একাত্তরের কালরাতের স্মরণে আজ এক মিনিট অন্ধকারে থাকবে সারাদেশ

রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত জরুরি স্থাপনা ছাড়া সারাদেশে প্রতিকী ‘ব্ল্যাক আউট’ থাকবে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ একাত্তর স্মরণে আজ এক মিনিট অন্ধকারে থাকবে সারা দেশ। রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত জরুরি স্থাপনা ছাড়া সারাদেশে প্রতিকী ‘ব্ল্যাক আউট’ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতের প্রথম প্রহর স্মরণ করে গণহত্যা দিবসে আজ ২৫ মার্চ এক মিনিট অন্ধকারে (ব্ল্যাক-আউট) থাকবে পুরো দেশ। রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত জরুরি স্থাপনা ছাড়া সারাদেশে প্রতিকী ‘ব্ল্যাক আউট’ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

একাত্তরের সেই ভয়াল কালরাতে নিহতদের স্মরণে সারাদেশে এক মিনিট সব ধরনের বাতি বন্ধ রাখার কর্মসূচি নিয়েছে বর্তমান সরকার। গত ১১ মার্চ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গণহত্যা দিবসে ১ মিনিট বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখাসহ দুটি দিবস পালনে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সব মন্ত্রণালয় এবং বিভাগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে ওই সভার কার্যপত্র পাঠানো হয়।

জানা গেছে, ১ মিনিট ব্ল্যাক আউটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, গণযোগাযোগ অধিদফতর, জেলা প্রশাসক (সকল) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (সকল)।

গণহত্যা দিবস পালনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী ওই সভায় বলেন যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক ভয়াবহ রক্তাক্ত ইতিহাসের দিন। সেই কালরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কাপুরুষের মতো রাতের অন্ধকারে পাশবিক হিংস্রতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর। পাকিস্তানী সামরিক শাসক ইয়াহিয়ার নির্দেশে, জেনারেল টিক্কা খানের নেতৃত্বে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে সামরিক অভিযান সংঘটিত হয় ইতিহাসের জঘন্যতম নারকীয় গণহত্যা। অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে এই দিন শুধু আমাদের কাছেই নয়, বিশ্বের গণহত্যার ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ এবং স্মরণযোগ্য দিন। একদিনে এত মানুষ হত্যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বর্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরস্ত্র এবং ঘুমন্ত বাংলাদেশীদের ওপর যে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তাকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করছে বাংলাদেশ। গত বছর প্রথম গণহত্যা দিবস পালিত হয়। আন্তর্জাতিকভাবেও এই দিবসের স্বীকৃতি আদায়ের কার্যক্রম নেওয়ার জন্য গত বছরের ১১ মার্চ সংসদে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ মার্চ জাতীয়ভাবে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা হয়।

এবার গণহত্যা দিবসে গণহত্যার ওপর দুর্লভ আলোকচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী হবে। সারাদেশে ২৫ মার্চ রাতে নিহতদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা হবে। এছাড়া আলোচনা সভা, গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গীতিনাট্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েেছে।

Advertisements
Loading...