free web tracker
শেয়ার করুন:

ঢাকা টাইমস ডেস্ক ॥ প্রতি সপ্তাহের মতো আজও আমরা বিশ্বের বিভিন্ন মজার মজার খবর আপনাদের সামনে তুলে ধরবো- আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

অবিরাম ডাকের পাখি

সেঁকড়া বসন্তকে অনেকেই অবিরাম ডাকের পাখি বলে। কারণ এরা প্রায় সবসময় ডাকাডাকি করে। অবিরাম ডাকের পাখি হলেও শীতে এরা ডাকে খুবই কম। তাই চোখেও পড়ে কম। বসন্তের শুরু থেকেই এরা টুক টুক টুক শব্দ করে এমনভাবে ডাকে যেন কামার লোহার উপর হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছে। প্রায় সারা দিনভর এরা ডেকে চলে। আর দুপুরের নির্জনতা ভাঙতে এদের জুড়ি নেই। ঘন ঘন ডাকের কারণে এদের কাঁসারিও (Copper smith) বলা হয়।
সেঁকড়া বসন্ত উষ্ণমণ্ডলীয় পাখি। তবে অস্ট্রেলিয়ায় এদের দেখা যায় না। বাংলাদেশে মোট ৫ প্রজাতির বসন্ত দেখা মেলে। এদের মধ্যে সেঁকড়া বসন্ত দেশের সব জায়গায় আছে বলেই ধরা হয়।

ছোট পাখি বলেই তাদের ঝুট ঝামেলা কম, শত্রুও কম। সেঁকড়া বসন্ত খুবই উজ্জ্বল রঙয়ের একটি পাখি। এদের কপালের লাল দাগটা দেখলে মনে হবে কেও যেন সিঁদুর পরিয়ে দিয়েছে। বুকটাও লাল। বুক থেকে নিচের দিকটা সোনালি হলুদ, চঞ্চু কালো, লেজের শেষ প্রান্ত সবুজাভ নীল। এরা গাছের পাতার মধ্যে আহার ও প্রেমপর্ব সারে। মাটিতে নামে না। বট-পাকুরের ফল এদের প্রধান খাদ্য। তবে উঁইপোকা ধরে খাবার স্বভাবটাও চোখে পড়ে মাঝে মধ্যেই।

১৮ জলপ্রপাতের ধারা

বিখ্যাত জলপ্রপাত ‘হুয়াং কুও শু’ দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের কুইচৌতে অবস্থিত। চীনের স্থানীয় এক ধরনের বৃক্ষ ‘হুয়াং কুও শু’ নামানুসারে এই জলপ্রপাতটির নামকরণ করা হয়েছে। অন্য জলপ্রপাতের দৃশ্যের চেয়ে পর্যটকরা উপরে, নিচে, বামে, ডানে, সামনে ও পেছনে এই ছয়টি দিক থেকেই হুয়াং কুও শু জলপ্রপাতের সবসময়কার পরিবর্তিত দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। ঠিক এই অদ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যের কারণেই বিশ্বের বিখ্যাত জলপ্রপাতগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে সুন্দর ও সমারোহময় জলপ্রপাত বলে পরিচিত। হুয়াং কুও শু জলপ্রপাতকে কেন্দ্র হিসেবে এখানে বিভিন্ন আকারের আরও ১৮টি জলপ্রপাত রয়েছে। ফলে এ স্থানটি একটি বিরাট জলপ্রপাতের ‘পরিবারে’ পরিণত হয়েছে। এর সমন্বিত নাম হল ‘৯ পর্যায়ের ১৮ জলপ্রপাত’, সুন্দর এ দৃশ্য গ্রিট ওয়ার্ল্ড গিনিস সদর দপ্তর বিশ্বের বৃহত্তম জলপ্রপাত গ্রুপ বাছাই করার পাশাপাশি বিশ্ব গিনিস রিকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। হুয়াং কুও শু জলপ্রপাতটি খুবই দৃষ্টিনন্দন। এটি ১০১ মিটার চওড়া এবং ৭৭.৮ মিটার উঁচু। সারা বছরের চার ঋতুতেই এতে স্রোতের ধারা অব্যাহত থাকে। হুয়াং কুও শু দর্শনীয় স্থানে সারি সারি নীল পাহাড় ও বিস্ময়কর সব পাথর দাঁড়িয়ে রয়েছে। নদীর স্বচ্ছ পানি মাঝেমাঝে পাহাড়গুলো দিয়ে বয়ে যায়। মাঝেমাঝে ভূমির নিচের প্রান্ত ছুঁয়ে যায়। ফলে এক একটি ভূগর্ভস্থ নদীর সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৫ সালে হুয়াং কুও শু দর্শনীয় স্থান ‘চীনের জাতীয় ভূগোল’ ম্যাগাজিনের ‘চীনের শ্রেষ্ঠ জায়গা’র তালিকায়, পিপলস ডেইলি পত্রিকার ‘চীনের দর্শনীয় স্থানের পর্যটকদের ১০টি পছন্দের’ তালিকায় এবং ‘ইউরোপীয় পর্যটকদের জন্য চীনের ১০টি সবচেয়ে ভালো লাগা দৃশ্যাবলী’র তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০০৭ সালের মার্চ মাসে চীনের জাতীয় পর্যটন ব্যুরো হুয়াং কুও শু দর্শনীয় স্থানকে চীনের প্রথম দফা শীর্ষ পর্যায়ের দর্শনীয় পর্যটন স্থান নির্বাচন করেছে। বর্তমানে হুয়াং কুও শু দর্শনীয় স্থান তার বৈশিষ্ট্যময় সুন্দর দৃশ্যের মধ্য দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন এলাকার পর্যটককে আকর্ষণ করছে।

আজব পাখি জলপিপি ॥ ডিমে তা দেয় পুরুষ পাখি!

জলপিপি খুবই বুদ্ধিমান পাখি। এরা প্রজননের সময় এমনভাবে বাসা বানায় যেন তাদের আশেপাশে থাকা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী সহজে বুঝতে না পারে। তারা যে ডিম পাড়ে তাও ব্রোঞ্জ ও বাদামি ফোঁটা মেশানো থাকে যাতে কোন শত্রু বুঝতেই না পারে এগুলো ডিম।
পাখি জগতে সাধারণত ডিমে তা দেয়া ও বাচ্চাদের দেখাশুনার দায়িত্ব স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলেই করে।

কিন্তু এদের জীবনচক্রে একটু ভিন্নতা দেখা যায়। স্ত্রী পাখিটা একই মৌসুমে চার পাঁচবার পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। মেয়ে জলপিপি প্রজনন মৌসুমে চার-পাঁচটি পুরুষ পাখির সাথে জোড় বাঁধে। এক জায়গায় ডিম দিয়ে অন্য আরেক পুরুষের কাছে চলে যায়। পুরুষ পাখিটির কাজই হল ডিমে তা দেয়া।

এখন প্রশ্ন হল, মেয়ে পাখিটি ডিমে তা দেয় না কেন? এর উত্তর হল, মেয়ে পাখিটি একজায়গায় একই সাথে সব ডিম পেড়ে একসাথে সব ডিম নষ্ট করতে চায় না। শত্রুর ভয়ে সে একই মৌসুমে বিভিন্ন জায়গায় ডিম দেয়। আর এ কারণেই সে বেশ ক’টি পুরুষের সাথে জোড় বাঁধে।

বাংলাদেশে জাকানিডি পরিবারের ২ প্রজাতির পাখি দেখা যায়। জলপিপি ও নেউপিপি। এর মধ্যে জলপিপির উপস্থিতি সচরাচর চোখে পড়ে। এদের মাথা, গলা, বুক চকচকে কালো। তবে চোখের পাশ থেকে চওড়া একটা সাদা দাগ আছে যা তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।


সতর্কবার্তা:

বিনা অনুমতিতে দি ঢাকা টাইমস্‌ - এর কন্টেন্ট ব্যবহার আইনগত অপরাধ, যে কোন ধরনের কপি-পেস্ট কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, এবং কপিরাইট আইনে বিচার যোগ্য!

August 7, 2012 তারিখে প্রকাশিত


613 জন মন্তব্য করেছেন

মন্তব্য লিখতে লগইন করুন

আপনি হয়তো নিচের লেখাগুলোও পছন্দ করবেন

আমাজনের অধিবাসীরা বিষাক্ত পিঁপড়া দিয়ে দুই কিশোরকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল!
বাংলাদেশের খুলনা থেকে সিলেট ভূখণ্ড ভারতের বলে অদ্ভুত দাবি বিজেপি নেতার!
আলোকচিত্রী লুকাসের সাথে তোলা মানুষের বন্ধু প্রাণী মিরাক্যাটের সুন্দর কিছু ছবি
নিলামে তোলা হচ্ছে ভেনিসের ভয়ংকর ভৌতিক দ্বীপ পোভেগ্লিয়া
নেদারল্যান্ডের পানিতে নিমজ্জিত পথচারী ব্রীজ যেন ঐতিহাসিক অনুভূতি
ইরাকের কুখ্যাত আবু গারাইব কারাগার বন্ধ করা হয়েছে!
প্রায় ৫শ’ যাত্রী নিয়ে দক্ষিণ কোরীয় ফেরি ডুবি
ব্রাজিলে ছাড়া হয়েছে জেনেটিক্যালি মোডিফাইড এক ধরনের মশা যা অ্যাডিস মশা নিধন করবে
ইউক্রেনে অস্থিরতা: আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাসের বাজারে প্রভাব পড়ছে
জন্মের পরপর ওপেন হার্ট সার্জারি করা বিশ্বের প্রথম জীবিত শিশু
পাকিস্তানী বর্বরতার নব্য চিত্রঃ নয় মাসের শিশুকে হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্তকরণ
ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট নির্বাচনে নমিনেশান পেলেন ফিনল্যান্ড প্রবাসী ফারুক আবু তাহের
E
Close You have to login

Login With Facebook
Facility of Account