কিভাবে ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্ধারণ করা হয়

ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্ধারণের রহস্য

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রতি বছর পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল ঘুর্ণিঝড়ের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এই সকল ঘূর্ণিঝড়্গুলোর আবার ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে ঝড়ের আবার ভিন্ন ভিন্ন নাম কেন?

ঝড় এমন একটি নাম যা শুনলেই কেমন যেন ভয় অনূভব হয়। একবার যারা কোন মারাত্বক ঝড়ের কবলে পড়েছেন তাদের কাছে তো আরোই ভয়ানক ব্যাপার। ঝড়ে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় সমুদ্রের নিকটবর্তী অঞ্চলের মানুষগুলো। প্রতি বছর পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল ঘুর্ণিঝড়ের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এই সকল ঘূর্ণিঝড়্গুলোর আবার ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে ঝড়ের আবার ভিন্ন ভিন্ন নাম কেন? ঝড় তো ঝড় ই । এর আবার নাম দেওয়ার প্রয়োজন কী? এই সকল নাম গুলো কেন দেয়, কারা নাম গুলো নির্ধারন করে, কিভাবে করে?

তাহলে চলুন আজ জেনে নেওয়া নিই কিভাবে এই নাম গুলো নির্ধারণ করা হয়, কেন করা হয়? কেন ঝড়ের নামকরণ করা হয়ঃ প্রতিটি বস্তুর ই সাধারণ নাম থাকা সত্বেও একটি নির্দিষ্ট নাম থাকতে হয়। আর এই কারনেই ঝড়ের ও নামকরণ করা হয়। অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের উপর ভিত্তি করে এক সময় ঝড়ের নামকরণ করা হত। তবে সেই নামগুলো অনেক বড় এবং কঠিন হত। যা মনে রাখা এবং প্রচার করা খুবই কঠিন হত। তাই বর্তমানে এই সকল ঝড়ের নাম সংক্ষিপ্ত এবং সহজ করে রাখা হয়। যেন সহজে প্রচার করা, উচ্চারণ করা এবং মনে রাখা যায়। উধাহরণ স্বরুপ, যদি বলা হয় ৫ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ ও ৭৮ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশের ঝড়টি প্রবল শক্তি সৃষ্টি করে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। এত বড় নাম মনে রাখা বা দ্রুত প্রচার করা খুবই কঠিন একটা ব্যাপার। তার থেকে যদি বলা যাই ঘূর্ণিঝড় আইলা দ্রুত বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। তাহলে সহজে এই নাম টা মনেও রাখা যাবে আবার প্রচার করাও অনেক সহজ হবে।

কিভাবে এই নাম নির্বাচন করা হয়:

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ( World Meteorological Organazation) বিভিন্ন অঞ্চলের উপর ভিত্তি করে আঞ্চলিক কমিটি গঠন করে। এই আঞ্চলিক কমিটিকে সেই অঞ্চলের সদস্য দেশ গুলো ঝড়ের বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করে। এই নামের তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ওই অঞ্চলের ঝড় গুলোর নাম করণ করা হয়। উত্তর-ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ঝড়ের নাম এই অঞ্চলের সদস্য রাষ্ট্র– বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রী-লংকা,থাইল্যান্ড ও ওমান নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক কমিটি নির্ধারণ করে।

একটি নির্দিষ্ট সময়ের সম্ভাব্য ঝড় গুলোর জন্য সদস্য দেশ গুলো পূর্বেই বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করে রাখে। যখন ঝড় সৃষ্টি হয় তখন ওই তালিকা থেকে নাম গুলো ব্যবহার করা হয়। আর এই নাম গুলো কখনই দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা হয় না।
এখানে কিছু ঝড়ের নাম এবং প্রস্তাবিত দেশের নাম দেওয়া হল-নিশা (বাংলাদেশ), সিডর ( ওমান), নার্গিস (পাকিস্তান), বিজলী ( ভারত), আইলা (মালদ্বীপ), রেশমি (শ্রী-লংকা), খাই-মুক ( থাইল্যান্ড) এছাড়াও রয়েছে ঘুর্ণিঝড় কোমেন, রোয়ানু, দিয়ানমু এবং মোরা।

Advertisements
Loading...