নোয়াখালীর ঐতিহাসিক বজরা শাহী মসজিদ

মোগল জমিদার আমান উল্লাহ খান ১১৫৩ হিজরি সালে নোয়াখালী জেলার বজরায় এই শাহী মসজিদটি নির্মাণ করেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। শুক্রবার, ৪ আগস্ট ২০১৭ খৃস্টাব্দ, ২০ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরি। দি ঢাকা টাইমস্ -এর পক্ষ থেকে সকলকে শুভ সকাল। আজ যাদের জন্মদিন তাদের সকলকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা- শুভ জন্মদিন।

যে ছবিটি আপনারা দেখছেন সেটি দিল্লি জামে মসজিদের আদলে নির্মিত নোয়াখালীর বজরা শাহী মসজিদ। এটি একটি ঐতিহাসিক মসজিদ।

দিল্লির বিখ্যাত শাহী জামে মসজিদের অনুকরণে মোগল জমিদার আমান উল্লাহ খান ১১৫৩ হিজরি সালে নোয়াখালী জেলার বজরায় এই শাহী মসজিদটি নির্মাণ করেন।

এক তথ্যে জানা যায়, জমিদার আমান উল্লাহ তাঁর বাড়ির ঠিক সামনে ৩০ একর জমির ওপর উঁচু পাড়যুক্ত একটি বিশাল দিঘি খনন করেন। এই দিঘির পশ্চিম পাড়ে মনোরম পরিবেশে আকর্ষণীয় তোরণবিশিষ্ট প্রায় ১১৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৭৪ ফুট প্রস্থ এবং প্রায় ২০ ফুট উঁচু তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই ঐতিহাসিক মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদের ভিত্তি সুদৃঢ় করার জন্য মাটির প্রায় ২০ ফুট নিচ হতে ভিত তৈরি করা হয়। সুদৃশ্য মার্বেল পাথর দিয়ে গম্বুজগুলো সুশোভিত করা হয়েছে। এই মসজিদটিতে প্রবেশের জন্য রয়েছে ৩টি ধনুকাকৃতির দরজা। আবার মসজিদের প্রবেশপথের ওপর রয়েছে কয়েকটি গম্বুজ। পশ্চিম দেওয়ালে রয়েছে ৩টি কারুকার্য খচিত মিহরাব। এই মসজিদ নির্মাণের ১৭৭ বছর পর ১৯০৯ সালে এটি মেরামত করা হয়।

এই মসজিদের পূর্ব দিকে রয়েছে বিরাট তোরণ। তোরণের দোতলার ওপর রয়েছে মনোরম উঁচু মিনা। মসজিদটির সৌন্দর্য এবং অলংকরণের জন্য চীনা গ্লাস কেটে মসজিদের গায়ে বসানো হয়। ১৯১১ হতে ১৯২৮ সালের মাঝামাঝি সময়কালে আমানুল্লাহর বংশধর আলী আহমদ এবং মুজিব আলদিন বজরা মসজিদের অভ্যন্তরভাগ আবারও অলংকরণ করেন। এমন কারুকার্যময় মসজিদ দিল্লি ছাড়া বাংলাদেশের কোথাও নেই বলে জানা গেছে।

জানা যায়, বাদশাহর আগ্রহে মক্কা শরীফের বাসিন্দা তৎকালীন অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুজুর্গ হজরত মাওলানা শাহ আবু বকর সিদ্দিকী (রহ:) এই মসজিদের প্রথম ইমামের দায়িত্ব পালন করেন।

জানা যায়, স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৯৮ সালের ২৯ নভেম্বর সরকারি গেজেটে মসজিদটিকে প্রত্নসম্পদ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...