কে এই রাধা বিনোদ পাল?

তিনি আন্তর্জাতিক আদালতের একজন বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রাধা বিনোদ পাল একজন মহান বাঙ্গালী তবুও আমরা অনেকেই তাকে চিনি না কিন্তু জাপানিরা তাকে এত সম্মান করেন কেন?

কালের বিবর্তনে আজ আমরা অনেক মনিষীকে ভুলে গিয়েছি। বিশ্ববাসী আজ যে সকল মহান ব্যক্তিদের কারণে আমাদের দেশকে স্বরণ করে রেখেছে, রাধা বিনদ পাল তার মধ্য একজন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মহান ব্যক্তিরা খুব কম রয়েছে। আমরা অনেকেই হয়ত জানি না আমাদের দেশে এমন একজন মহান ব্যক্তি ছিল যিনি আন্তর্জাতিক আদালতের একজন বিচারপতি ছিলেন। যিনি জাপানিদের কাছে একজন মহান ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত

কে এই রাধা বিনোদ পাল?

১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ২৭ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের, মৌজা সালিমপুরের অধীন তারাগুনিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তার জন্ম। বর্তমানে গ্রামটি জজ পাড়া নামে পরিচিত। তার পিতার নাম বিপিন বিহারি পাল। পিতা মাতার আদরে তিনি গ্রামের শস্য- শ্যামলা পরিবেশে ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠেন।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের গোলাম রহমান পণ্ডিতের কাছে তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি। কুষ্টিয়া হাইস্কুল থেকে তিনি মাধ্যমিক পাশ করেন। ১৯২০ সালে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ও ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে আইনে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি ১৯১৯-২০ সালে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। তারপর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে অধ্যাপনা করেন। পরে কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৯৪১-৪৩ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৪৩-৪৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব রাধা বিনোদ পালের সুখ্যাতি শুধু পাকিস্তান-ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪৬-৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জাপানের রাজধানী টোকিও মহানগরে জাপানকে যুদ্ধাপরাধী সাব্যস্ত করে যে বিশেষ আন্তর্জাতিক সামরিক আদালতে বিচার হয়, তিনি ছিলেন সেই আদালতের অন্যতম বিচারপতি। তিনি তাঁর ৮০০ পৃষ্ঠার যৌক্তিক রায় দিয়ে জাপানকে “যুদ্ধাপরাধ”-এর অভিযোগ থেকে মুক্ত করেন। এ রায় বিশ্বনন্দিত ঐতিহাসিক রায়ের মর্যাদা লাভ করে।

এই রায় জাপানের বিপক্ষে গেলে জাপানকে আন্তর্জাতিক ভাবে সমস্ত দেশের সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন করা হত এবং বিভিন্ন শাস্তি ভোগ করতে হত। এই মহান রায়ের কারণে তিনি জাপান-বন্ধু ভারতীয় খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৬৬ সালে নিহোন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রাধাবিনোদ পালকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করা হয় । তিনি জাপান সম্রাট হিরোহিতের কাছ থেকে জাপানের সর্বোচ্চ সম্মানীয় পদক ‘কোক্কা কুনশোও’ গ্রহণ করেছিলেন। জাপানের রাজধানী টোকিও তে তার নামে রাস্তা এবং কিয়োটো শহরে তাঁর নামে রয়েছে জাদুঘর ও স্ট্যাচু।

এই মহান ব্যক্তি ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দের ১০ই জানুয়ারি কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মানুষের মৃত্যু একটি স্বাভাবিক ঘটনা কিন্তু তার কর্ম এবং সুখ্যাতির জন্য সবাই তাকে আজীবন স্বরণ করে।

Advertisements
Loading...