেহ নেই। সকলের মধ্যে শান্তির চিন্তা আসুক এবং বিশ্বব্যাপী শান্তির সুবাতাস বহমান হোক সেটিই এখন একমাত্র প্রত্যাশা।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...